উদ্যোগপতি, তারকাপত্নী তিনি হতেই পারেন, তবে বাড়িতে তিনি একজন মা। শাহিদ কপূরের স্ত্রী মীরা কপূরকেও সন্তানদের সামলাতে হয়, নজর রাখতে হয় তাদের খাওয়াদাওয়ায়। মীরা নিজে ফিটনেস সচেতন। সন্তানের খাওয়ার বিষয়েও কি কঠোর তিনি?
বেশির ভাগ বাড়িতেই যেখানে ছোটদের খাওয়া নিয়ে একপ্রস্ত যুদ্ধ চলে, সেখানে মীরার বাড়ির ছবিটি কি ভিন্ন? কী ভাবে সন্তানদের বায়না সামলান তিনি?
সন্তানদের খাওয়ানো, তাঁর পুষ্টি-দর্শন নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে নিজের ভাবনা প্রকাশ করলেন মীরা কপূর। শাহিদ-পত্নীর কথায়, পুষ্টি মানেই কড়া ডায়েট বা কঠোর নিয়ম, বিশ্বাস করেন না তিনি। ১০ বছরের মিশা এবং ৮ বছরের জৈনকে সামলাতে তাই অন্য নিয়ম তাঁর। শাহিদ কপূরের স্ত্রী বিশ্বাসী স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলায়।
বার্গার থেকে চিপ্স, পাস্তা, চকোলেট, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই— লোভনীয় এই খাবার শুধু ছোট নয়, বড়দেরও প্রিয়। যে প্রলোভন অনেক সময়ে বড়রাই এড়াতে পারেন না, ছোটদের পক্ষে তা সামলানো আরও কঠিন। মীরার সন্তানেরা যে বায়না করে না, তা নয়। চকোলেট, চিপ্সের বায়নায় কড়া ভাবে ‘না’ বলেন না তিনি। খেতে দেন তবে, সবসময় নয়। তাঁর কথায়, ছোটদের কোনও কিছু বারণ করলে, তারা সেটাই পেতে চাইবে। তাই সবসময় ‘না’ বলা ঠিক নয়।
আরও পড়ুন:
পুষ্টির চাহিদাপূরণে বিশেষ ধরনের খাবার নিয়ম করে খাওয়াতেই হবে, সে ধারণায় বিশ্বাসী নন মীরা। বরং সন্তানদের পছন্দকেও মানেন তিনি। তবে গুরুত্ব দেন স্বাস্থ্যকর খাওয়ার অভ্যাসকে। বাড়িতেই এমন পরিবেশ তৈরি করেছেন, যেখানে নানা রকম খাবার পাওয়া যায়, তবে তা স্বাস্থ্যকর।
মনোবিদেরা বলেন, সন্তানেরা বড়দের দেখেই শেখে। বাড়িতে যদি স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরিবেশ থাকে, ছোটরা ধীরে ধীরে তাতেই অভ্যস্ত হয়ে পড়বে। তা ছাড়া, শিশুদের খাওয়াতে হলে জোর না করে, বরং ঘরোয়া খাবারই কিছুটা তাদের স্বাদমতো বানিয়ে দেওয়া দরকার।
এই দুই পন্থাতেই বিশ্বাসী মীরাও। কোনও নির্দিষ্ট খাবারের বদলে পুষ্টির সমন্বয়ে বিশ্বাসী তিনি। ছোটদের নাগালে রাখেন স্বাস্থ্যকর নানা খাবার। শুধু তা-ই নয়, কোন খাবার খেলে স্বাস্থ্য ভাল থাকে, কোন খাবার খেলে ক্লান্তি বাসা বাঁধে, মীরা সেই গল্পও করেন সন্তানদের কাছে।
কোনও বাহারি খাবার নয়, বরং ঘরোয়া খাবারই সুস্থ থাকার চাবিকাঠি মনে করেন শাহিদ-জায়া। ছোটবেলায় মীরার পছন্দের খাবার ছিল খিচুড়ি। পুষ্টিগুণে ভরপুর, সহজপাচ্য একটি খাবার। ঠিক তেমন ভাবেই সন্তানদেরও বাড়িতে তৈরি বিভিন্ন ঘরোয়া খাবারই দেন তিনি। সন্তানদের মন রাখতে বিভিন্ন রকম খাবার স্বাস্থ্যকর উপায়ে বানিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। আর তাতেই মিলেছে ফল। খাওয়া নিয়ে সন্তানদের সঙ্গে যুদ্ধ চলে না মীরার পরিবারে। বরং তারকাপত্নীর লক্ষ্যই হল, তাঁর ছেলে-মেয়েদের যেন খাবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি হয়।