খামখেয়ালি আবহাওয়ায় ভাইরাস-ব্যাক্টেরিয়ার দাপট বাড়ছে। এক দিকে যেমন ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার উৎপাত বেড়েছে, তেমনই অন্য দিকে নানা প্রকার ফ্লুয়ের প্রকোপও বেড়েছে। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের নানা প্রজাতির সংক্রমণ এখন বেশি। সোয়াইন ফ্লুয়ে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি, কাশির প্রকোপ বেড়েছে। সঙ্গে আরও নানা উপসর্গও দেখা দিচ্ছে। অনেকেই এমন সমস্যাগুলিকে বিশেষ গুরুত্ব না দিয়ে উপেক্ষা করেন বা অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে ফেলেন, যা একেবারেই উচিত নয়। তাই ‘ফ্লু’-এর প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ করাটাই উত্তম পন্থা। আর সে জন্য টিকা নিয়ে রাখাই ভাল।
কোন কোন টিকা কারা নিতে পারেন?
ইন্যাক্টিভেটেড ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন (আইআইভি)
দেশে চার ধরনের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের প্রতিরূপকে প্রতিহত করতে কোয়াড্রিভ্যালেন্ট ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। যাঁদের সর্দি-কাশি বা ঠান্ডা লাগার ধাত রয়েছে, হাঁপানি বা সিওপিডি আছে, অথবা ক্রনিক রোগে ভোগেন, তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে টিকাটি নিতে পারেন।
লাইভ অ্যাটেনুয়েটেড ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন
নাকে স্প্রে হিসেবে দেওয়া হয়। ফুসফুসের যে কোনও সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারে। এই টিকা তৈরি হয় দুর্বল বা নিষ্ক্রিয় করা ভাইরাস দিয়ে। তাই সকলের জন্য টিকাটি নিরাপদ নয়। বিশেষ করে শিশু ও অন্তঃসত্ত্বারা এই টিকা নেবেন না। এইচআইভি বা ক্যানসারের ওষুধ খাচ্ছেন, এমন রোগীদের জন্য টিকাটি উপযুক্ত নয়। এই টিকা চিকিৎসকের পরামর্শ মতোই নিতে হবে।
আরও পড়ুন:
রিকম্বিন্যান্ট ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন
১৮ বছর তার বেশি বয়সিরা এই টিকা নিতে পারেন। ডিএনএ প্রযুক্তিতে তৈরি হয়েছে এই টিকা। এটি ইঞ্জেকশনের মাধ্যমেই দেওয়া হয়। অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে বা ফুসফুসের রোগ রয়েছে, এমন ব্যক্তিরা এই টিকা নিয়ে রাখলে ভাল। বিশেষ করে, বয়স্কদের এই টিকা নিয়ে রাখার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।
নিউমোনিয়ার টিকা
নিউমোনিয়ার দু’রকম টিকা আছে— নিউমোকক্কাল কনজুগেট ভ্যাকসিন (পিসিভি) এবং নিউমোকক্কাল পলিস্যাকারাইড ভ্যাকসিন (পিপিএসভি)। পিসিভি টিকা শিশু ও বয়স্কদের জন্য। আর পিপিএসভি টিকা তাঁদেরই দেওয়া হয়, যাঁদের বয়স ৬০ পেরিয়েছে এবং ফুসফুস দুর্বল বা সিওপিডি, হাঁপানির মতো রোগ বা অন্য কোনও জটিল অসুখ রয়েছে।