Advertisement
E-Paper

চোখ-চামড়া হলুদ হয় যখন-তখন, লক্ষণ প্রায় এক অথচ জন্ডিস নয়! কেন রোগটি নিয়ে চিন্তা বাড়ছে?

জন্ডিস যেন সেরেও সারছে না। চোখ, ত্বকের রং হলদেটে। মাঝেমধ্যেই চুপিসারে বেড়ে যাচ্ছে বিলিরুবিন। রোগটি কিন্তু ঠিক জন্ডিস নয়। তা হলে কী?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ০৯:০৬
What is Gilbert’s Syndrome, what are the Risk Factors and Management Guide

জন্ডিসের মতোই লক্ষণ, অথচ জন্ডিস নয়। কী এই রোগ? ফাইল চিত্র।

জন্ডিস সেরে গিয়েছে। তার পরেও বিলিরুবিন কমার নাম নিচ্ছে না। রক্তে মাঝেমধ্যেই তার রক্তচক্ষু দিব্যি টের পাওয়া যাচ্ছে। জন্ডিস না হলেও শরীরের জন্ডিসের মতো লক্ষণ স্পষ্ট। এই রোগটি লিভারের মারাত্মক কোনও অসুখ নয়। প্রাণঘাতীও নয়। অথচ উদ্বেগের। বংশগত ভাবেও তা হানা দিতে পারে।

গিলবার্ট সিনড্রোমের নাম তেমন ভাবে জানা নেই। রোগটি নিয়ে তেমন সচেতনতাও নেই। অথচ রোগটি আছে। জন্ডিসের মতোই তার লক্ষণ অনেকটা, অথচ ঠিক জন্ডিস নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আক্রান্তদের শরীরে কোনও গুরুতর সমস্যা তৈরি হয় না এবং বিশেষ চিকিৎসারও প্রয়োজন পড়ে না। তবে ক্লান্তি বাড়লে, মানসিক চাপ বেড়ে গেলে ত্বক ও চোখের সাদা অংশ সাময়িক ভাবে হলুদ হয়ে ওঠে।

কী এই গিলবার্ট সিনড্রোম?

রক্তে যে লোহিত রক্তকণিকা থাকে, তার জীবনকাল মেরেকেটে চার মাস। লোহিতকণিকা ভেঙে গেলে তা থেকে হিমোগ্লোবিন থেকে বিলিরুবিন নামক এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ নিঃসৃত হয়। রক্তের মাধ্যমে বিলিরুবিন প্রথমে পৌঁছোয় লিভারে। এর পর লিভার থেকে পিত্তথলি হয়ে খাদ্যনালিতে। শেষে বর্জ্য হিসেবে এর কিছুটা অংশ শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। যদি এই পর্বটি বাধাপ্রাপ্ত হয়, অর্থাৎ, বিলিরুবিন ঠিকমতো বেরোতে না পারে, তখন এর মাত্রা বাড়তে থাকে ও জন্ডিস হয়। কিন্তু গিলবার্ট সিনড্রোমে তেমনটা হয় না। বিলিরুবিন তৈরি হলেও তা শরীর থেকে সে ভাবে বেরিয়ে যেতে পারে না। জমতে থাকে রক্তে। সেটি লিভারের সমস্যার কারণে যে হয়, তা নয়। এর নেপথ্যে থাকে এক বিশেষ জিন।

গিলবার্ট সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরে ‘ইউজিটি১এ১’ নামক জিনের রূপান্তর বা মিউটেশন ঘটে। এই মিউটেশনের ফলে বিলিরুবিন ঠিকমতো প্রক্রিয়াজাত হতে পারে না এবং রক্তে সাময়িক ভাবে জমতে থাকে। এই প্রক্রিয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘হাইপারবিলিরুবিনেমিয়া’। তবে সব হাইপারবিলিরুবিনেমিয়া রোগীদেরই যে গিলবার্ট সিনড্রোম হবে, তা নয়। ওই নির্দিষ্ট জিনের বদল হলে তবেই গিলবার্ট সিনড্রোম হবে। তবে গিলবার্ট সিনড্রোমে আক্রান্তেরা সাধাণত ‘হাইপারবিলিরুবিনেমিয়া’ রোগটিরও শিকার হয়ে থাকেন।

কী কী লক্ষণ গিলবার্ট সিনড্রোমের?

চোখ ও ত্বকের রং সামান্য হলুদ হয়ে যাওয়া, ক্লান্তি বাড়লে বা উদ্বেগ বাড়লে এটি বেশি করে বোঝা যায়।

কোনও কারণ ছাড়াই অতিরিক্ত ক্লান্তি, ঝিমুনি, এমনকি অবসাদের লক্ষণও দেখা দিতে পারে।

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর বা বেশি তেলমশলা দেওয়া খাবার খেলে বমি ভাব হতে পারে।

দিনভর মাথাযন্ত্রণা হতে পারে, মনঃসংযোগও কমে যেতে পারে।

গিলবার্ট রোগ থাকলে কী কী নিয়ম মানতে হবে?

দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে বিলিরুবিন বেড়ে যেতে পারে রক্তে।

অত্যধিক পরিশ্রম করলে, বিশ্রাম না নিলেও এটি হতে পারে।

মানসিক চাপ কমাতে হবে, দুশ্চিন্তা বেশি করলে তখন রক্তে বিলিরুবিনের ভারসাম্য বিগড়ে যাবে।

সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া থেকে সাবধান থাকতে হবে।

শরীরে যেন জলের ঘাটতি না হয়, তা খেয়াল রাখতে হবে। পর্যাপ্ত জল ও তরল খাবার খেতে হবে।

মদ্যপানের মাত্রা কমাতে হবে, ধূমপান বেশি করলেও বিপদ।

Jaundice liver health

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy