গুরুত্বপূর্ণ কোনও কাজে রয়েছেন, আচমকাই পেটে বিকট গুড়গুড় ডাক। লোকজনের সামনে অস্বস্তিতে পড়লেন। এমনটা তো প্রায়ই হয়। অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকলে বা উপোস করলে পেটে অদ্ভুত সব আওয়াজ হতে থাকে। অনেকেই ভাবেন এমন শব্দ নিছক খিদে পাওয়ার লক্ষণ। তা কিন্তু না-ও হতে পারে।
পেটে বিচিত্র সব শব্দের কারণ পরিপাকনালি। সেই নালিপথেই খাবার মুখগহ্বর থেকে পাকস্থলী হয়ে ক্ষুদ্রান্ত্র ও শেষে বৃহদন্ত্র পর্যন্ত যায়। আওয়াজের উৎস সেই নালিপথই। পরিপাকনালি নরম ও স্থিতিস্থাপক হয়। খাবার হজম করার জন্য এই নালির পেশিগুলি ক্রমাগত সঙ্কুচিত ও প্রসারিত হতে থাকে। এই প্রক্রিয়াকে বলে ‘পেরিস্টলসিস’। পাকস্থলী ও অন্ত্রের মধ্যে সবসময়ই কিছু না কিছু তরল (জল বা পাচক রস)এবং বাতাস থাকে। পেরিস্টলসিস প্রক্রিয়ায় যখন এই তরল ও বাতাস নালি পথে প্রবাহিত হয়, তখন পেট থেকে শব্দ বার হতে থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ‘বরবোরিগমি’।
আরও পড়ুন:
খাবার খাওয়ার পরে পাকস্থলী ভর্তি থাকে, ফলে এই শব্দ হয় না। কিন্তু খাবার খাওয়ার ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা পর যখন পাকস্থলী ধীরে ধীরে খালি হতে থাকে, তখন তরল ও বাতাসের প্রবাহ বেড়ে যায়। দীর্ঘসময় না খেয়ে থাকলে তখন এই সমস্যা দেখা দেয়।
আরও একটি কারণে শব্দ হতে পারে। আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্থ থেকে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, পেট খালি থাকলে ঘ্রেলিন নামে একপ্রকার হরমোন নিঃসৃত হয় যা পরিপাকতন্ত্রকে বার্তা দেয় যে খাবারের প্রয়োজন। তখন মস্তিষ্ক ও অন্ত্রের স্নায়ু মিলে খালি পাকস্থলীতে জমা থাকা অতিরিক্ত বাতাস, তরল বা অবশিষ্ট খাদ্যাংশ পরিষ্কার করতে শুরু করে। ফলে অন্ত্রের পেশি খুব দ্রুত সঙ্কুচিত ও প্রসারিত হতে থাকে, যে কারণে তরল বা বাতাস ধাক্কা খেয়ে জোরালো শব্দ হতে থাকে।
কখন তা চিন্তার?
মাঝেমধ্যে পেটে গুড়গুড় শব্দ হওয়া স্বাভাবিক। তবে দিনে অধিকাংশ সময়ে তা হতে থাকলে এবং দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী হলে তখন তা চিন্তার কারণ হতে পারে। চিকিৎসকেরা বলছেন, পেটে আওয়াজ হওয়ার পাশাপাশি পেটে মোচড় দিয়ে ব্যথা, বমি ভাব, খিদে কমে যাওয়া, পেট ফাঁপা বা ভার হয়ে থাকার সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। ঘন ঘন মলত্যাগের বেগ এলে বা কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়ারিয়ার সমস্যা ঘন ঘন হতে থাকলে, সেটি অন্ত্রের সমস্যার কারণেই হতে পারে। সঙ্গে যদি রক্তাল্পতা, মলের সঙ্গে রক্ত বার হওয়ার লক্ষণও থাকে, তা হলে দেরি না করে চিকিৎসের কাছে যেতে হবে। ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) অথবা লিভার বা অগ্ন্যাশয়ের জটিল রোগ হলে তা থেকেও এমন সব লক্ষণ দেখা দিতে পারে।