পরামর্শ দিয়ে পরোপকার করলে পুণ্য অর্জন করা যায়। কিন্তু পুণ্য অর্জন করতে গিয়ে অনেকে নিজেদের বিপদ ডেকে আনেন। হিন্দুশাস্ত্রে এমন কিছু ব্যক্তির উল্লেখ রয়েছে, যাঁদের সাহায্য করতে গেলে বা পরামর্শ দিতে গেলে নিজেকেই বিপদে পড়তে হয়। তাঁদের উপকার করতে গিয়ে নিজের শান্তি হয়। এমনকি বহু ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কও নষ্ট হয়ে যায়। প্রধানত তিন ধরনের ব্যক্তিদের উপদেশ বা পরামর্শ দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। সেই ব্যক্তিদের আচরণ নিয়ে নীচে বিস্তারে আলোচনা করা হল—
কুটিল স্বভাবের ব্যক্তি
যাঁর স্বভাব কুটিল, অসৎ এবং যিনি সর্বদা অন্যের ক্ষতি করার চেষ্টা করেন তাঁদের পরামর্শ দেওয়া উচিত নয়। কোনও অসৎ, কলহপ্রিয় বা কুটিল স্বভাবের ব্যক্তির ভাল করার উদ্দেশ্যে কোনও পরামর্শ দিতে গেলে বা তাঁদের দায়িত্ব নিলে নিজের জীবনে অশান্তি নেমে আসে। তাঁরা ভাল উপদেশ গ্রহণ করার পরিবর্তে আপনাকে কোনও ষড়যন্ত্র বা আইনি অথবা সামাজিক সমস্যায় জড়িয়ে ফেলতে পারেন।
আরও পড়ুন:
সবজান্তা ব্যক্তি
সবজান্তা ব্যক্তিরা মনে করেন তাঁরা সকলের চেয়ে বেশি বোঝেন। আপনি যুক্তিপূর্ণ পরামর্শ দিলেও তাঁদের অহঙ্কারবোধ তা সহজে মেনে নিতে পারে না। কোনও বিষয়ে তাঁদের সংশোধন করতে গেলে তাঁরা মনে করেন যে, আপনি ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন অথবা তাঁদের অপমান করছেন। একটি ভাল পরামর্শও শেষ পর্যন্ত তর্ক বা ব্যক্তিগত শত্রুতার রূপ নিতে পারে।
নেতিবাচক ব্যক্তি
যাঁরা কোনও কারণ ছাড়াই সর্বদা দুঃখ প্রকাশ করেন, ভাগ্যের দোহাই দিয়ে কান্নাকাটি করেন এবং শত সুযোগ বা সমাধান পাওয়ার পরেও নিজেদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে চান না— এমন ব্যক্তিদের পরামর্শ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। এই ধরনের নেতিবাচক মানসিকতার ব্যক্তিদের বার বার পরামর্শ দিতে গেলে তাঁদের হতাশা এবং নেতিবাচক শক্তি আপনার উপরেও প্রভাব ফেলতে বাধ্য, যা আপনাকে মানসিক ভাবে দুর্বল করে তুলতে পারে।