সনাতন ধর্মে রথযাত্রার তিথি অত্যন্ত পবিত্র ও শুভ বলে মনে করা হয়। এই বিশেষ দিনে বাড়িতে গাছ লাগানো অত্যন্ত কল্যাণকর। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পুণ্য তিথিতে গাছ লাগিয়ে প্রকৃতির সেবা করলে জগন্নাথের আশীর্বাদ লাভ করা যায়। রথের দিনে বাড়িতে গাছ লাগানো সম্ভব না হলেও রথযাত্রার প্রথম দিন থেকে উল্টোরথ পর্যন্ত যে কোনও দিন গাছ লাগালেই শুভ ফল পাওয়া যায়।
এই তিথিতে গাছ লাগালে তা বাড়ির চারপাশের নেতিবাচক শক্তি দূর করে এবং সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি বয়ে আনে। অনেকেই রথের মেলা থেকে গাছের চারা কিনে এনে বাড়িতে রোপণ করেন। তবে সব ধরনের গাছে এই ফল মেলে না। বাস্তুমতে এমন চারটি গাছ রয়েছে যেগুলি বাড়িতে লাগালে সংসারে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। নীচে সেই গাছগুলি নিয়ে বিস্তারে আলোচনা করা হল—
আরও পড়ুন:
তুলসীগাছ
তুলসীকে সনাতন ধর্মে বিষ্ণুপ্রিয়া বলা হয়। শ্রীজগন্নাথ হলেন স্বয়ং বিষ্ণুর অবতার। রথযাত্রার দিন জগন্নাথ দেবের পুজোয় তুলসীপাতা আবশ্যিক। এই শুভ দিনে বাড়িতে নতুন তুলসীগাছ রোপণ করলে ভগবান বিষ্ণুর পাশাপাশি দেবী লক্ষ্মীর বিশেষ কৃপা লাভ হয়। এটি বাড়ির সব নেতিবাচক শক্তি বা বাস্তুদোষ দূর করে সংসারে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখে।
বেল গাছ
শাস্ত্রমতে, বেলগাছে মা লক্ষ্মীর বাস এবং এর পাতা শিব ও বিষ্ণুর অত্যন্ত প্রিয়। রথযাত্রার দিন বেলগাছ লাগালে তা আর্থিক উন্নতির প্রতীক হিসাবে কাজ করে। তা ছাড়া এই গাছ বাড়িতে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বাড়ায়।
অপরাজিতা গাছ
নীল অপরাজিতা ফুল ভগবান বিষ্ণুর অত্যন্ত প্রিয়। রথযাত্রার মতো পবিত্র তিথিতে বাড়ির সদর দরজার কাছে বা বারান্দায় অপরাজিতা লতা লাগালে তা গৃহের শ্রীবৃদ্ধি ঘটায়। এটি কর্মক্ষেত্রে এবং ব্যক্তিজীবনে সাফল্য নিয়ে আসে। তা ছাড়া, এর ফলে পরিবারের সদস্যদের মানসিক চাপ দূর হয়।
নিমগাছ
রথযাত্রার দিনে বাড়িতে নিমগাছ লাগানোকে সরাসরি জগন্নাথ দেবের সেবার প্রতীক মনে করা হয়। বাস্তুমতে, এই গাছ বাড়ির উত্তর বা পূর্ব দিকে লাগানো সবচেয়ে ভাল। গাছটি একটু বড় হলে তা বাড়ির সীমানার ভিতর সুবিধাজনক এবং ফাঁকা জায়গায় লাগানো উচিত। নিমগাছ রোপণ করা হলে বাড়িতে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বাড়ে।