বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, রান্নাঘর হল মা অন্নপূর্ণা এবং অগ্নিদেবের স্থান, যা পরিবারের স্বাস্থ্য এবং সমৃদ্ধি নির্ধারণ করে। রান্নাঘরের বেসিনের নীচের অংশটি সাধারণত জল নিষ্কাশনের জায়গা এবং অন্ধকার হওয়ায় সেখানে এক ধরনের নেতিবাচক শক্তির প্রভাব থাকতে পারে। তাই বাস্তুমতে বেসিনের নীচে নির্দিষ্ট কিছু জিনিস রাখা অত্যন্ত অশুভ বলে মনে করা হয়। নীচে সেই জিনিসগুলি নিয়ে বিস্তারে আলোচনা করা হল—
ময়লা ফেলার পাত্র
আমরা অনেকেই জায়গার অভাবে বেসিনের নীচের ক্যাবিনেটে ময়লা ফেলার পাত্র রাখি। কিন্তু বাস্তুমতে, বেসিনের নীচে ময়লা বা আবর্জনা রাখলে তা ঘরে তীব্র নেতিবাচক শক্তির প্রবাহ তৈরি করে। এর ফলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মানসিক চাপ বাড়ে এবং অকারণ কলহ সৃষ্টি হতে পারে।
ঝাড়ু
ঝাড়ুকে দেবী লক্ষ্মীর প্রতীক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। ঝাড়ু বা ঘর মোছার জিনিসপত্র বেসিনের নীচে রাখলে লক্ষ্মী দেবীকে অপমান করা হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। এর ফলে ঘর থেকে ইতিবাচক শক্তি চলে যায় এবং আর্থিক অনটন দেখা দিতে পারে।
আরও পড়ুন:
ওষুধপত্র
রান্নাঘরের বেসিনের নীচে বা তার আশপাশে কখনওই ওষুধ রাখা উচিত নয়। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, জলের উৎসের নীচে ওষুধ রাখলে তার কার্যকারিতা কমে যায়। এমনকি, পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার খরচ ক্রমাগত বাড়তেই থাকে।
ভাঙা বাসন
বেসিনের তলায় কোনও ভাঙা কাচের জিনিস, ফাটল ধরা কাপ বা চিনেমাটির বাতিল বাসনপত্র জমিয়ে রাখবেন না। ভাঙা জিনিস রাহুর নেতিবাচক প্রভাব বাড়ায়, যা মানসিক অশান্তি এবং ভাগ্যের অবনতির কারণ হতে পারে।
আরও পড়ুন:
ধারালো জিনিস
লোহা বা স্টিলের ধারালো অস্ত্র যেমন বঁটি, ছুরি বা কাঁচি বেসিনের নীচে রাখলে তা বাস্তুদোষ তৈরি করে। এমনকি, এই জিনিসগুলি বেসিনের তলায় থাকলে তা পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে তিক্ততা তৈরি করে। তা ছাড়া, আকস্মিক দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
রান্নাঘরের বেসিনের তলা সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং শুকনো রাখা উচিত। সেখানে কোনও পাইপ লিক করে জল পড়তে থাকলে তা দ্রুত মেরামত করুন। কারণ বাস্তুমতে, জল অপচয় হওয়ার অর্থ আর্থিক ক্ষতি হওয়া। যদি কিছু রাখতেই হয়, তবে সাবান বা ডিটারজেন্ট একটি বাক্সে রাখতে পারেন।