গৃহনির্মাণের ক্ষেত্রে তো অবশ্যই, তা ছাড়া বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রেও বিশেষ কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। এমন কি বাড়ি বা ফ্ল্যাট ভাড়া করে থাকতে গেলেও বাস্তু সম্পর্কিত বিশেষ কিছু বিষয় দেখে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত যে সেই গৃহে থাকা উচিত কি না। কারণ যেখানে বসবাস করা হয়, সেই বাস্তু পরিবারের সদস্যদের উপর বিশেষ প্রভাব ফেলে। বাস্তুতে কোনও সমস্যা থাকলে সাংসারিক সমস্যা কখনও কাছছাড়া হয় না।
আরও পড়ুন:
কোন কোন বিষয় বিশেষ ভাবে মনে রাখা উচিত?
- বর্গাকার বা আয়তাকার বাড়ি সর্বোত্তম। উত্তর-পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব, দক্ষিণ-পশ্চিম এবং উত্তর-পশ্চিম, গৃহের এই চারটি কোণ খুব গুরুত্বপূর্ণ।
- বাড়ির সদর দরজা পূর্বমুখী হওয়া শুভ। সদর দরজার সামনে যেন কোনও বাধা না থাকে। বাড়িতে ঠিকঠাক সূর্যের আলো না ঢুকলে বাড়ি বাস্তুদোষ যুক্ত হয়। যে বাড়িতে সূর্যের আলো পৌঁছোয় না, সেই বাড়ি না নেওয়াই ভাল।
- বাড়ির উত্তর-পূর্ব (ঈশান) কোণ বাস্তুর গুরুত্বপূর্ণ কোণ। বাস্তুমতে উত্তর-পূর্ব কোণে বাস্তুপুরুষের মস্তকের অবস্থান। উত্তর-পূর্ব কোন বাস্তুর দেবতার স্থান, বৃহস্পতি গ্রহের দিক। উত্তর-পূর্ব কোণ ফাঁকা বা পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। উত্তর-পূর্বে ভারি নির্মাণ উচিত নয়। সেখানে হালকা জিনিস রাখা উচিত। উত্তর-পূর্ব কোণে প্রার্থনাকক্ষ বা ঠাকুরঘর করা যেতে পারে। এই কোণ কখনও নোংরা রাখা উচিত না।
আরও পড়ুন:
- বাড়ির রান্নাঘরের শ্রেষ্ঠ স্থান দক্ষিণ-পূর্ব কোণ (অগ্নিকোণ)। অগ্নিকোণের সঙ্গে শুক্রের সম্পর্ক রয়েছে। রান্নাঘরের অবস্থান অগ্নিকোণে হলে রান্না করা খাবারে স্বাদ এবং গুণ বৃদ্ধি পায় বলে মনে করা হয়। পূর্ব দিকে রান্না করা সর্বোত্তম, উত্তর দিকে কখনও রান্না করতে নেই।
- দক্ষিণ-পশ্চিম কোণের সঙ্গে সম্পর্ক রাহুর। এই কোণে ভারি নির্মাণ করা যেতে পারে। এখানে সিঁড়ি তৈরি করা শুভ বলে মনে করা হচ্ছে।
- পশ্চিমে খাওয়ার ঘর বা বসার ঘর করা যেতে পারে। এই স্থানে বাড়ির সকলের একসঙ্গে বসে আলাপ-আলোচনা করা বা সময় কাটানোর জন্য শুভ।
আরও পড়ুন:
- উত্তর-পশ্চিম কোণের সঙ্গে সম্পর্ক চন্দ্রের। এই কোণে অতিথিকক্ষ নির্মাণ শুভ।
- বাস্তু বা গৃহের মধ্যস্থান ব্রহ্মস্থান। ব্রহ্মস্থানের প্রতি সব সময় সচেতন থাকা উচিত। ব্রহ্মস্থান সর্বদা ফাঁকা রাখা প্রয়োজন। ব্রহ্মস্থানে কোনও নির্মাণ উচিত নয়। বিশেষত কোনও বিম, দেওয়াল ইত্যাদি যেন এই স্থানে না থাকে।