অযোধ্যার রামমন্দির, উত্তরাখণ্ডের বদ্রীনাথ, গুজরাতের বনাসকাঁঠা অম্বাজি মন্দিরেও পরে এ বার ভক্তদের দান নয়ছয়ের অভিযোগ জম্মু ও কাশ্মীরের মাতা বৈষ্ণোদেবী মন্দিরে! তবে সরাসরি প্রণামী নগদ বা মূল্যবান সামগ্রী চুরি নয়, সেখানে মন্দির কর্তৃপক্ষের একাংশের যোগসাজশে কোষাগার থেকে ভক্তদের দানের টন টন রুপো সরিয়ে তার জায়গার জাল রুপো রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ।
ঘটনাচক্রে, মন্দির-সহ ওই তীর্থক্ষেত্র পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী শ্রাইন বোর্ড’-এর সভাপতি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিংহ স্বয়ং। উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন বিজেপি নেতা মনোজ ২০১৪-’১৯ কেন্দ্রে রেল ও টেলিকম মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীও ছিলেন। বিতর্কের সূত্রপাত গত মে মাসে। বৈষ্ণোদেবী মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে প্রায় ২০ টন রুপোর দানসামগ্রী পাঠানো হয়েছিল সরকারি টাঁকশালে। মনে করা হচ্ছিল, ওই রুপোর দাম প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা। উদ্দেশ্য ছিল, নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় ওই রুপো গলিয়ে তা সংরক্ষণ করা। এই প্রক্রিয়া যখন চলছে, তখনই জানা যায়, মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে পাঠানো রুপোর ৯৫ শতাংশই নকল! রুপোর বদলে রয়েছে ক্যাডমিয়াম ও লোহা! আসল রুপোর পরিমাণ মাত্র ৫ শতাংশ!
আরও পড়ুন:
মন্দির কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক ভাবে যুক্তি দিয়েছিলেন, অজান্তেই হয়তো ভক্তেরা নকল রুপো দান করেছেন। কিন্তু দীপক শর্মা নামে এক আইনজীবী অভিযোগ তোলেন, দানের আসল রুপো পাল্টে দেওয়া হয়েছে! প্রথমে গত ৯ মে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের অপরাধ দমন শাখায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন দীপক। কিন্তু পুলিশ সক্রিয়তা না দেখানোয় আদালতে দ্বারস্থ হন তিনি। সেই আবেদনের ভিত্তিতে জম্মুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালত গত সোমবার নির্দেশ দিয়েছেন, তদন্ত করে গোটা বিষয়টি নিয়ে রিপোর্ট দিতে হবে অপরাধদমন শাখাকে। জানাতে হবে, ভক্তদের একাংশই প্রতারণা করে নকল রুপো দিয়েছিলেন, না কি প্রণামীতে দেওয়া আসল রুপো পরে মন্দিরের কোষাগারে বা গণনাপর্বের সময় পাল্টে দেওয়া হয়েছে। আদালতের ওই নির্দেশের পরেই ‘শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী শ্রাইন বোর্ড’-এর তরফে শুক্রবার ‘প্রণামী সংরক্ষণ প্রক্রিয়া’ পর্যালোচনার ঘোষণা করা হয়েছে।