কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাই কি ‘আরশোলাদের’ আন্দোলনে ইতি টানবে? কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠকে মোট তিন দফা দাবি ছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র। প্রথম দাবি পূরণ হলেও দ্বিতীয় এবং তৃতীয় দাবি নিয়ে সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানো হয়নি। সেই দু’টি দাবির কথা আরও এক বার মনে করিয়ে দিল সিজেপি। সঙ্গে পুরনো একটি দাবিও জুড়ে দিল তালিকায়।
নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে সিজেপি-র শুরু হওয়া আন্দোলনের প্রধান দাবিই ছিল ধর্মেন্দ্রের ইস্তফা। এ ছা়ড়াও তারা কেন্দ্রের কাছে আরও দু’টি দাবি রেখেছিল। এক, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না-করার নিশ্চয়তা। দুই, নিটের প্রশ্নফাঁসে আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে সরকারকে। ধর্মেন্দ্রের ইস্তফার পর সিজেপি পুরনো আরও একটি দাবি নিয়ে সরব হয়েছে। তাদের দাবি, র্যাফ এবং দিল্লি পুলিশকে ক্ষমা চাইতে হবে।
গত ২০ জুন সিজেপি-র সংসদ অভিযানে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। আন্দোলনকারীরা যাতে সংসদ ভবনে পৌঁছোতে না-পারেন, তা নিশ্চিত করতে যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবন পর্যন্ত যাওয়ার পথে দিকে দিকে ব্যারিকেড বসিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে ব্যবস্থা ছিল জলকামান, কাঁদানে গ্যাসের। তবে পুলিশি বাধা পেরিয়ে সংসদ ভবনের অনেকটা কাছে চলে যান আন্দোলনকারীদের একাংশ। শেষপর্যন্ত তাঁদের আটকে দেয় পুলিশ। অভিযোগ, লাঠিচার্জ করে পুলিশ। বেশ কয়েক জন আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন বলে খবরও মেলে। সেই ঘটনায় পুলিশ এবং র্যাফের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সিজেপি-র দাবি, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর ‘নির্মম’ অত্যাচার করেছে পুলিশ। তাই পড়ুয়াদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে পুলিশ এবং র্যাফকে।
ধর্মেন্দ্রের ইস্তফা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানান, এখনই তাঁরা আন্দোলনের পথ থেকে সরছেন না। দীপকে বলেন, ‘‘ধর্মেন্দ্র ইস্তফা দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের আরও দু’টি দাবি আছে। আমরা এ ভাবে যাব না। ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। এটাই গণতন্ত্র।’’ তিনি জানান, সরকার যদি লিখিত ভাবে তাঁদের তিনটি দাবি মেনে নেয়, তবে আর রাস্তায় থাকবেন না তাঁরা। তবে পরে সিজেপি এক্স পোস্টে আরও একটি দাবির কথা জানায়।
আরও পড়ুন:
ধর্মেন্দ্রের ইস্তফার পর পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী শনিবার দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে বৈঠকে বসেন সিজেপি-র দুই প্রতিনিধি সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা। দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বিকেল ৪টের পর বৈঠক শুরু হয়।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠক করার পর সিজেপি জানায়, তাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তার পরেই আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তাদের আবেদন, এত দিন যে শান্তিপূর্ণ অবস্থান চলছিল, তা তুলে নিন।
- ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের চাপে ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। নিটের প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম থেকেই তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিল সিজেপি।
- ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে দেখছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এই ‘জয়ের’ কৃতিত্ব পুরোটাই দেশের পড়ুয়া এবং যুব সমাজকে দিচ্ছে সিজেপি। কয়েক দিনের এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ দীপকে। শত ‘চাপে’ অনড় ছিলেন দাবিতে। সেই দাবি পূরণ হতেই বাঁধভাঙা আনন্দে ফেটে পড়েন তিনি।
-
ককরোচ সমর্থককে মারধরে অভিযুক্ত স্বতন্ত্রকে অবশেষে গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশ, পাঠানো হল জেল হেফাজতে
-
‘হাতজোড় করে আন্দোলনে ইতি টানতে চেয়েছিলেন’, যন্তর মন্তরে ‘ককরোচদের’ ভূমিকা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য ওয়াংচুকের
-
ককরোচদের সংসদ অভিযানের দিন ছর্রা গুলিতে জখম হন অন্তত ১০ জন! আরটিআই-এর জবাবে বলল দুই হাসপাতাল
-
‘অনশন ভাঙার ছবি প্রকাশ করে প্রতিশ্রুতি ভেঙেছেন মন্ত্রীরা!’ নড্ডার হাতে স্যুপ খাওয়ার ১৪ দিন পরে সরব হলেন ওয়াংচুক
-
ধৃত আন্দোলনকারীদের মুক্তির দাবি! বাঁকিপুরে বিজেপির বিপর্যয়ের পরেই পটনায় ফের শুরু ককরোচ বিক্ষোভ