Advertisement
E-Paper

‘এই তো সবে শুরু, এখনও অনেক পথ চলা বাকি’! যন্তর মন্তর থেকে বাড়ি ফিরে কোন পথে চলার ইঙ্গিত দিলেন দীপকে

সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-র কথায়, ‘‘এর পর কী করব বা সন্ধ্যা পর্যন্ত কী ঘটবে, সেই চিন্তা ছাড়াই ঘুমোতে গিয়েছিলাম। চিন্তা ছাড়াই সকালে ঘুম থেকে উঠলাম।’’

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২৬ ১০:৩৪
Just beginning, CJP\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\'s Abhijeet Dipke shares first morning video after withdraw protest

সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। ছবি: পিটিআই।

বিনিদ্র রজনী, অনশন, ধর্না, প্রতিবাদ, সামনের সারিতে থেকে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া— টানা ৩৬ দিনের লড়াইয়ে আপাতত ইতি পড়েছে! ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা এবং সরকারের সব দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতির পর যন্তর মন্তর থেকে অবস্থান প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সকল আন্দোলনকারীকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেছে তারা। বাড়ি ফিরেছেন অভিজিৎ দীপকেও। রবিবারের ভোর অন্য ভোরের থেকে অনেকটাই আলাদা সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতার কাছে। সেই ভোরে এক ভিডিয়ো বার্তায় কিছু অভিজ্ঞতার কথা বললেন তিনি। সঙ্গে বুঝিয়ে দিলেন, ধর্না প্রত্যাহার মানেই আন্দোলন শেষ, তা নয়। ভবিষ্যতে যে কোনও ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠবে তাঁর কণ্ঠ। বললেন, ‘‘এই তো সবে শুরু। অনেক পথ যাওয়া বাকি।’’

পুণে থেকে সাংবাদিকতা নিয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন দীপকে। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকা চলে যান। বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছিলেন। তার মাঝেই জড়িয়ে পড়েন ভারতের নিট কেলেঙ্কারি নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলনে। ইনস্টাগ্রামে তাঁর তৈরি করা ‘দল’ সিজেপি-র আন্দোলনে শামিল হতে দেশে ফিরে আসেন দীপকে। গত ৬ জুন থেকে ২৫ জুলাই— বার বার নিজেদের দাবিদাওয়া নিয়ে সুর চড়িয়েছেন। তবে রবিবারের সকালের বার্তায় ছিল অন্য মেজাজ। গলার স্বর ছিল নমনীয়। কিছুটা ধীর। ৩০ বছর বয়সি দীপকে বলেন, ‘‘টানা লড়াইয়ের পর অবশেষে বিশ্রাম নিতে পেরেছি।’’

এর পর কী? দীপকে-র কথায়, ‘‘এর পর কী করব বা সন্ধ্যা পর্যন্ত কী ঘটবে, সেই চিন্তা ছাড়াই ঘুমোতে গিয়েছিলাম। চিন্তা ছাড়াই সকালে ঘুম থেকে উঠলাম।’’ টানা এই লড়াই ‘কঠিন’ ছিল, জানালেন দীপকে। পাশাপাশি এ-ও বলেন, ‘‘ধর্না শেষ মানে এই নয়, আন্দোলন শেষ।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘এই তো সবে শুরু। ককরোচ জনতা পার্টিকে আরও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।’’

দীপকে মনে করেন, তিনি বা তাঁর মতো কয়েক জন নেতার জন্য এই ‘জয়’ সম্ভব হয়নি। এই জয়ের নেপথ্যে ছিল ভারতের যুব সমাজ, তরুণ-তরুণীরা। শুধু তাঁরা নন, আন্দোলনে পাশে পেয়েছেন নানা বয়সি, নানা স্তরের মানুষকে। সকলকে ধন্যবাদ জানান দীপকে। পাশাপাশি, তাঁদের আন্দোলনের সমালোচকদেরও ধন্যবাদ জানান সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর মতে, যৌক্তিক প্রশ্ন তুলে সমালোচনাগুলি তাঁদের আন্দোলনকে আরও মজবুত করতে সাহায্য করেছে।

দীপকে জানান, টানা আন্দোলনে তাঁর শরীরও ভেঙেছে। শেষ কয়েক দিন লড়তে হয়েছে জ্বর এবং টাইফয়েডের মতো রোগের সঙ্গে। তাঁর কথায়, ‘‘যাঁরা এই কয়েক দিন যন্তর মন্তরে ছিলেন তাঁদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাতে চাই। দেশের জন্য আপনারা যা করেছেন তার জন্য আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।’’

সংক্ষেপে
  • দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠক করার পর সিজেপি জানায়, তাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তার পরেই আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তাদের আবেদন, এত দিন যে শান্তিপূর্ণ অবস্থান চলছিল, তা তুলে নিন।
  • ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের চাপে ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। নিটের প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম থেকেই তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিল সিজেপি।
  • ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে দেখছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এই ‘জয়ের’ কৃতিত্ব পুরোটাই দেশের পড়ুয়া এবং যুব সমাজকে দিচ্ছে সিজেপি। কয়েক দিনের এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ দীপকে। শত ‘চাপে’ অনড় ছিলেন দাবিতে। সেই দাবি পূরণ হতেই বাঁধভাঙা আনন্দে ফেটে পড়েন তিনি।
Cockroach Janata Party Video Abhijeet Dipke

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy