নিট-এর প্রশ্নফাঁস ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির মোকাবিলায় এ বার দেশ জুড়ে পাল্টা কর্মসূচিতে নামছেন বিজেপির ছাত্র-যুবরা। আর ‘মাঠের রাজনীতি’র পাশাপাশি এই প্রক্রিয়ায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে সমাজমাধ্যম। শুধু ফেসবুক বা এক্স হ্যান্ডল নয়, ইনস্টাগ্রাম, রেডিট, স্ন্যাপচ্যাটের মতো ‘সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম’-কেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপির তরুণ প্রজন্ম।
যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র ধর্না-বিক্ষোভ এবং রাজ্যে রাজ্যে আন্দোলনের চাপে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা দেওয়ার পরেও অসন্তোষের আঁচ পুরোপুরি মেটেনি। সিজেপি এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে দমনপীড়নের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ইস্তফার দাবি জানিয়েছে (কারণ, দিল্লি পুলিশ শাহের মন্ত্রকেরই নিয়ন্ত্রণাধীন)। পাশাপাশি, প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে কেন্দ্র ও বিভিন্ন বিজেপি এবং এনডিএ শাসিত রাজ্যগুলি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে আইনি পদক্ষেপ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই আবহে বিজেপি শিবিরের পাল্টা অভিযোগ, নিট-আন্দোলনকে হাতিয়ার করে গোটা দেশেই বিভ্রান্তি ছড়াতে চাইছে বিরোধী শিবির ও ককরোচরা। আর তার জবাব দিতে তৈরি হয়েছে পাল্টা আক্রমণাত্মক রণকৌশল। দলের একটি সূত্র জানাচ্ছে, সমাজমাধ্যম ব্যবহার করে ছাত্র-যুবদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ককরোচ বাহিনীর মোকাবিলায় ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, রেডিট-সহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে নিজেদের কার্যকলাপ বাড়ানোর কথা বিবেচনা করছে বিজেপি। এই উদ্দেশ্যে তরুণদের নিয়ে একটি দল গঠন করার প্রস্তুতি চলছে জানিয়ে বিজেপির এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেছেন, ‘‘ককরোচদের অস্ত্রেই এ বার তাদের মোকাবিলা করব আমরা।’’
কিন্তু শুধু একমুখী প্রচার নয়, সমাজমাধ্যমে বিজেপির জনসংযোগের মূল অভিমুখ হবে ‘দ্বিমুখী বার্তালাপ’। ওই নেতা জানিয়েছেন, তাঁদের অন্যতম উদ্দেশ্য হবে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে মত বিনিময়ের মাধ্যমে ‘প্রকৃত পরিস্থিতি’ আঁচ করা। তিনি বলেন, ‘‘গত এক মাসের ঘটনাবলি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নতুন প্রজন্মের বড় অংশের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ফাঁক থেকে গিয়েছিল। এ বার তা মেরামতের চেষ্টা শুরু হচ্ছে।’’ এক্স (সাবেক টুইটার) এবং ফেসবুকের মাধ্যমে বার্তা তরুণ-তরুণীদের কাছে সে ভাবে পৌঁছোতে পারছে না জানিয়ে ইনস্টাগ্রাম, রেডিট, স্ন্যাপচ্যাটে ‘ভর করে’ সিজেপি-র মোকাবিলার উপর গুরুত্ব দেওয়ার কৌশলের কথা জানান তিনি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠক করার পর সিজেপি জানায়, তাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তার পরেই আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তাদের আবেদন, এত দিন যে শান্তিপূর্ণ অবস্থান চলছিল, তা তুলে নিন।
- ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের চাপে ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। নিটের প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম থেকেই তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিল সিজেপি।
- ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে দেখছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এই ‘জয়ের’ কৃতিত্ব পুরোটাই দেশের পড়ুয়া এবং যুব সমাজকে দিচ্ছে সিজেপি। কয়েক দিনের এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ দীপকে। শত ‘চাপে’ অনড় ছিলেন দাবিতে। সেই দাবি পূরণ হতেই বাঁধভাঙা আনন্দে ফেটে পড়েন তিনি।
-
ককরোচ সমর্থককে মারধরে অভিযুক্ত স্বতন্ত্রকে অবশেষে গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশ, পাঠানো হল জেল হেফাজতে
-
‘হাতজোড় করে আন্দোলনে ইতি টানতে চেয়েছিলেন’, যন্তর মন্তরে ‘ককরোচদের’ ভূমিকা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য ওয়াংচুকের
-
ককরোচদের সংসদ অভিযানের দিন ছর্রা গুলিতে জখম হন অন্তত ১০ জন! আরটিআই-এর জবাবে বলল দুই হাসপাতাল
-
‘অনশন ভাঙার ছবি প্রকাশ করে প্রতিশ্রুতি ভেঙেছেন মন্ত্রীরা!’ নড্ডার হাতে স্যুপ খাওয়ার ১৪ দিন পরে সরব হলেন ওয়াংচুক
-
ধৃত আন্দোলনকারীদের মুক্তির দাবি! বাঁকিপুরে বিজেপির বিপর্যয়ের পরেই পটনায় ফের শুরু ককরোচ বিক্ষোভ