ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-র বাবার বিষয়-আশয় এ বার আতশকাচের নীচে! অবসরপ্রাপ্ত ওই সরকারি কর্মী কী ভাবে নিজের পুত্রের বিদেশে পড়াশোনার খরচ জোগালেন, তা জানতে তথ্য জানার অধিকার আইনে (আরটিআই) আবেদন করেছেন সুরতের এক সমাজসৈনিক। তিনি দীপকে-র বাবা ভগবানরাও দীপকে-র বিষয়-আশয় নিয়ে তদন্তও চেয়েছেন। পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় জিএসটি কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর আবেদন, সিজেপির আইনি মোতাবেক নথিভুক্তিকরণ সংক্রান্ত বিষয় এবং তহবিল নিয়েও অনুসন্ধান করা হোক।
দীপকে-র বাবা ভগবানরাও মহারাষ্ট্র সরকারের কর্মী ছিলেন। তাঁর সম্পত্তি, আয় নিয়ে তদন্তের দাবি করেছেন আরটিআই কর্মী অমিত তিওয়ারি। সেই নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠিও দিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, অবসর নেওয়ার পরেও কী ভাবে দীপকে-র বিদেশে পড়াশোনার খরচ জোগালেন তাঁর বাবা? দীপকে আমেরিকার বস্টনে পড়াশোনা করছিলেন। জুনের শুরুতে তিনি দেশে ফেরেন।
নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তর-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদের সময় সিজেপির কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে। আটক হয়েছেন বেশ কয়েক জন। তাঁদের আইনি সাহায্যের অনুদান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ওই আরটিআই কর্মী। তিওয়ারির প্রশ্ন, সেই টাকা কোথা থাকে আসছে, খতিয়ে দেখা হোক। ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইের ২৯এ ধারায় সিজেপি নথিভুক্ত হয়েছে কি না, কমিশনের কাছে তা-ও জানতে চেয়েছেন সুরতের আরটিআই কর্মী। তাঁর কথায়, ‘‘নথিভুক্ত না হলেও সিজেপি রাজনৈতিক দলের মতোই চলছে। আইনি সহায়তার জন্য এক কোটি টাকা অনুদান পাচ্ছে। তাই আইন মেনে তা নথিভুক্ত হয়েছিল কি না, কমিশনের খতিয়ে দেখা উচিত।’’ নথিবদ্ধ না করা হলে সিজেপির অনুদানের রসিদ খতিয়ে দেখা উচিত।
গত সোমবার কংগ্রেস সাংসদ তথা আইনজীবী কপিল সিব্বল ঘোষণা করেছিলেন, সিজেপি-কে আইনি সাহায্য পাওয়ার জন্য তিনি ১ কোটি টাকা দেবেন। প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার খরচ চালানোর জন্য এই অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন তিনি। সেই নিয়ে জিসএসটি কর্তৃপক্ষের কাছে একটি আবেদন জমা করেছেন সুরতের আরটিআই কর্মী তিওয়ারি। তাঁর প্রশ্ন, সিবলের ওই অনুদানের উপরে কি ১৮ শতাংশ জিএসটি কার্যকর করা উচিত? বিষয়টি জিএসটি কর্তৃপক্ষকে বিবেচনা করে দেখার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
মামলা প্রত্যাহার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে কেন্দ্রীয় সরকার এবং ককরোচদের মধ্যে টানাপড়েন শুরু হয়েছে। সেই রায়কে তুলে ধরে কেন্দ্র জানিয়েছে, যাঁদের বিরুদ্ধে অতীতে অপরাধের মামলা ছিল, তাঁদের ছাড় নয়। সিজেপি তা মানতে নারাজ। তারা জানিয়েছে, প্রয়োজনে আবার আন্দোলন শুরু করবে। যে প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে, তাঁদের আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য অনুদান জমা পড়ছে। তার উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আরটিআই কর্মী।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠক করার পর সিজেপি জানায়, তাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তার পরেই আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তাদের আবেদন, এত দিন যে শান্তিপূর্ণ অবস্থান চলছিল, তা তুলে নিন।
- ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের চাপে ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। নিটের প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম থেকেই তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিল সিজেপি।
- ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে দেখছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এই ‘জয়ের’ কৃতিত্ব পুরোটাই দেশের পড়ুয়া এবং যুব সমাজকে দিচ্ছে সিজেপি। কয়েক দিনের এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ দীপকে। শত ‘চাপে’ অনড় ছিলেন দাবিতে। সেই দাবি পূরণ হতেই বাঁধভাঙা আনন্দে ফেটে পড়েন তিনি।
-
ককরোচ সমর্থককে মারধরে অভিযুক্ত স্বতন্ত্রকে অবশেষে গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশ, পাঠানো হল জেল হেফাজতে
-
‘হাতজোড় করে আন্দোলনে ইতি টানতে চেয়েছিলেন’, যন্তর মন্তরে ‘ককরোচদের’ ভূমিকা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য ওয়াংচুকের
-
ককরোচদের সংসদ অভিযানের দিন ছর্রা গুলিতে জখম হন অন্তত ১০ জন! আরটিআই-এর জবাবে বলল দুই হাসপাতাল
-
‘অনশন ভাঙার ছবি প্রকাশ করে প্রতিশ্রুতি ভেঙেছেন মন্ত্রীরা!’ নড্ডার হাতে স্যুপ খাওয়ার ১৪ দিন পরে সরব হলেন ওয়াংচুক
-
ধৃত আন্দোলনকারীদের মুক্তির দাবি! বাঁকিপুরে বিজেপির বিপর্যয়ের পরেই পটনায় ফের শুরু ককরোচ বিক্ষোভ