পুজোর আগে ঝলমলে ত্বক পেতে কে না চান! তার জন্য নানা রকম ফেশিয়াল বা ত্বকের চিকিৎসা করানোর হিড়িক পড়ে গিয়েছে এখন থেকেই। কেউ বলিরেখা দূর করতে চান, কেউ আবার ত্বক থেকে বয়সের ছাপটুকু মুছে ফেলতে মরিয়া। যদি রোদে পোড়া দাগছোপ বা ট্যান দূর করতে হয়, তা হলে খরচসাপেক্ষ ত্বকের ট্রিটমেন্ট নয়, বরং নানা ফেশিয়াল আছে যা হাইপার-পিগমেন্টেশনও দূর করতে পারে। পার্লারে গিয়ে কী ধরনের ফেশিয়াল করালে দাগছোপ উঠবে সে নিয়ে ভাবনাচিন্তা করেন অনেকে। এক বিশেষ রকম ফেশিয়াল পুজোর আগে করিয়ে দেখতে পারেন। এটি সব ধরনের ত্বকের জন্য নিরাপদ। ত্বক খুব স্পর্শকাতর হলেও এই ফেশিয়াল করানো যেতে পারে।
হাই ফ্রিকোয়েন্সি ওজ়োন থেরাপি বা অক্সিজেন ফেশিয়াল এখন খুব জনপ্রিয়। যে কোনও বিউটি ক্লিনিক বা সালোঁয় এই ফেশিয়াল করানো হয়। এটি করালে কেবল দাগছোপ উঠে যাবে তা নয়, ব্রণ-ফুস্কুড়ি বা কোনও ক্ষতের দাগ থাকলে তা-ও নির্মূল হবে।
ওজ়োন বা অক্সিজেন ডি-ট্যান ফেশিয়াল
ওজ়োন ডি-ট্যান ফেশিয়ালে হালকা ওজ়োন গ্যাসের বাষ্প দিয়ে ত্বকের রোমকূপ পরিষ্কার করা হয়। তার পর জেল মাসাজের পরে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট মাস্ক লাগানো হয়। এটি রোদে পোড়া দাগ বা সানট্যান হালকা করে দেয়।
অক্সিজেন ডি-ট্যান ফেশিয়ালের পদ্ধতি একটু আলাদা। এই ফেশিয়ালের মূল কথাই হল, কৌশলে মুখের ত্বকের কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া। বিভিন্ন সালোঁ বা স্পা-এ অক্সিজেন ফেশিয়াল নানা ভাবে করা হয়। প্রথমে এক্সফোলিয়েশন। তার পর বিশেষ ধরনের স্প্রে করার যন্ত্রের সাহায্যে অতিরিক্ত ঘনত্বযুক্ত অক্সিজেন ত্বকে দেওয়া হয়। ব্যবহার করা হয় সিরাম, যা মুখে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং ভিটামিনের জোগান দেয়। কোথাও ত্বকের কোষে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য বিশেষ ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়। অক্সিজেন ফেশিয়াল ত্বককে আর্দ্রতা জোগায়, ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করে তোলে। এই ধরনের ফেশিয়ালে অক্সিজেনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং ত্বকের উপযোগী উপাদান ব্যবহার করা হয়। যার প্রভাবে ত্বকের জৌলুস ফিরে আসে।
আরও পড়ুন:
গত কয়েক বছরে কলকাতার বিভিন্ন সালোঁয় এই ধরনের ফেশিয়াল কর হচ্ছে। যদিও এক একটি সালোঁ বা স্পা-এ এই ফেশিয়ালের নাম এক এক রকম। সালোঁভেদে এই ধরনের ফেশিয়ালের খরচ এবং পদ্ধতিও আলাদা। মোটামুটি ৩০০০ টাকা থেকে এটি শুরু হয়। কোথাও খরচ ৫০০০ টাকা, কোথাও তার চেয়েও বেশি।