Advertisement
E-Paper

মুখ বদল! পুজোর আগে রূপ খুলবে সৌন্দর্য চিকিৎসায়, গাল থেকে চোয়াল, সবেরই বদল সম্ভব

কথায় বলে, পহেলে দর্শনধারী, ফির গুণবিচারী। মুখের গড়ন সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বে প্রভাব ফেলে অনেকটাই। পুজোর আগে নিছক ফেশিয়াল নয়, গোটা মুখের ভোল যদি বদলে দিতে হয়, তা হলেও উপায় আছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৫৯
From Cheeks to Jawline,  Beauty Treatments to Redefine Your Look

গাল, চোয়াল বদলে ফেলুন, ধারালো হবে মুখচ্ছবি, খুলবে রূপ। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ফোলা গাল নিয়ে চিন্তা। ভোঁতা নাক নিয়ে নাজেহাল। তার উপরে বয়সের ভারে চামড়ায় বলিরেখা। চেহারাগত অসম্পূর্ণতার কারণে অনেকেই হীনম্মন্যতায় ভোগেন। তারকাদের দেখাদেখি তা আরও বাড়ে। চোখা নাখ, ধারালো চোয়াল ও উঁচু গালের হাড়— অনেকেরই স্বপ্ন। তা কিন্তু বাস্তবে হওয়াও সম্ভব। সৌন্দর্য চিকিৎসায় সে সুযোগ এখন হাতের মুঠোয়। মুখের সেই কাঙ্ক্ষিত সৌন্দর্য পেতে তিন রকম চিকিৎসা করানো যেতে পারে। এই শহরেও সেগুলি হচ্ছে।

চিক ইমপ্ল্যান্ট

ফোলা গাল সুগঠিত হবে। শুধু গালের অতিরিক্ত মেদ চেঁছে তার উপর কৃত্রিম প্রতিস্থাপক বসিয়ে দেওয়া হবে। এতে গালের হাড় উঁচু ও স্পষ্ট দেখাবে, মুখচ্ছবি বেশ ধারালো হবে। গোলপানা ফোলা মুখ লম্বাটে বা ভি-আকৃতির দেখাবে। চিক ইমপ্লান্ট এক ধরনের কসমেটিক সার্জারি, যার প্রয়োগ সৌন্দর্য চিকিৎসাতেও হচ্ছে। কেবল রূপ বদলাতে নয়, দুর্ঘটনা বা আঘাতের কারণে মুখ বিকৃত হয়ে গেলেও এই সার্জারি করা হয়। জন্মগত ত্রুটি সারাতেও এর প্রয়োগ করা হয়। এ ক্ষেত্রে সিলিকন বা নিরাপদ কোনও উপাদান গালের হাড়ের উপরে বা নীচে বসিয়ে দেওয়া হয়। এতে গাল উঁচু, প্রাণবন্ত ও আকর্ষক দেখায়।

যে ভাবে মুখ বদলায়: গালের প্রতিস্থাপন তিন রকম ভাবে হয়— ১) মালার ইমপ্ল্যান্ট, যাতে প্রতিস্থাপকটি সরাসরি গালের হাড়ের উপরে বসানো হয়, যা গালকে তীক্ষ্ণ দেখায়, হনু স্পষ্ট ভাবে দেখা যায়।

চিক ইমপ্ল্যান্ট

চিক ইমপ্ল্যান্ট

২) সাবমালার ইমপ্ল্যান্ট, যা গালের হাড়ের নীচে বসানো হয়, এতে বয়সজনিত কারণে তুবড়ে যাওয়া গাল ফোলা দেখায়। বয়সকালেও গাল যৌবনের মতো দেখায়।

৩) কম্বিনেশন ইমপ্ল্যান্ট, যাতে দুই পদ্ধতিরই সংমিশ্রণ ঘটে। মুখের ভোল পুরোপুরি বদলে দিতে এটি করান অনেক তারকাই।

সতর্কতা: চিক ইমপ্ল্যান্ট সকলের জন্য নয়। অটোইমিউন রোগ থাকলে বা কেমোথেরাপি চললে সেই সময়ে এই ট্রিটমেন্ট করানো ঠিক হবে না। এই সার্জারি অভিজ্ঞ কোনও চিকিৎসকের কাছেই করাতে হবে, না হলে দুই গালের মধ্যে সামঞ্জস্যের অভাব দেখা দিতে পারে।

গালের প্রতিস্থাপন নির্দিষ্ট জায়গা থেকে সরে যাওয়ার ভয়ও থাকে। তাই নিয়ম মেনে চলতে হবে।

খরচ কত: কী ধরনের প্রতিস্থাপক ব্যবহার করা হচ্ছে, এক গাল বা দুই গালে হচ্ছে কি না, সব কিছুর উপরেই খরচ নির্ভর করবে। সাধারণত এই সার্জারির খরচ এ দেশে ৬০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যেই হয়।

ফোটোনা ৪ডি লেজ়ার লিফ্‌টিং

অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন নেই। লেজ়ার দিয়েই চামড়া টেনে টানটান করা হয়। লেজ়ারের চার প্রকারের তরঙ্গ ব্যবহার করে এই থেরাপি করা হয়। গাল, কপাল, থুতনি, নাকের পাশের চামড়া টানটান হয়। বলিরেখা মিলিয়ে যায়। বয়সের কারণে বা কোনও ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় অথবা দীর্ঘকালীন অসুস্থতার পরে মুখের চামড়া ঝুলে গেলে বা বয়সের ছাপ পড়লে তা দূর করতে এই থেরাপি করানো হয়। বলিউডের অনেক তারকাই এই থেরাপি করিয়ে যৌবনের মতো ত্বক টানটান রেখেছেন।

যে ভাবে মুখের ভোল বদলায়: এই থেরাপিতে চারটি ভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের লেজ়ার রশ্মি ব্যবহার করা হয়। এতে মুখের ত্বকে কোলাজেন নতুন করে তৈরি হয়। যে জায়গাগুলিতে লেজ়ার রশ্মির প্রয়োগ হয়, সেখানেই নতুন কোলাজেনের উৎপাদন হতে থাকে। ফলে চোয়াল, থুতনি, গাল, চোখের চারপাশের চামড়া, নাকের দু’পাশের ত্বক টানটান দেখায়। এমনকি, গালের দাগছোপ, ক্ষত— সবই দূর হয় এই থেরাপিতে।

ফোটোনা ৪ডি লেজ়ার লিফ্‌টিং

ফোটোনা ৪ডি লেজ়ার লিফ্‌টিং

প্রথমে গালের ভিতরে লেজ়ার রশ্মি প্রবেশ করিয়ে সেখানকার কোষগুলির পুনর্গঠন করা হয়।

এর পর ত্বকের উপরিভাগে লেজ়ার দিয়ে দাগছোপ, কুঁচকে যাওয়া চামড়া, ক্ষত মেরামত করা হয়।

পরবর্তী ধাপে সম্পূর্ণ মুখের উপরে লেজ়ার রশ্মি দিয়ে ফেস লিফ্‌ট করা হয়। এতে মুখ টানটান দেখায়।

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

একেবার শেষ ধাপে লেজ়ার পিলিং করে ত্বকের উপরে গোলাপি আভা আনা হয়।

সতর্কতা: অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় এই থেরাপি করালে বিপদ হতে পারে।

সোরিয়াসিস বা এগ্‌জ়িমার মতো চর্মরোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে এই থেরাপি করানো যাবে না।

পেসমেকার বসানো থাকলে শরীর লেজ়ার চালানো যাবে না।

খরচ কত: প্রতি সেশনের খরচ ১৮ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা। তবে বিউটি ক্লিনিকের উপর খরচ নির্ভর করবে।

স্কিন থ্রেড নিউক্লিয়োফিল

এক প্রকার ‘অ্যান্টি-এজিং থেরাপি’। মাছের ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড) দিয়ে ত্বকের চিকিৎসা। মাছের ডিএনএ বিশেষ উপায়ে পরিশোধন করে তা ত্বকে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। ত্বকের ত্রুটিযুক্ত কোষগুলিকে এই ডিএনএ দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়। এটি আসলে এক প্রকার বায়ো-স্টিমুলেটিং থেরাপি বা স্কিন বুস্টিং থেরাপি।

মাছের ডিএনএ বিশেষ উপায়ে পরিশোধন করে তা ত্বকে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।

মাছের ডিএনএ বিশেষ উপায়ে পরিশোধন করে তা ত্বকে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।

যে ভাবে মুখ বদলায়: ইউরোপ ও এশিয়ার নানা জায়গায় এই থেরাপি করা হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় এই থেরাপি খুবই জনপ্রিয়। এর আরও এক নাম ‘পলিনিউক্লিয়োটাইড থেরাপি’। এতে ছুরি-কাঁচি চালানোর প্রয়োজনই নেই। শুধু জেলের মতো মাছের ডিএনএ মুখে, গলার ভাঁজে, হাতে বা ত্বকের যে কোনও জায়গায় ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ঢুকিয়ে দিতে হব। মাছের ডিএনএ নিজে থেকেই ত্বকের কোষের পুনর্গঠনের কাজ শুরু করে দেবে। মাইক্রোনি্ড্‌লের (ছোট ছোট সুচ) মাধ্যমে ত্বকের নীচের স্তরে মাছের ডিএনএ ঢুকিয়ে দিলে তা ত্বকের কোলাজেন প্রোটিন তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা নেবে। কোলাজেন ও ইলাস্টেন প্রোটিন তৈরি করবে, যা ত্বকের লাবণ্য ধরে রাখবে দীর্ঘকাল।

কম বয়সেই বলিরেখা পড়ছে যাঁদের, নানা রকম ওষুধ বা অস্ত্রোপচারের কারণে চামড়া কুঁচকে গিয়েছে, তাঁরা এই থেরাপি করালে লাভবান হবেন। ত্বকের যে কোনও দাগছোপও নির্মূল করতে পারবে এই থেরাপি।

সতর্কতা: পলিনিউক্লিয়োটাইড থেরাপি করাতে হলে আগে ত্বক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। চর্মরোগ থাকলে বা অ্যালার্জির ধাত থাকলে, এই ধরনের থেরাপি করানো যাবে কি না, তা জেনে নিতে হবে।

খরচ কত: গোটা মুখে হবে না মুখের বিশেষ কোনও জায়গায়, তার উপর খরচ নির্ভর করবে। সম্পূর্ণ মুখে থেরাপিটি করতে হলে খরচ পড়বে ৭৫ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার মতো।

সংক্ষেপে
  • লক্ষ্মীপুজো যে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই হয় তা নয়, দেশের নানা প্রান্তে হয়, তবে পুজোর আচার ভিন্ন। মহারাষ্ট্রে তা লক্ষ্মী পূজন, গুজরাতে আবার চোপড়া পূজন। ওড়িশায় তা-ই গজলক্ষ্মীর আরাধনা। কোন রাজ্যে কেমন ভাবে লক্ষ্মী পুজো হয়?
  • উত্তমকুমার নিষ্ঠাভরে বাড়ির লক্ষ্মীপুজো করতেন। তাই এই পুজোর নামই হয়ে গিয়েছিল ‘উত্তমকুমারের বাড়ির পুজো’। এখনও এই পুজো এ ভাবেই পরিচিত। পুজোর ঐতিহ্য এবং রীতি নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আড্ডা দিলেন উত্তম কুমারের ভাইঝি ও নাতনি।
  • সময় করে বসে পুজোর জন্য আলপনা দেওয়া এক প্রকার বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। শহরে তো বটেই, মফস্‌সলেও। ইদানীং সমাজমাধ্যমের রিলে হাতপাখা থেকে শুরু করে পুরনো শাড়ি, চায়ের টেবিল থেকে ডায়েরির মলাট কিংবা বসার ঘরের মেঝে, সর্বত্র আলপনা দিচ্ছেন হুজুগে মানুষজন।
Beauty Tips Beauty Therapy Beauty Treatments

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy