Advertisement
E-Paper

পুজোয় অতিথি সমাগম? শুধু বসার ঘরে ৭টি বদল আনলেই রুচিশীল সাজে সেজে উঠবে আপনার বাড়ি

পুজো মানেই তো বাড়িতে লোকজনের আনাগোনা, জমিয়ে আড্ডা, রাত জেগে গল্প আর হঠাৎ করে এসে পড়া প্রিয় মানুষেরা। তাই এই ক’দিন বাড়িরও একটু সাজগোজের অধিকার আছে। নতুন ভাবনা, ব্যক্তিগত পছন্দ, বাড়ির নিজস্ব মেজাজের কথা মাথায় রেখে সাজিয়ে তুলুন বাড়ি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ১১:২৯
পুজোর আগে গৃহসজ্জার টিপ্‌স।

পুজোর আগে গৃহসজ্জার টিপ্‌স। ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।

বাড়িটাও যেন সারা বছর একই রুটিনে থাকতে থাকতে ক্লান্ত। পুজোর ক’টা দিনের জন্য একটু সাজতে চায় সে-ও। চেনা দেওয়াল, পুরনো সোফা, জানলার ধারে একলা দাঁড়িয়ে থাকা গাছ— সবাই মিলে যেন অপেক্ষা করে আছে, কখন পুজো আসবে আর বদলাবে অন্দরমহলের চেনা চেহারা। তার উপর পুজো মানেই তো বাড়িতে লোকজনের আনাগোনা, জমিয়ে আড্ডা, রাত জেগে গল্প আর হঠাৎ করে এসে পড়া প্রিয় মানুষের দল! তাই এই ক’দিন বাড়িরও একটু সাজগোজের অধিকার আছে। তবে সে সাজে সাবেকিয়ানা থাকতেই হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। বরং একটু নতুন ভাবনা, ব্যক্তিগত পছন্দ, বাড়ির নিজস্ব মেজাজের কথা মাথায় রেখে সাজিয়ে তুলুন এমন ভাবে, যেন সে নিজেই অতিথিদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত হয়ে যায়।

শেষ দিন দশেকের মধ্যে আমূল পরিবর্তনের দরকার নেই, বসার ঘরে কেবল ছোটখাটো কয়েকটা বদলেই বাড়ির চেহারা বদলে যেতে পারে। তার জন্য কয়েকটি বিশেষ দিকেই বিশেষ নজর দিতে হবে।

পুজোর সময়ে গৃহসজ্জার সহজ কিছু টিপ্‌স

১. পুরনো আসবাবের জায়গা বদলে দিন

নতুন আসবাব কেনার বদলে পুরনো আসবাবের বিন্যাস বদলে ফেলুন। বসার ঘরে সোফা এত দিন যে দেওয়ালের দিকে মুখ করে ছিল, সেটিকে ঘুরিয়ে আ়ড্ডার জায়গা তৈরি করা যায়। বড় সেন্টার টেবিল সরিয়ে ছোট দু’টি সাইড টেবিল আনলেও ঘর অনেক বেশি খোলামেলা দেখাবে। মাত্র এক দিনের কাজ, কিন্তু ঘরের চেহারা একেবারে বদলে যেতে পারে। আর যদি সেন্টার টেবিল রাখতেই হয়, তা হলে তার সাজে আনুন নতুনত্ব। সেন্টার টেবিলে ফুলদানিই রাখতেই হবে, এমন নয়। কয়েকটি বই, একটি মোমদানি, ছোট সেরামিকের পাত্র এবং একটি ট্রে— এই চারটি জিনিস দিয়ে সাজাতে পারেন। তবে টেবিলের পুরোটা ভরিয়ে ফেলবেন না। সে ক্ষেত্রে কেবল একখানি সেন্টার পিসই যথেষ্ট।

২. গাছকে সাজের কেন্দ্র করে তুলুন

একাধিক ছোট টবের বদলে একটি বড় গাছ ব্যবহার করে দেখুন। বসার ঘরের জানলা বা সোফার পাশে পাম, রবার প্ল্যান্টের মতো গাছ বড় মাটির টবে রাখলে ঘরে ‘রিসর্ট’-এর মতো অনুভূতি আসতে পারে। জায়গা কম হলে বড় গাছের বদলে একটি লম্বা, সরু টব বেছে নিন।

৩. গ্যালারি ওয়াল তৈরি করুন

একটি বড় ছবি টাঙানোর বদলে একই দেওয়ালে বিভিন্ন আকারের কয়েকটি ছবি, পোস্টার বা শিল্পকর্ম সাজিয়ে দিতে পারেন। সব ফ্রেম এক রকম হওয়ারও প্রয়োজন নেই। সাদা-কালো ছবি, বিমূর্ত শিল্প, পুরনো সিনেমার পোস্টার কিংবা নিজের পছন্দের কোনও ছবি— সব মিলিয়ে ব্যক্তিগত একটি দেওয়াল তৈরি করুন বসার ঘরে। পুজোর পরে ছবিগুলি বদলে দিলেই আবার নতুন লুক পাওয়া যাবে।

৪. আলোকসজ্জায় মন দিন

শুধু বড় ঝুলন্ত আলো নয়, ঘরের আলোর সাজ বদলান। সোফার পাশে একটি ফ্লোর ল্যাম্প, দেওয়ালের দিকে মুখ করা আলো কিংবা তাকের ভিতরে ছোট আলো ব্যবহার করতে পারেন। অথবা কয়েকটি অত্যাধুনিক আলো ব্যবহার করতে পারেন। মোশন সেন্সর লাইট, এলইডি লাইট স্ট্রিপ ইত্যাদি আজকাল আলোকসজ্জার সংজ্ঞা বদলে দিয়েছে। মূল আলো বন্ধ করে এমন কয়েকটি নরম আলো জ্বাললে সন্ধ্যায় বাড়ির আবহ একেবারে বদলে যাবে। অতিথির আড্ডার জন্যও এই ধরনের আলো বেশি আরামদায়ক।

৫. পানীয়ের জন্য ছোট কোণ সাজান

অতিথি সমাগম হলে বসার ঘরের এক পাশে ছোট একটি পানীয়ের জায়গা তৈরি করতে পারেন। একটি সরু ট্রলি, টেবিল বা তাকের উপর গ্লাস, জলের বোতল, পানীয়ের উপকরণ এবং কয়েকটি সুন্দর কোস্টার সাজিয়ে রাখুন। সব কিছু এক জায়গায় থাকায় ব্যবহারেও সুবিধা, পাশাপাশি সেটিও ঘরের সাজের অংশ হয়ে উঠবে।

৬. একটা ‘স্টেটমেন্ট’ কর্নার বানান

পুরো বাড়ি সাজানোর দরকার নেই। বসার ঘরের একটি কোণকে একটু অন্য রকম করে তুলুন। একটি বড় আয়না, তার সামনে একটি নকশাদার টুল বা সাইড টেবিল, একটি বড় গাছ এবং আলো— এই চারটি জিনিস দিয়েই তৈরি হতে পারে সাজের মূল আকর্ষণ। ঘরটিও বড় দেখাবে, অতিথির চোখও স্বাভাবিক ভাবে এই জায়গাটিতেই যাবে সবার প্রথমে।

৭. রঙের সাজ বদলান

পুরো ঘরে এক রঙের বিভিন্ন শেড ব্যবহার করে দেখতে পারেন। কুশন থেকে পর্দা, টেবিল রানার, ছোট গালিচা ইত্যাদিতে রং দিয়ে পরীক্ষা করতে পারেন। যেমন, অফ-হোয়াইটের সঙ্গে বেইজ ও বাদামি, অথবা ধূসরের সঙ্গে কালো ও কাঠের রং। এই ধরনের স্তরে স্তরে একরঙা সাজ এখন বেশ জনপ্রিয়। চাইলে এর উপর দিয়ে সামান্য রঙের ছোঁয়া আনতে পারেন ফুল দিয়ে। এতে পুজোর আবহও তৈরি হবে।

সংক্ষেপে
  • লক্ষ্মীপুজো যে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই হয় তা নয়, দেশের নানা প্রান্তে হয়, তবে পুজোর আচার ভিন্ন। মহারাষ্ট্রে তা লক্ষ্মী পূজন, গুজরাতে আবার চোপড়া পূজন। ওড়িশায় তা-ই গজলক্ষ্মীর আরাধনা। কোন রাজ্যে কেমন ভাবে লক্ষ্মী পুজো হয়?
  • উত্তমকুমার নিষ্ঠাভরে বাড়ির লক্ষ্মীপুজো করতেন। তাই এই পুজোর নামই হয়ে গিয়েছিল ‘উত্তমকুমারের বাড়ির পুজো’। এখনও এই পুজো এ ভাবেই পরিচিত। পুজোর ঐতিহ্য এবং রীতি নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আড্ডা দিলেন উত্তম কুমারের ভাইঝি ও নাতনি।
  • সময় করে বসে পুজোর জন্য আলপনা দেওয়া এক প্রকার বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। শহরে তো বটেই, মফস্‌সলেও। ইদানীং সমাজমাধ্যমের রিলে হাতপাখা থেকে শুরু করে পুরনো শাড়ি, চায়ের টেবিল থেকে ডায়েরির মলাট কিংবা বসার ঘরের মেঝে, সর্বত্র আলপনা দিচ্ছেন হুজুগে মানুষজন।
Durga Puja Home decor ideas

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy