Advertisement
E-Paper

টেনিস নয়, সন্তানেরা বেছে নিক পছন্দের পথ! অভিভাবকত্বে ভিন্ন ধারণায় বিশ্বাসী আন্দ্রে-স্টেফি

তাঁদের শৈশব হারিয়েছিল প্রত্যাশা পূরণের স্বপ্নে। কিন্তু ছেলেমেয়েদের নিজের স্বপ্নে বাঁচা সুযোগ দিচ্ছেন গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী টেনিস তারকা আন্দ্রে আগাসি ও স্টেফি গ্রাফ। শেখাচ্ছেন, অভিভাবকত্ব কেমন হওয়া উচিত।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩:৫৫
Andre Agassi and Steffi Graf’s Parenting Philosophy, choosing Freedom over Force

বিশ্বজয়ী টেনিস তারকাদের অভিভাবকত্বের ধারণা দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। ফাইল চিত্র।

টেনিসে বিশ্বজয় করেছেন বাবা-মা। বাবা আন্দ্রে আগাসি। আটটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম তাঁর ঝুলিতে। মা স্টেফি গ্রাফ জিতেছেন ২২টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম। টেনিস তারকা বাবা-মায়ের ছেলেমেয়েরা কিন্তু টেনিসে বিশ্বজয় করার স্বপ্ন দেখেন না। তাঁরা বেছে নিয়েছেন অন্য পথ। ছেলে জাডেন আগাসি খেলেন বেসবল, মেয়ে জ্যাজ় এলিসের পছন্দ নাচ-গান, ঘোড়ায় চড়া। সন্তানদের উপর নিজেদের প্রত্যাশা চাপিয়ে দেননি আগাসি ও স্টেফি। বরং নিজের মতো করে বাঁচার পরামর্শ দিয়েছেন সবসময়ে। বিশ্বজয়ী টেনিস তারকাদের কাছে অভিভাবকত্বের সংজ্ঞাটা আলাদা। সেখানে শাসন যেমন আছে, তেমনই সন্তানের জন্য স্বাধীনতার পথটাও খোলা।

আগাসি ও স্টেফির শৈশব অতটা মসৃণ ছিল না। আগাসি নিজেই জানিয়েছেন, ছোট থেকে টেনিস খেলতেন। ভালই খেলতেন। তাই তাঁর উপর প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। বাড়ির সকলেই চাইতেন আগাসি বড় হয়ে টেনিসে চ্যাম্পিয়ন হবে। শৈশব থেকেই তাই বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখতে দেখতে আর পাঁচটা শিশুর মতো হেসেখেলে বড় হয়ে ওঠা হয়নি। টেনিসের র‌্যাকেটই ছিল তাঁর খেলার সঙ্গী। স্টেফি গ্রাফের অভিজ্ঞতাও অনেকটা তেমনই। ছোট থেকে খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই বড় হয়েছেন। বাবা-মায়েরও আশা তেমনই ছিল। তাই দুই খেলোয়াড় বাবা-মা চাননি যে তাঁদের সন্তানেরাও তেমনই কোনও চাপের পরিবেশে বড় হয়ে উঠুক। কঠিন, নিরস দমবন্ধ করা প্রতিযোগিতার মঞ্চে ঠেলে না দিয়ে, বরং সন্তানকে নিজের পছন্দের পথ খুঁজে নেওয়ারই পরামর্শ দিয়ে গিয়েছেন আগাসি-স্টেফি।

সন্তানদের সঙ্গে আগাসি-স্টেফি।

সন্তানদের সঙ্গে আগাসি-স্টেফি।

জাডেন ও জ্যাজ়ের কাছে আগাসি ও স্টেফি কোনও টেনিস কোচ নন, কেবলই বাবা-মা। তাঁদের কখনওই পেশাদার টেনিস খেলোয়াড় হওয়ার জন্য জোর করা হয়নি। আর পাঁচজন শিশুর মতোই শৈশব উপভোগ করেছেন তাঁরা। তারকা দম্পতি জানিয়েছেন, অভিভাবকত্বের আসল উদ্দেশ্যই হল সন্তানকে সঠিক পথ দেখানো। সে পথ তাদের পছন্দমতো হলে ক্ষতি কী! নাম-যশ পেতেই হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই, বরং মানসিক ভাবে সুস্থ থাকাটাই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আগাসি-স্টেফির অভিভাবকত্বের ধারণা অনেক কিছু বদলে দিতে পারে। দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে আরও অনেক বাবা-মায়ের কাছেই। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণা দেখিয়েছে, যে সব বাবা-মা খুব বেশি কড়া, সারাক্ষণ নিয়ন্ত্রণ করতে চান সন্তানদের, তাঁদের সন্তানরাই সবচেয়ে তাড়াতাড়ি ইন্টারনেটে আসক্ত হয়ে পড়ে। মাদকাসক্তও হয়ে পড়ে কেউ কেউ। তাদের বেশির ভাগ মিশতে শেখে না, খেলতে শেখে না, নিজেকে গুটিয়ে রাখতে পছন্দ করে। সন্তান যদি সহজে মা-বাবার নাগাল না পায়, দিনের শেষে অকৃত্রিম স্নেহের বদলে তর্জনী তোলা শাসনে কুঁকড়ে যেতে থাকে, তা হলে সে স্বস্তির জন্য অন্য জগৎ খুঁজে নেবেই। নিজের মতো চলতে গিয়ে আরও বেশি ভুল পথে যাবে। তাই ছোট থেকে তাদের জীবনের লক্ষ্য বেঁধে না দেওয়াই ভাল। বড় হয়ে কী হতে চাও— এই প্রশ্নের উত্তরটা ওকেই দিতে দিন না।

Parenting Tips Andre Agassi Steffi Graf

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy