শিশুশিল্পী হিসাবে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন অভিনেত্রী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়। ১৯৬৭ সালে ‘বালিকা বধূ’ ছবিতে যখন অভিনয় করেন, তখন তাঁর বয়স ১৩। দু’বছরের মধ্যে তাঁরও বিয়ে হয়ে যায়। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের পুত্র জয়ন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন মৌসুমী। ১৭ বছর বয়সে প্রথম বার মা হন। অনেক পরে ১৯৯১ সালে দ্বিতীয় সন্তান হয় তাঁর। এক সাক্ষাৎকারে মৌসুমী জানিয়েছেন, তাঁর দ্বিতীয় সন্তান, ৩৫ বছরের কন্যা মেঘনা মুখোপাধ্যায়কে সম্পর্কের ব্যাপারে কী পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
দুই কন্যার জননী মৌসুমীর প্রথম সন্তান পায়েলের মৃত্যু হয়েছে ২০১৯ সালে। ছোট মেয়ে মেঘনাই এখন তাঁর একমাত্র সন্তান। মৌসুমী বলেছেন, ‘‘আমি আমার মেয়েকে বলি, তোমার প্রেমিক থাকতেই পারে। তার মানে এই নয় যে, সেই মানুষটিকে তোমায় বিয়ে করতেই হবে।’’
অনেক কম বয়সে সংসার এবং মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা হয়েছে মৌসুমীর। আর সেই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে তিনি অনেক কিছু শিখেছেন, বুঝেছেন। জীবনের প্রতি এখন অনেক বেশি প্রগতিশীল মনোভাব তাঁর। ৭০ বছর বয়সি অভিনেত্রী বলেছেন, ‘‘মেয়েদের এখন অনেক বেশি সতর্ক হওয়া দরকার। আর একটু স্বার্থপর হওয়া দরকার। কিছুটা হলেও আত্মকেন্দ্রিক হয়ে ভাবনাচিন্তা করা দরকার।’’ মৌসুমীর বক্তব্য, ‘‘সময় বদলায়। তার সঙ্গে নিজেকেও বদলাতে হয়। ভগবদ্গীতাতেও বলা আছে, পরিবর্তনই সংসারের একমাত্র নিয়ম, যা স্থিতিশীল।’’
অভিনেত্রী মনে করেন, বদলে যাওয়া সমাজের সঙ্গে মানসিকতারও বদল হওয়া দরকার। এ ব্যাপারে বাবা-মা বা বাড়ির বড়দের মানসিকতা বদলানো সবার আগে দরকার বলে মনে করেন তিনি। মৌসুমী বলেছেন, ‘‘এখন আর শুধু মেয়েদের শেখালে চলবে না, বাড়ির কাজ করতে হবে। ছেলেদেরও সেই একই কথা শেখানো হবে না কেন? কেন শুধু মেয়েদেরই বলা হবে, শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের ভাল-মন্দের খেয়াল রাখতে হবে? কেন ছেলেরাও সেই একই দায়িত্ব কাঁধে নেবে না? কেন বাড়ির কাজকর্ম শুধু মেয়েরাই করবে, কেন বলা হবে, ওগুলো পুরুষের কাজ নয়? ’’
তবে এ সব কিছুর ঊর্ধ্বে সম্পর্কে নিজের ভুল থেকেই শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অভিনেত্রী। তরুণ প্রজন্মকে তাঁর পরামর্শ, ‘‘যা ভাল লাগে করো, কিন্তু কোনও কিছু নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি কোরো না। ভুল হতেই পারে। তবে যদি ভুল করো, তার পুনরাবৃত্তি কোরো না আর। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে চলো। আমিও আমার জীবনে ভুল করেছি। কিন্তু তার পুনরাবৃত্তি করিনি কখনও। ’’