Advertisement
E-Paper

চেন্নাইয়িনের বিরুদ্ধে কোনও মতে জয় মোহনবাগানের, শেষ বেলায় মনবীরের গোলে ঘরের মাঠে মানরক্ষা

ঘরের মাঠে মোহনবাগান ১-০ গোলে হারাল চেন্নাইয়িনকে। ম্যাচের শেষ দিকে একমাত্র গোলটি করেন মনবীর সিংহ। মোহনবাগানে গোল করার ফুটবলারের কতটা অভাব তা আরও এক বার প্রকট হয়ে গেল।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ২১:৩৫
football

গোলের পর মনবীরের সঙ্গে উচ্ছ্বাস শুভাশিসের। ছবি: সমাজমাধ্যম।

মোহনবাগান ১ (মনবীর)
চেন্নাইয়িন ০

ঘরের মাঠে চেন্নাইয়িনের বিরুদ্ধে নামার আগে মোহনবাগানের প্রধান চিন্তা ছিল গোল করার লোকের অভাব। ম্যাচের পর বোঝা গেল, আশঙ্কা নেহাত অমূলক ছিল না। চেন্নাইয়িনের মতো লিগ তালিকায় নীচের দিকে থাকা দলের বিরুদ্ধেও গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হল ৮৫ মিনিট পর্যন্ত। শেষ পর্যন্ত মনবীর সিংহের গোলে কোনও মতে তিন পয়েন্ট এল ঘরে। কিন্তু মোহনবাগানের সমস্যা তাতে মিটল না।

ঘরের মাঠে মোহনবাগানের খেলা একেবারেই দর্শকদের খুশি করতে পারেনি। গোটা ম্যাচে প্রচুর গোলের সুযোগ নষ্ট করেছে মোহনবাগান। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তারা ছন্দ হারিয়ে ফেলে খারাপ ফুটবল খেলেছে। পাশাপাশি বিশাল কাইথ কয়েকটি নিশ্চিত গোল না বাঁচালে এ দিন তিন পয়েন্ট নিয়ে মোহনবাগানের ফেরারই কথা নয়। শেষের দিকে নিকোলা স্টোজানোভিচের শট বারে লেগে না ফিরলে ওখানেই ম্যাচ শেষ করে দেয় চেন্নাইয়িন।

ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচে নামার আগেই একাধিক সমস্যায় ছিলেন মোহনবাগানের কোচ পানাজিয়োটিস দিমপেরিস। মিগুয়েল ফিগুয়েরা এবং আপুইয়াকে তিনি পাননি চোট এবং অসুস্থতার কারণে। ছিলেন না জেমি ম্যাকলারেনও। ফলে গোল কে করবেন তা নিয়ে সন্দেহ ছিলই। সেটাই প্রকট হয়ে দেখা দিল ম্যাচে।

এ দিন যুবভারতীতে নতুন জার্সি পরে নেমেছিল মোহনবাগান। কিন্তু নতুন জার্সিতে নতুন খেলা দেখা গেল না। বরং যত দিন যাচ্ছে মোহনবাগানের খেলা তত খারাপ হচ্ছে। দেজান দ্রাজিচ, সামির জেলকোভিচেরা খারাপ পারফরম্যান্সের ব্যাপারে একে অপরকে ছাপিয়ে যাচ্ছেন।

১০ মিনিটে আলবের্তো রদ্রিগেজ় একটি সুযোগ পেয়েও হেলায় নষ্ট করলেন। এর পর দ্রাজিচ সুযোগ নষ্ট করলেন। লি আরউইনের শট বাঁচিয়ে দিলেন চেন্নাইয়ের গোলকিপার। ফিরতি বলে গোল করতে পারেননি মনবীর। উল্টে চেন্নাইয়িন যে ভাবে আক্রমণ করছিল তাতে প্রথমার্ধে গোল না করা তাদের কাছে দুর্ভাগ্যের। একাধিক বার বিশালের হাতে বেঁচে যায় মোহনবাগান। সুযোগ নষ্টের হ্যাটট্রিক করে ক্লিফোর্ড মিরান্ডার দল।

দ্বিতীয়ার্ধেও চেন্নাইয়িনের দাপট বজায় ছিল। মাঝমাঠে খেলা নিয়ন্ত্রণ করছিলেন মাদিহ তালাল এবং স্টোজানোভিচ। তাঁদের জুটি থামাতে বেগ পেতে হয়েছে মোহনবাগানকে। তবে দু’টি বদল মোহনবাগানকে খেলায় ফেরায়। প্রথমার্ধে নিজেদের অর্ধেই ঘোরাফেরা করছিলেন লালিয়ানজুয়ালা ছাংতে। তাঁর জায়গায় পানোস আনেন সাহাল সামাদকে। সামিরের বদলে নামেন অনিরুদ্ধ থাপা। তাতে মোহনবাগানের মাঝমাঠের খেলা সঙ্ঘবদ্ধ হয়। আক্রমণও বাড়ে। কেন এই দু’জনকে শুরু থেকে নামানো হল না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

গ্যালারিতে বসে ম্যাচ দেখেছেন জোসে রামিরেজ ব্যারেটো। আরউইন, জেলকোভিচদের গোল নষ্টের বহর দেখে তিনি হয়তো কপাল চাপড়েছেন। ক্যামেরা এক বার তাঁকে ধরার সময় বেশ হতাশ দেখাচ্ছিল ‘সবুজ তোতা’র মুখ। ভাবছিলেন, তিনি নামলে হয়তো এখনও এই গোলগুলি করে দিতে পারতেন।

শেষ পর্যন্ত ৮৫ মিনিটে গোল আসে। বাঁ প্রান্ত ধরে উঠে এসেছিলেন লিস্টন কোলাসো। তাঁর গতি অনুসরণ করে বক্সে পৌঁছে গিয়েছিলেন মনবীর। বিপক্ষের গোলকিপার মহম্মদ নওয়াজের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে গোল করেন পঞ্জাবি স্ট্রাইকার। গোল খেয়েও আক্রমণের ঝাঁঝ কমেনি তাদের। শেষ পর্যন্ত লড়ে গেল চেন্নাইয়িন। শুধু গোলটাই পেল না।

দেশের অন্যতম সেরা ফুটবলারদের দলে রেখেছে মোহনবাগান। কিন্তু রাহুল ভেকে, মেহতাব সিংহ, ছাংতেদের মধ্যে এখনও বোঝাপড়াই তৈরি হয়নি। কে কেমন খেলবেন, তাঁদের ভূমিকা কী সেটা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে। কোচ পানোস কী নির্দেশ দিচ্ছেন দলকে তা বোঝা যাচ্ছে না। প্রতিটি ম্যাচেই মোহনবাগানের দুর্বলতা স্পষ্ট হচ্ছে। এত বড় লিগে মোহনবাগান শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে থাকতে পারবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

Mohun Bagan ISL 2026-27 Chennaiyin FC

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy