প্রযুক্তি চুরির মামলায় বিপাকে আইফোন নির্মাণকারী অ্যাপ্ল। তাদের ৫৭০ কোটি ডলার জরিমানা করল আমেরিকার একটি আদালত। ভারতীয় মুদ্রায় অঙ্কটা প্রায় ৫৪,৬১৬ কোটি টাকা। ওই অর্থ সান-দিয়েগোর প্রযুক্তি সংস্থা ট্যাকশন টেকনোলজিকে দিতে বলা হয়েছে। এদের ‘পেটেন্ট’ পাওয়া প্রযুক্তি আইফোন এবং অ্যাপ্ল ঘড়িতে ব্যবহার করা হয়েছে বলে মার্কিন টেক জায়ান্টটির বিরুদ্ধে উঠেছে অভিযোগ।
শুক্রবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, অ্যাপ্লকে জরিমানার রায় শোনায় আমেরিকার একটি স্থানীয় আদালত। সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে ওই মার্কিন টেক জায়ান্ট। এটা যে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম বড় মামলা হতে যাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। যদিও সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও বিবৃতি দেয়নি তারা।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার জেলা আদালতে অ্যাপ্লের বিরুদ্ধে প্রযুক্তি চুরির মামলা করে ট্যাকশন টেকনোলজি। সান দিয়েগোর সংস্থাটির বক্তব্য, কোনও অনুমতি না নিয়ে তাদের পেটেন্ট করা ভাইব্রেশন প্রযুক্তি বিভিন্ন ডিভাইসে ব্যবহার করছে আইফোন নির্মাণকারী ওই মার্কিন টেক জায়ান্ট। ২০২৩ সালে এই আপিল খারিজ হলেও কিছুদিন পরে ফের শুরু হয় এর শুনানি।
অ্যাপ্ল বনাম ট্যাকশনের এই আইনি লড়াইয়ের নেপথ্যে রয়েছে দু’টি পেটেন্ট নম্বর। সেগুলি হল, ১০৬৫৯৮৮৫ এবং ১০৮২০১১৭। দু’টি প্রযুক্তিই বৈদ্যুতিন ডিভাইসের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ায় কম্পনের অনুভূতি তৈরিতে সক্ষম। সান দিয়েগোর সংস্থাটির অভিযোগ, তাদের না জানিয়েই আইফোন এবং অ্যাপ্ল ঘড়িতে ‘ট্যাপটিক ইঞ্জিন’ নামের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
২০১৪ সালে অ্যাপ্ল ঘড়িতে প্রথমবার ‘ট্যাপটিক ইঞ্জিন’কে অন্তর্ভুক্ত করে আইফোন নির্মাণকারী সংস্থা। ফলে, সংশ্লিষ্ট ডিভাইস থেকে নির্ভুল তথ্য পাওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি চুরির মামলায় সাত জন জুরি দু’দিন ধরে আলোচনার পর মার্কিন টেক জায়ান্টিকে দোষী সাব্যস্ত করে। আর তাই ট্যাকশনের পক্ষে রায় ঘোষণার পাশাপাশি জরিমানাও দিতে বলেছে তাদের।
মামলায় হেরে যাওয়ার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় অ্যাপ্ল জানিয়েছে, তাদের কম্পন প্রযুক্তি ‘ট্যাপটিক ইঞ্জিন’-এর থেকে ভিন্ন। শুধু তা-ই নয়, কোনও ডিভাইসেই বাইরের সংস্থার তৈরি করা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় না বলে স্পষ্ট করেছে আইফোন নির্মাণকারী এই সংস্থা। অন্য দিকে, আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে সান দিয়েগোর সংস্থা ট্যাকশন টেকনোলজি।