দরকার নেই হাত-পা নাড়ার। কোনও কিছু চিন্তা করলেই আপনার কাজ করে দেবে কম্পিউটার! আমজনতাকে সেই সুবিধা দিতেই মস্তিষ্কে চিপ বসানোর গবেষণা চালাচ্ছে নিউরালিঙ্ক কর্পোরেশন। সম্প্রতি, তাতে বিরাট সাফল্য মেলায় খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে ধনকুবের মার্কিন শিল্পপতি ইলন মাস্কের ওই সংস্থা।
গত কয়েক বছর ধরেই মস্তিষ্কে চিপ বসানোর হিউম্যান ট্রায়াল শুরু করেছে নিউরালিঙ্ক। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কথায়, এই কাজ মোটেই সহজ নয়। জটিল এই অস্ত্রোপচারে প্রথমে কাটতে হয় মাথার চামড়া। দ্বিতীয় ধাপে খুলির হাড় চিরে তার নীচের ডুরা স্তরে পৌঁছোন শৈল্য চিকিৎসক। সেখানে আবার থাকে জেলির মতো একটা স্তর। এর নীচে থাকে মানবমস্তিষ্ক।
আরও পড়ুন:
এ-হেন জটিল গঠনের জন্যই চিপ বসাতে গিয়ে প্রথম দিকে ব্যর্থ হয় নিউরালিঙ্ক। বিজ্ঞানীরা যখনই ডুরা কাটতেন, তখনই নীচ থেকে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে বেরিয়ে আসত ওই জেলির মতো স্তর। ফলে অস্ত্রোপচারের পর বেশ কিছু সমস্যা দেখা যাচ্ছিল। এর মধ্যে অন্যতম হল তীব্র মাথার যন্ত্রণা এবং দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলা।
এই পরিস্থিতিতে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু করে নিউরালিঙ্ক। বিজ্ঞানীরা ঠিক করেন, জেলির মতো স্তরটি এড়িয়ে মস্তিষ্কে বসানো হবে চিপ। তখন আবার নতুন চ্যালেঞ্জ চলে আসে তাঁদের সামনে। কারণ, মস্তিষ্কের সঙ্গে যুক্ত থাকে অসংখ্য স্নায়ু। অস্ত্রোপচারের সময় সেগুলির কোনও একটা কেটে গেলে মৃত্যু হতে পারে রোগীর। কিংবা পঙ্গুও হয়ে পড়তে পারেন তিনি।
আরও পড়ুন:
আর বর্তমানে মানবমস্তিষ্কে চিপ বসানোর ক্ষেত্রে বিশেষ এক ধরনের তরল ব্যবহার করছে নিউরালিঙ্ক। অস্ত্রোপচারের সময় সেটা ঢেলে দিলে স্পষ্ট ফুটে উঠছে স্নায়ু। ফলে কমছে ঝুঁকি। তা ছাড়া অভিজ্ঞ চিকিৎসক নয়, রোবটের সাহায্যে করা হচ্ছে এই অস্ত্রোপচার। সময় লাগছে মাত্র ২০ মিনিট।
সূত্রের খবর, প্রথম দিকে মস্তিষ্কে চিপ বসানোর পর সুস্থ হতে সময় লাগছিল দু’-তিন মাস। সেটাই বর্তমানে কয়েক সপ্তাহে নেমে এসেছে। বিশেষ ভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের কথা ভেবে সংশ্লিষ্ট চিপ তৈরি করেছে মাস্কের নিউরালিঙ্ক। চিন্তাশক্তির জোরেই একে দিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ করিয়ে নিতে পারছে মস্তিষ্ক।
আরও পড়ুন:
একটি উদাহরণের সাহায্যে বিষয়টি বুঝে নেওয়া যেতে পারে। বিশেষ ভাবে সক্ষম বহু ব্যক্তিই খুব বেশি নড়াচড়া করতে পারেন না। তাঁদের মস্তিষ্কে চিপ বসাতে চাইছে মাস্কের সংস্থা। অস্ত্রোপচার হয়ে গেলে মস্তিষ্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাবে একটি কম্পিউটার। তখন শুধুমাত্র চিন্তা করে তাতে কিছু অ্যাপ্লিকেশন চালাতে পারবেন ওই ব্যক্তি। হাত-পায়ের ব্যবহার না করেই খেলা যাবে ভিডিয়ো গেম।