দীপাবলি উৎসব মানেই যে ঘর পরিষ্কার, পুজো, আতসবাজি, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো— এমন ভাবনায় বদল আসতে শুরু করেছে বহু দিনই। পরিবারের সঙ্গে ঘরে থাকা নয়, বরং কালীপুজো, দীপাবলির ছুটিকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই চাইছেন বেড়িয়ে পড়তে। পায়ের তলার যাঁদের সর্ষে, পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনার মতো একটু ছুটি পেলেই তাঁরা বেরিয়ে পড়তে চান। তবে সাম্প্রতিক অনলাইন ভ্রমণ সংস্থা, ঘর বুকিং সংস্থার তথ্য বলছে, ১৫-২৪ বছর বয়সিদের মধ্যে বিমানের টিকিট বুকিং এক ধাক্কায় বেড়েছে ৬০ শতাংশ। ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সিদের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির হার মাত্র ৬ শতাংশ। তা থেকে অনুমান, সফরে উৎসাহী কম বয়সিরাই।
দেশের ভিতরে ভ্রমণের চাহিদা বাড়ছে: একটি জনপ্রিয় আবাস বুকিং সংস্থা-র হিসাব বলছে, উৎসবের মরসুমে দেশের অভ্যন্তরীণ গন্তব্যগুলিতে ভ্রমণের জন্য থাকার জায়গার খোঁজ বৃদ্ধি পেয়েছে। সার্বিক ভাবে গত বছরের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। তরুণ প্রজন্মের ঘর খোঁজার হার বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।
আরও পড়ুন:
শহর থেকে শুরু করে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র— সব জায়গাতেই বুকিংয়ের জোয়ার এসেছে। জনপ্রিয় একটি অনলাইন ট্রাভেল প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, বিমানের টিকিটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে লক্ষদ্বীপের অগাতীর জন্য। টিকিটের চাহিদা ১৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছ। এর পরেই তালিকায় রয়েছে বিহারের গয়া, নাগাল্যান্ডের ডিমাপুর, রাজস্থানের উদয়পুর, অসমের ডিব্রুগড়, উত্তরপ্রদেশের গোরখপুর, মধ্যপ্রদেশের জবলপুর, মণিপুরের ইম্ফল, উত্তরাখণ্ডের দেহরাদূন। হোটেল বুকিংয়ের ক্ষেত্রে উদয়পুর এগিয়ে রয়েছে, চাহিদা ৩১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তালিকায় রয়েছে বেঙ্গালুরু এবং জয়পুর। সামগ্রিক ভাবে ছুটিতে হোটেল বুকিং বেড়েছে প্রায় ১৩৫ শতাংশ।
তরুণ প্রজন্ম এবং পরিবারের পছন্দের গন্তব্য
জনপ্রিয় আবাস বুকিং সংস্থা-য় সার্চের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন বয়সিদের পছন্দ এ ক্ষেত্রে বেশ আলাদা। তরুণদের পছন্দের তালিকায় থাকছে বারাণসী এবং কলকাতা, উত্তর এবং দক্ষিণ গোয়া, বেঙ্গালুরুর মতো জায়গায়। পারিবারিক ভ্রমণের পছন্দের তালিকায় এগিয়ে রয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগর, হিমাচল প্রদেশের কাংড়া , অমৃতসর, গুয়াহাটি, নাসিক এবং মেঘালয়ের মতো পর্যটনস্থলগুলি।
বিদেশ ভ্রমণের ঝোঁকও যথেষ্ট
উৎসবের ছুটিতে বিদেশ ভ্রমণে আগ্রহও চোখে পড়ার মতো। তাইপেই, সেবু, ডাবলিন, ফু কক এবং ওসাকা-র বিমানের টিকিট বুকিং অনেকটাই বেড়েছে। তথ্য এবং পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, দীপাবলি ঘরে বসে উদ্যাপন না করে দেশের ভেতরে কিংবা বিদেশে ঘুরে আসার উদ্যোগ এবং উৎসাহ বাড়ছে।