সপ্তাহশেষে দু’দিন জিরিয়ে নেওয়ার ঠিকানা চাই, কিংবা পুজোয় ভিড় এড়িয়ে যেতে চাইছেন কোথাও? তালিকায় থাকুক ওড়িশারই এক ঝাউঘেরা নিরালা এক সমুদ্র সৈকত।
ইদানীং দুবলাগড়ি বা বাগদা সৈকত পর্যটক মহলে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। তারই সঙ্গে সঙ্গে সৈকতগুলি হারিয়েছে নির্জনতা। তবে নিরালার সঙ্গ চাইলে তালিকায় জুড়তে পারেন পরিখী। জায়গাটি ওড়িশার বালেশ্বর থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার দূরে।
পরিখী এখনও অকৃত্রিম। শ’য়ে শ’য়ে লাল কাঁকড়ার আনাগোনা সৈকতজুড়ে। বেলাভূমি জুড়ে ছড়িয়ে থাকে অজস্র ঝিনুক, ভেসে আসে শঙ্খ। সৈকতেই সময় কাটাতে পারেন দিনভর। সূর্যোদয়, সূর্যাস্তের রূপ বড় মোহময়। তবে আশপাশ দেখতে চাইলে সকালের জলখাবার খেয়ে বেরিয়ে পড়তে পারেন বুড়িবালামের উদ্দেশে।
নদীর ধারে সার বাঁধা পানসি। খেয়া চেপে ভেসে যেতে পারেন জলপথে। মাঝিভাই বৈঠা বাইলেই মুখেচোখে ঝাপটা দেবে হাওয়া। ধীরে ধীরে প্রশস্ত নদী ছাড়িয়ে খাঁড়িপথে ঢুকলেই দেখা দেবে ম্যানগ্রোভের সারি। উড়ে বেড়াবে সিগাল।
চাইলে পরীখি থেকে গাড়ি করে চলুন কাসাফলের উদ্দেশে। শেষের দিকে কিছুটা ঝাউবনের মধ্যে হাঁটাপথ। শরতে এই পথে সঙ্গ দেবে কাশফুল। ঝাউবন পার করলেই কোথা থেকে যেন সামনে এসে পড়বে সমুদ্র। পরীখি, কাসাফল— প্রতিটি সৈকতই নিরালা। উৎসুক পর্যটকেরা আসেন বটে, তবে তেমন ভিড় কখনও থাকে না। আসলে এই স্থান এখনও রয়ে গিয়েছে অনেকেরই জানাশোনা বা পছন্দের পরিধির বাইরে।
আরও পড়ুন:
দিন দুই রাখুন পরীখি-কাসাফলের জন্য। তবে চাইলে আরও দিন দুই জুড়ে আশপাশের বেশ কিছু জায়গাও ঘুরে নিতে পারেন। যেতে পারেন বালেশ্বরের কাছে ক্ষীরচোরা গোপীনাথ মন্দির, ইমামি জগন্নাথ মন্দির। চলে যেতে পারেন পঞ্চলিঙ্গেশ্বরেরও দিকেও। পঞ্চলিঙ্গেশ্বর ভ্রমণের জন্য একটি দিন বরাদ্দ করতে পারেন।
কী ভাবে যাবেন?
ওড়িশাগামী যে ট্রেন বালেশ্বর যাচ্ছে সেগুলির কোনও একটিতে যেতে পারেন। হাওড়া, সাঁতরাগাছি থেকে একাধিক ট্রেন মিলবে। কলকাতা থেকে বাসেও বালেশ্বর যাওয়া যায়। মোটামুটি ৬-৭ ঘণ্টা সময় লাগে। সড়কপথে বালেশ্বর সমস্ত বড় শহরের সঙ্গে যুক্ত। কলকাতা থেকে দূরত্ব প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। গাড়িতেও যেতে পারেন।
কোথায় থাকবেন?
থাকার জন্য হাতেগোনা কয়েকটি হোটেল। এসি, নন এসি ঘরের পাশাপাশি, তাঁবুতেও থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে। খাবার মিলবে থাকার জায়গাতেই। সাধারণ ঘরোয়া খাবার। তবে টাটকা মাছের অভাব হবে না।