ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইরানশাহরের বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার ছবি এবং ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আনলেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন করে টানা সংঘাত শুরু হওয়ার দ্বিতীয় দিনে ইরানের বিমানঘাঁটিতে এই হামলা চালায় আমেরিকা। জানা গিয়েছে, ইরানের ওই বিমানঘাঁটিটি ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) আংশিক ভাবে ব্যবহার করছিল। ভাইরাল হয়েছে সেই হামলা সংক্রান্ত ট্রাম্পের শেয়ার করা ছবি এবং ভিডিয়ো। যদিও সেগুলির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
নতুন করে উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। ইরানের বিরুদ্ধে ফের সামরিক হামলার হুমকি আগেই দিয়ে রেখেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প তাঁর আগের হুমকি পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছিলেন, হরমুজ় প্রণালীতে তেহরান যে ভাবে বিভিন্ন জাহাজে হামলা চালাচ্ছে, তার চেয়ে ২০ গুণ বেশি শক্তিশালী আঘাত ইরানের উপর হানবে মার্কিন সেনা। সেই আবহেই বুধবার মধ্যরাতে ইরানে নতুন করে হামলা চালায় আমেরিকা। ইরানের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলের একাধিক স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে বুশেহর— যেখানে ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি অবস্থিত। এ ছাড়াও হামলা চালানো হয়েছে দক্ষিণের বন্দরনগরী চাবাহার, কোনারাক, বন্দর আব্বাস এবং সিরিকে। পাশাপাশি ইরানশাহরের একটি বিমানঘাঁটিও মার্কিন সামরিক হামলার শিকার হয়েছে। সেই বিমানঘাঁটি মার্কিন হামলায় উড়িয়ে দেওয়ার ভিডিয়োই নিজস্ব সমাজমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ পোস্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, মার্কিন হামলায় ইরানের বিমানঘাঁটিতে ভয়ানক বিস্ফোরণ। আগুনের গোলা আকাশ পর্যন্ত উঠে গিয়েছে। কিছু ক্ষণ পর আবার একটি বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে বিমানঘাঁটির মাটি। বিস্ফোরণের আগুনের ছটায় আলোকিত হয়ে যায় আকাশ। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে।
জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর থেকে ইরানের বিস্তীর্ণ অংশে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। বুধবার রাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সমাজমাধ্যমের পোস্টে ইরানে হামলার খবর জানায়। এক্স হ্যান্ডলে তাদের বক্তব্য, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে তাদের বাহিনী হরমুজ় প্রণালীতে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ইরানের এই আস্ফালন অযৌক্তিক, বিপজ্জনক এবং যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করল আমেরিকার সেনা।”
তবে আমেরিকার এই পদক্ষেপের জেরে ইরান পাল্টা হামলা চালিয়েছে বাহরিন, কুয়েত ও কাতারে, যা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে করা একটি অন্তর্বর্তিকালীন সমঝোতা চুক্তিকে আবার হুমকির মুখে ফেলেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ইরানের চালানো হামলাগুলির অভিঘাত, সমঝোতা চুক্তির আগের হামলাগুলির থেকে বেশি। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের ওই তিনটি আরব দেশে ইরানের হামলায় কেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা জানা যায়নি। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা তাদের আকাশসীমার দিকে ধেয়ে আসা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলি সক্রিয় ভাবে প্রতিহত করছে।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার হরমুজ় প্রণালীতে তিনটি পণ্যবাহী জাহাজ আক্রান্ত হয়। তার পরেই আমেরিকা দাবি করে, এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে তেহরান। ওই জাহাজগুলির মধ্যে একটি ছিল ভারতমুখী। সেই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর বুধবার ভোর থেকে (স্থানীয় সময়) ইরানে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর মিলেছে। পাল্টা বাহরিন এবং কুয়েতে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরানও। ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সমুদ্রের জল পরিশোধনাগার (ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট) লক্ষ্য করে হামলা চালানো এবং তেল উৎপাদনকেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখল করার হুমকি দিয়েছেন।