ইরান লাগোয়া হরমুজ় প্রণালী দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ হয়। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরুর পর রণক্ষেত্রে পরিণত হয় সেই প্রণালী। হরমুজ়কে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে সেই অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধের বলি হন নিরপরাধ ভারতীয় নাবিকরা।
বিশ্বের মোট নাবিকদের মধ্যে প্রায় ১২.২ শতাংশ ভারতীয়, যাঁরা সমুদ্রপথে কর্মরত কর্মীদের অন্যতম বড় একটি অংশ। জুন মাসে প্রকাশিত রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলি আগ্রাসনের পর থেকে হরমুজ় এবং এর আশেপাশের এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজে চালানো হামলায় অন্তত ১৫ জন নাবিক নিহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে অনেকেই ভারতীয়।
আরও পড়ুন:
সম্প্রতি ভারতীয় নাবিকদের একটি সংগঠন এপ্রিল মাসের একটি পুরনো ভিডিয়ো প্রকাশ করেছে। এতে যুদ্ধরত দেশগুলির মধ্যেকার সংঘাতের মুখে পড়ে ভারতীয় নাবিকদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার চিত্র ফুটে উঠেছে। ‘দ্য ফরওয়ার্ড সিমেনস ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া’র (এফএসইউআই) শেয়ার করা ওই ভিডিয়োয় গত ২২ এপ্রিল হরমুজ় প্রণালীতে ভারতীয় নাবিকদের সঙ্গে ঘটা একটি ভয়াবহ পরিস্থিতির দৃশ্য রয়েছে। সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, মূলত ভারতীয় নাবিক থাকা একটি জাহাজকে কী ভাবে ঘিরে ফেলেছে ইরানের সশস্ত্র সেনা ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)’-এর একাধিক বোট। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, ঘটনা ঘটে পানামার পতাকাবাহী একটি কন্টেনার জাহাজকে কেন্দ্র করে, যার উপর হরমুজ় প্রণালীতে উত্তেজনা বৃদ্ধির সময় আইআরজিসি বোটগুলি থেকে গুলি চালানো হয়েছিল। ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, সংঘাত ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। এমনকি রকেটচালিত গ্রেনেডও (আরপিজি) ছোড়া হচ্ছে ভারতীয় নাবিক থাকা ওই জাহাজে। আর প্রাণ বাঁচাতে জাহাজের ভিতরে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে সরে যাচ্ছেন ওই নাবিকেরা। যদিও ভারতের নৌপরিবহণ মন্ত্রক পরে জানিয়েছিল, জাহাজটিতে ২১ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন এবং তাঁরা সকলেই অক্ষত ও নিরাপদ ছিলেন।
গত মাসে ঘটে যাওয়া ভারতীয় নাবিক-মৃত্যুর একটি ঘটনার জেরে ইরানকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিল নয়াদিল্লি। এ ছাড়াও, ওই অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত শুরুর প্রেক্ষাপটে জাহাজের মালিক, ব্যবস্থাপক এবং নিয়োগকারী সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন তারা হরমুজ় প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী কোনও জাহাজে ভারতীয় নাবিকদের মোতায়েন না করেন।
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে কেন্দ্রের ‘ডাইরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিং’-এর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জাহাজের উপর হামলার ঘটনাগুলি সংঘাতপূর্ণ এলাকায় চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ এবং নাবিকদের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি বিবেচনা করে ওই এলাকায় চলাচলকারী জাহাজে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের সুরক্ষার স্বার্থে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।’’
জাহাজগুলির ক্যাপ্টেনদেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন তাঁরা পারস্য উপসাগর, হরমুজ় প্রণালী এবং সংলগ্ন জলসীমার নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে সর্বদা সতর্ক থাকেন। পাশাপাশি নৌ-চলাচল সংক্রান্ত সতর্কবার্তাগুলির উপর কড়া নজর রাখারও আহ্বান জানানো হয়েছে সরকারের তরফে।