দিল্লি বিমানবন্দর থেকে গুরুগ্রাম যাওয়ার পথে ভীতিকর অভিজ্ঞতায় পরিণত হল এক তরুণীর ক্যাবযাত্রা! সমাজমাধ্যমে তেমনটাই দাবি করেছেন তানিশা শর্মা নামে ওই তরুণী। অ্যাপক্যাবে ঘটা ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। তানিশার অভিযোগ, ভাড়াকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিবাদ শেষ পর্যন্ত শারীরিক আগ্রাসন এবং হুমকির পর্যায়ে পৌঁছোয়। পুরো বিষয়টি ঘটেছিল তাঁর বাড়ির দরজার সামনেই।
এক্স পোস্টে তানিশা নামের ওই তরুণী জানান, ভোরবেলা তিনি দিল্লি পৌঁছোন। সেখান থেকে গুরুগ্রাম যাওয়ার জন্য একটি অ্যাপক্যাব সংস্থার ক্যাব বুক করেন। প্রায় ২০ মিনিটের পথ ছিল। অ্যাপে ভাড়া দেখানো হয়েছিল প্রায় ৬২৫ টাকা। তবে গন্তব্যে পৌঁছোনোর পর চালক তাঁকে অন্য একটি অ্যাপক্যাব সংস্থার স্ক্রিনশট দেখান, যেখানে ১,৪৭৯ টাকা ভাড়ার উল্লেখ ছিল। অভিযোগ, তানিশা সেই টাকা দিতে রাজি না হলে জোরাজুরি শুরু করেন চালক। হুমকির সুরে বলেন, তাঁকে এই বাড়তি টাকাই দিতে হবে।
আরও পড়ুন:
তানিশার দাবি, তিনি যখন চালককে জানান যে স্ক্রিনশটটি অন্য একটি প্ল্যাটফর্মের, তখন চালক উত্তরে বলেন, “এই রুটের ভাড়া এমনই হয়।” তরুণী জানান, তিনি যে অ্যাপের মাধ্যমে ক্যাব বুক করেছিলেন, সেখানো দেখানো ৬২৫ টাকাই পরিশোধ করেন চালককে। আর তার পরেই নাকি পরিস্থিতি ভয়াবহ মোড় নেয়। অভিযোগ, চালক গাড়ির দরজা লক করে দেন এবং ১,৪৭৯ টাকা না দেওয়া পর্যন্ত তনিশাকে তাঁর মালপত্র নিতেও বাধা দেন। তানিশা যখন নিজের জিনিসপত্র নেওয়ার চেষ্টা করেন, তখন চালক তাঁর হাত চেপে ধরেন এবং সামনের সিটের জানলাটিও বন্ধ করে দেন।
তানিশা জানিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত তিনি তার ব্যাগগুলি উদ্ধার করতে সক্ষম হন এবং বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করেন। তাঁর অভিযোগ, চালক তাঁকে অনুসরণ করে জোর করে বাড়ির সদর দরজা খুলে ফেলেন। গালিগালাজও করেন। তানিশা কোনও মতে বাড়ির ভিতরে ঢুকে দরজা আটকে দিলে চালক গেট বেয়ে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। গালিগালাজ করে প্রাণনাশের হুমকিও দিতে থাকেন বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুন:
পুরো ঘটনাটি ব্যাখ্যা করে এক্স পোস্টে তানিশা লিখেছেন, ‘‘এটি আর কেবল ভাড়া সংক্রান্ত কোনও বিরোধ ছিল না।’’ বিষয়টিকে তিনি ভয় দেখানো, শারীরিক আগ্রাসন এবং নিজের বাড়ির দোরগোড়ায় তাঁর নিরাপত্তার লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পাশাপাশি অভিযোগ করেছেন, যোগাযোগের চেষ্টা করা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট অ্যাপক্যাব সংস্থার তরফে কোনও সহায়তা পাননি তিনি। সংস্থার নিরাপত্তা দলের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, কী ঘটেছে তা জানানোর সময় তিনি সংস্থার অ্যাপে নিরাপত্তা সহায়তা (সেফটি সাপোর্ট) অপশনটি খুঁজে পাননি। তিনি এক্স পোস্টে ওই সংস্থাকে এবং ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত অ্যাকাউন্টগুলি ট্যাগ করে ঘটনার তদন্ত এবং কার্যকর পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছেন। এ ছাড়া, তিনি সংস্থাটিকে ওই যাত্রা সংক্রান্ত তথ্য এবং চালকের রেকর্ড সংরক্ষণ করার অনুরোধও জানিয়েছেন। যদিও ওই তরুণীর পোস্টের সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। তরুণীর অভিযোগও নিরপেক্ষ ভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, তরুণীর পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পরেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটাগরিকেরা। অনেক ব্যবহারকারী তানিশাকে পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একজন মন্তব্য করেছেন, “এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ। আপনার উচিত দিল্লি পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো। সংস্থার অ্যাপ থেকে খুব একটা কিছু করতে পারবেন না।” অন্য এক জনও তাঁকে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করার এবং আইনি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অনেকে সংস্থাটিকে দ্রুত এই অভিযোগ তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। একটি মন্তব্যে লেখা হয়েছে, “এটি অত্যন্ত ভয়াবহ এবং অগ্রহণযোগ্য ঘটনা। দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখুন এবং ওই চালককে আপনাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দিন।”
বিষয়টি নিয়ে সমাজমাধ্যমে হইচই পড়তেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অ্যাপক্যাব সংস্থাটিও। পোস্টের উত্তরে তারা লিখেছে, “আমরা আপনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং আপনাকে একটি মেসেজ পাঠিয়েছি। আপনি সরাসরি মেসেজের মাধ্যমে বিস্তারিত দেখতে পাবেন।’’ তবে ক্যাবচালকের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে সে বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি সংস্থা।