কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর সাহায্যে জটিল কাজও এখন অনেক সহজ। এআই টুল কাজে লাগিয়ে সম্পত্তি করের নথিতে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সবাইকে অবাক করে দিয়েছেন পুণের এক তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী। সমাজমাধ্যমে অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি দাবি করেছেন, সেই কাজটি করতে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা খরচ হবে বলে জানিয়েছিলেন এক আইনজীবী। সেখানে অনেক কম সময়ে এবং ন্যূনতম খরচে তিনি কাজটি সম্পন্ন করেছেন বলে জানা যায়। খবর, কৃত্রিম মেধার সাহায্যে ১ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকারও বেশি সাশ্রয় করেছেন ওই তরুণী প্রযুক্তিবিদ।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, প্রায় ১৫ বছর ধরে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কাজ করছেন বিদূলা বেম্বলকর। তিনি জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর সম্পত্তি করের নথিতে মালিকানার নাম পরিবর্তন করতে তাঁর আইনজীবী দেড় লক্ষ টাকা খরচের কথা বলেছিলেন। কিন্তু, এক বার প্রক্রিয়াটি যাচাই করে নিতে তিনি চ্যাটজিপিটি এবং জেমিনাইয়ের শরণাপন্ন হন। লিঙ্কডইনে ভাইরাল হওয়া পোস্টে তাঁর দাবি, অনলাইনে নিজেই মাত্র ১০ মিনিটে ২,৪৩২ টাকায় পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেন। যে ন্যূনতম টাকা তাঁর খরচ হয়েছে তা সরকারি ফি হিসেবে দিতে হয়েছিল বলেও জানা যায়। তবে, ওই পোস্টটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
বিদূলা বেম্বলকরের পোস্ট। ছবি: লিঙ্কডইন
৩৮ বছরের বিদূলা জানান, প্রায় এক মাস আগে পুণের পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় এলাকায় তাঁর সম্পত্তির সংস্কারের জন্য কাগজপত্র তৈরির সময় বিষয়টি সামনে আসে। তিনি বলেন, “তিন বছর আগে আমি আমার স্বামীকে হারাই। মানসিক আঘাতের পাশাপাশি, আমাকে পাহাড়প্রমাণ আইনি ঝক্কি পোহাতে হয়েছে। সঙ্গে ঘর-সংসারের গুরুদায়িত্ব। এত কিছুর জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। সম্পত্তি-সম্পর্কিত কাগজপত্র সংগ্রহ করার সময় দেখি সম্পত্তি করের নথিতে মালিকানার বিবরণ স্বামীর নামেই রয়েছে। তখনই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিই এবং পূর্বপরিচিত আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করি।”
আরও পড়ুন:
আইনজীবী যে খরচের কথা বলেছিলেন তা দিতে প্রস্তুতও ছিলেন বিদূলা। তবু যাচাই করে নিতে ক্ষতি কী? এমনটা ভেবে তিনি চ্যাটজিপিটি এবং জেমিনাই উভয় টুলেই প্রশ্ন করেন। তাঁর মতে, “দু’টি এআই টুলই প্রায় একই ধরনের উত্তর দেয়, যেখানে ধাপে ধাপে প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট পুরসভা পোর্টালগুলিতে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আইনি পরিভাষার পরিবর্তে, এআই আমাকে সরকারি পোর্টালটির একটি স্পষ্ট, ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা দিয়েছে। এটি প্রয়োজনীয় নথিপত্রের সঠিক তালিকাটি দেখিয়েছে এবং সরাসরি অনলাইনে সেগুলি আপলোড করার পুরো প্রক্রিয়াটি আমাকে দেখিয়ে দিয়েছে। বিষয়টি খুবই সহজ ছিল।”
ঘটনাটি প্রসঙ্গে ওই তরুণী বলেন, “জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া প্রায়ই নাগরিকদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় ভীতি সৃষ্টি করে। গ্রাহকদের এজেন্টদের সাহায্য নিতে বাধ্য করে। এআই টুলগুলি জটিল পদ্ধতিকে সহজ ভাষায় অনুবাদ করার মাধ্যমে এই ব্যবধান পূরণে সাহায্য করতে পারে। এআই নাগরিকদের কো-পাইলট হিসেবে কাজ করে তাঁদের সাহায্য করতে পারে। কিন্তু নাগরিকদেরও উচিত এআই চ্যাটবটের দেওয়া তথ্য, বিশেষত সরকারি ওয়েবসাইটের লিঙ্কগুলি যাচাই করে নেওয়া।”