নাসার ‘কিউরিয়োসিটি’ রোভারের তোলা মঙ্গলপৃষ্ঠের একটি দৃশ্য। দেখা যাচ্ছে, গেল ক্রেটার থেকে উত্থিত ‘মাউন্ট শার্প’, বাতাসের ক্ষয়কার্যে গঠিত ‘ইয়ারডাং’ নামের পাথুরে শৈলশিরা। ‘কিউরিয়োসিটি’র তোলা মঙ্গলপৃষ্ঠে ভোরবেলার সেই মনোমুগ্ধকর ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কোটি কোটি বছর আগে গঠিত এবড়ো-খেবড়ো পাথুরে খাঁজগুলি সূর্যের আলোয় ধীরে ধীরে উদ্ভাসিত হচ্ছে।
মঙ্গল গ্রহের বুকে ভোরের আলো। অপার্থিব সেই ছবি তুলে পাঠাল নাসার রোভার ‘কিউরিয়োসিটি’। ২০১২ সালে গেল ক্রেটারে নামার পরে ২০১৪ সাল থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার উঁচু ‘মাউন্ট শার্প’ পাহাড় চড়ছে রোবটযান। সূর্যোদয়ের প্রায় এক ঘণ্টা পরে দূরের খাঁজ কাটা পাহাড়ের চূড়ায় রোদের আলো পড়ার সেই দৃশ্য রোভারটির ‘মাস্টক্যাম’ ক্যামেরায় ধরা পড়ে। এক্সে (সাবেক টুইটার) নিজেদের হ্যান্ডলে সেই ছবি গত ৬ অক্টোবর প্রকাশ করে নাসা।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, কোটি কোটি বছর আগে বায়ুপ্রবাহ এবং অগ্ন্যুৎপাতের ছাই জমে পাথরে পরিণত হওয়া ‘ইয়ারডাং’ স্তরের ছবি এটি। ‘কিউরিয়োসিটি’ ইতিমধ্যেই পাহাড়ে এক কিলোমিটারের বেশি উচ্চতা অতিক্রম করেছে। ২০২৭ বা ২০২৮ সালের মধ্যে রোভারটি এই নতুন শিলাস্তরে পৌঁছে লালগ্রহের প্রাচীন ভূতত্ত্ব এবং আবহাওয়ার ইতিহাস খতিয়ে দেখবে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, মঙ্গলের এই সব পাহাড়ের এত বিস্তারিত ছবি এর আগে তোলা হয়নি। গত ১১ অগস্ট ‘কিউরিয়োসিটি’র ‘মাস্টক্যাম’ দিয়ে ছ’টি ছবি তোলা হয়। পরে ছবিগুলি জোড়া দিয়ে একটি বিস্তৃত দৃশ্যপট তৈরি করা হয় বলে জানা গিয়েছে। ছবিটিতে মঙ্গলের ভোরের আলোর স্বাভাবিক রূপ ধরে রাখা হয়েছে। নাসা জানিয়েছে, সকালের আলোয় পাহাড়ের প্রকৃত চেহারা ফুটে উঠেছে। খবর, ২০১২ সালে ‘কিউরিয়োসিটি’ মঙ্গলগ্রহের নিরক্ষরেখার কাছে অবস্থিত গেল ক্রেটারে অবতরণ করে এবং ২০১৪ সাল থেকে ক্রেটারের তল থেকে উঠে আসা ৫ কিলোমিটার (৩ মাইল) উঁচু পর্বত ‘মাউন্ট শার্পে’ আরোহণ করছে।
এ প্রসঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত নাসার ‘জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি’ এবং ‘কিউরিয়োসিটি’ প্রকল্পের বিজ্ঞানী অশ্বিন বাসাবাদা বলেন, “দূরের উজ্জ্বল, এবড়োখেবড়ো চূড়াগুলি হল একটি শিলাস্তর, যা দেখতে রোভারটির এ পর্যন্ত অতিক্রম করা সমস্ত স্তর থেকে বেশ আলাদা। আমরা মনে করি, এটি একসময় ছিল ছাই, যা কাছের আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে জ্বালামুখ থেকে এসে পড়েছিল। তা শক্ত হয়ে পাথরে পরিণত হয়। যুগ যুগ ধরে বাতাস এই শিলাস্তরকে ক্ষয় করে ‘ইয়ারডাং’ নামের শৈলশিরায় পরিণত করেছে।” নাসার মতে, পাহাড় বেয়ে ধীরে ধীরে ওঠার পথে রোভারটি এক কিলোমিটারেরও বেশি উচ্চতা অতিক্রম করেছে, যা মঙ্গলগ্রহে এ পর্যন্ত আরোহণ করা সর্বোচ্চ উচ্চতা।
বিজ্ঞানী অশ্বিন বাসাবাদা বলেন, “এই দৃশ্যটিতে এমন এক বন্যতা আছে যা আমাকে অ্যারিজ়োনার মনুমেন্ট ভ্যালিতে সড়কপথে ভ্রমণের কথা মনে করিয়ে দেয়। প্রায় নীরব এবং আকাশের নীচে অন্তহীন খোলা জায়গা। কিন্তু শুনতে যতই পরিচিত লাগুক না কেন, আকাশটি কমলা রঙের এবং সূর্যোদয়ে নীলের আভা রয়েছে। দেখতে পৃথিবীর মতো, কিন্তু পৃথিবী নয়। এটি নিশ্চিতভাবেই মঙ্গল গ্রহ।”