গ্রামে বিদ্যুৎ চুরির তদন্ত করতে গিয়ে মুশকিলে উত্তরপ্রদেশ বিদ্যুৎ বিভাগের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়র। তদন্তে গিয়ে গ্রামের একটি মিটারে গোলোযোগ চোখে পড়ে কর্মীর। তাঁর সঙ্গে আরও বেশি কিছু লোক ছিলেন। সকলে মিলে বিষয়টির ভিডিয়ো করতে শুরু করেন। সেই সময় গ্রামের বাসিন্দারা খেপে যান। প্রথমে তর্কাতর্কি শুরু হয়। ক্রমে তা মারামারিতে পরিণত হয়। জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারকে বেধড়ক মারেন গ্রামবাসীরা। কটূক্তি করতেও পিছপা হন না। ভয় ধরানো সেই ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমের পাতায়। যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের বিজনোরে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর, শনিবার জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার সুদীপ কুমার শর্মা বাকি কর্মীদের সঙ্গে গ্রামে বিদ্যুৎ চুরির তদন্ত করতে গিয়েছিলেন। সেখানে একটি মিটারের কেবল তার কাটা দেখতে পান তাঁরা। জানা যায়, সেটির সাহায্যে অবৈধ ভাবে হিটার চালাচ্ছেন গ্রামের এক বাসিন্দা। এখানেই শেষ নয়। কেবলের ছেঁড়া অংশ দিয়ে সংযোগ বার করে গ্রামের বেশ কিছু দোকানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠে আসে। সুদীপ-সহ বাকিরা ঘটনাটি সংস্থার ঊর্ধ্বতনদের দেখাবেন বলে ছবি এবং ভিডিয়ো করা শুরু করেন। সেই সময় গ্রামের বেশ কয়েক জন তাঁদের উপর চড়াও হন।
আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুর ৩টে নাগাদ বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীদের পেটানো শুরু করেন গ্রামের বাসিন্দারা। প্রধান ক্ষোভ ছিল সুদীপকে ঘিরেই। তাঁকেই সবচেয়ে বেশি মার খেতে হয়। তবে সেই ভিডিয়ো সম্প্রতি সমাজমাধ্যমের পাতায় ছড়িয়ে পড়েছে। ‘বাতএনইউপিকি’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে ভাগ করে নেওয়া সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, খাটিয়ার উপর বসে রয়েছেন সুদীপ। তাঁকে ঘিরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন গ্রামের বাসিন্দারা। প্রধানত পুরুষরাই রয়েছেন সেই দলে। সকলে মিলে চড়াও হলেন সুদীপের উপর। তিন-চার জন তরুণ মিলে বেধড়র মারলেন সুদীপকে। হাত দিয়ে মাথা ঢেকে রাখতে দেখা গিয়েছে সুদীপকে। পাছে ক্ষিপ্ত জনতা যদি মাথায় মেরে ফাটিয়ে দেয়, বোধহয় এই ভয় ছিল তার। গ্রামের বাসিন্দারা সুদীপের পিঠে, ঘাড়ে একের পর এক চড়-ঘুষি মেরে চললেন। একই সঙ্গে চলল গালিগালাজের ফোয়ারা। সেই ভিডিয়োই ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমের পাতায়।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে খবর, ভিডিয়ো দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে এক জনকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। বাকিদের খোঁজ চলছে। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। সমাজমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে ভিডিয়োটি। প্রচুর নেটাগরিকের নজরে এসেছে। প্রতিক্রিয়া এবং মন্তব্যের ঝড় উঠেছে। এক নেটাগরিক মন্তব্য করেছেন, ‘‘এখন সৎ পথে চললেই কপালে মার জুটবে।’’ অপর এক নেটাগরিক মন্তব্য করেছেন, ‘‘দেশের কী অবস্থা!’’