ছুটির দিনে দুর্গে ঘুরতে গিয়ে হেনস্থার শিকার চার পর্যটক। পরনে থাকা পোশাক নিয়ে শুনতে হল ‘নীতিকথা’। মৌখিক যুদ্ধ বদলাল হাতাহাতিতে। ঘটনা গড়াল পুলিশ পর্যন্ত। সেই ঝামেলার ভিডিয়োই ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমের পাতায়। যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার। পুণের সিংহগঢ় দুর্গে ঘুরতে গিয়ে ঝামেলায় জড়ান পর্যটকেরা। পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার দুপুর ২টো থেকে ৫টার মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছে। ৩৯ বছর বয়সি এক তরুণ তাঁর বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের সঙ্গে সিংহগঢ় দুর্গে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ‘সমস্ত হিন্দু বান্ধব আর্মি’র আট জন কর্মী। তাঁরা তরুণদের পথ আটকান। এর পর শুরু হয় ‘নৈতিকতার পাঠ’ দেওয়া।
আরও পড়ুন:
পুলিশ জানিয়েছে, কর্মীরা তরুণ এবং তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজনের পরনের পোশাক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। মহিলারা কেন ছোট জামাকাপড় পরেছেন তা নিয়েও কথা শোনান। ‘হিন্দু সংস্কৃতি’তে ছোট জামাকাপড় পরার নিয়ম নেই, সে কথাও বলেন। এর পর তিন জন তরুণকে চড় মারতে থাকেন। এক মহিলা তরুণের স্ত্রীর হাত ধরে টানাটানি করেন বলেও অভিযোগ।
আরও পড়ুন:
পুণের গ্রামীণ পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করছে। তরুণ এবং তাঁর পরিবার দুর্গ থেকে বেরিয়ে পুণের হাভেলি থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন। পুলিশ সেখানে যাওয়ার পর জানতে পারে, সেই দলের কর্মীরা বহু পর্যটকের সঙ্গেই এই ব্যবহার করেছেন। অন্য এক তরুণীকেও ছোট জামা পরা নিয়ে কথা শুনিয়েছেন বলেও জানতে পারা যায়। চড় মারা ছাড়াও সেই কর্মীরা নাকি প্লাস্টিকের লাঠি দিয়েও অনেককে মেরেছেন বলে অভিযোগ পর্যটকদের। অভিযুক্তদের কাউকেই এখনও ধরতে পারেনি পুলিশ। তাঁদের খোঁজ চলছে।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, পুণের পর্যটনস্থান পরিণত হয়েছে যুদ্ধক্ষেত্রে। অনবরত পড়ে চলা বৃষ্টিও লড়াই থামাতে পারছে না। সাদা রঙের জামা পরা কর্মীদের সঙ্গে ঝামেলা লেগেছে পর্যটকদের। ভিড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে মারামারি করে চলেছেন তাঁরা। এক তরুণী থামানোর চেষ্টা করেও পারলেন না। সেই ভিডিয়োই ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমের পাতায়।
আরও পড়ুন:
‘পুণেকার নিউজ়’ নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে। ভিডিয়োটি ভাইরালও হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৮৩ হাজার বার ভিডিয়োটি দেখে ফেলা হয়েছে। প্রতিক্রিয়া এবং মন্তব্যের ঝড় উঠেছে। ‘নীতিপুলিশ’দের কাণ্ডে ক্ষুদ্ধ নেটমাধ্যম। নেটাগরিকেরা তাঁদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।