শ্মশানে মৃতদেহ দাহ করার দৃশ্য হয়তো অনেকেই দেখেছেন। কিন্তু কেউ কখনও জ্বলন্ত চিতার পাশে দাঁড়িয়ে সেটি হঠাৎ বিস্ফোরিত হতে দেখেছেন কি? সমাজমাধ্যমে তেমনই একটি ঘটনার ভিডিয়ো সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। জ্বলন্ত চিতার ভিডিয়ো ধারণ করার সময় এক ব্যক্তি একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেন, যা প্রত্যক্ষদর্শীদের হতবাক করে দেয়। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। হইচই পড়েছে নেটপাড়ায়। এই ঘটনার পিছনে বৈজ্ঞানিক ও ধর্মীয়, উভয় কারণই খোঁজার চেষ্টা করেছেন নেটাগরিকেরা। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
সমাজমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়োয় শ্মশানের দৃশ্য দেখা গিয়েছে। সেখানে একটি চিতা জ্বলছে এবং লোকজন কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে তা দেখছেন। মৃতদেহটি প্রায় পুড়ে গিয়েছিল। দাহ করার প্রথাগত আনুষ্ঠানিকতা তখনও চলছিল। এর পর হঠাৎ করেই জ্বলন্ত চিতাটিতে এমন ভাবে বিস্ফোরণ ঘটে যেন কোনও বোমা ফেটেছে। নিস্তেজ হয়ে আসা আগুন তীব্র শব্দের পর আবার জ্বলে ওঠে, যা সেখানে উপস্থিত সবাইকে চমকে দেয়।
আরও পড়ুন:
কিন্তু কেন এমনটা হল? নেটাগরিকদের মতে, শেষকৃত্যের সময় এমন বিস্ফোরণের নেপথ্যে সাধারণত দু’টি কারণ থাকে। একটি কারণ হল, মৃত ব্যক্তি যদি হৃদ্রোগী হন এবং তাঁর শরীরে পেসমেকার বসানো থাকে, তবে অতিরিক্ত তাপে পেসমেকারের ব্যাটারি বিস্ফোরিত হতে পারে। যেহেতু এই ব্যাটারি লিথিয়াম দিয়ে তৈরি, তাই এতে বিস্ফোরণের আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। আর দ্বিতীয় কারণটি হল ‘কপাল ক্রিয়া’। মৃতদেহের মাধ্যমে তাপ যখন মস্তিষ্কে পৌঁছোয়, তখন তা মস্তিষ্কে থাকা রাসায়নিকের সঙ্গে বিক্রিয়া করে গ্যাস তৈরি করে। গ্যাস জমা হয়ে যখন তা মস্তিষ্কের শক্ত হাড় ভেঙে বেরিয়ে আসার পথ তৈরি করে, তখন বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন একটি তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান এবং দৃশ্যটি দেখতে পান। হিন্দুধর্মে একেই ‘কপাল ক্রিয়া’ বলা হয়।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল ভিডিয়োটি শেয়ার করা হয়েছে ‘কাটি_কাপ্পারি’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে। ইতিমধ্যেই লক্ষ লক্ষ বার দেখা হয়েছে ভিডিয়োটি। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন নেটাগরিকেরা। এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘মৃতের আত্মা শান্তি পাক।’’ অন্য এক জন লিখেছেন, ‘‘কাছে দাঁড়ানো বিপজ্জনক। দূর থেকেই সকলে দেখুন।’’