সেনার কনভয় যাবে। সেই কারণে গাড়ি নিয়ে পর্যটকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হল। বিষয়টি পছন্দ হল না এক তরুণী পর্যটকের। ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলেন তিনি। নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লেন বচসায়। সেই বচসার ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমের পাতায়। সেনাবাহিনীর প্রাক্তন সদস্যদেরও নজরে পড়েছে ভিডিয়োটি। তাঁরা তরুণীর ব্যবহারের নিন্দা করেছেন। যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ঘটনাটি ঘটেছে লাদাখের কার্গিলের মিনিমার্গ চেকপোস্টে। সেখানে পর্যটক-সহ অনেককে নাকি ঘণ্টা পাঁচেক দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। সেনার কনভয় আসার কথা ছিল সেই সময়। তার জন্যই নাকি সকলকে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন চেকপোস্টের নিরাপত্তারক্ষীরা। সেই ঘটনার জেরে তাঁদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন তরুণী। চিৎকার করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলেন। এমনকি কাশ্মীর প্রসঙ্গে বিতর্কিত দাবিও করতে থাকেন। তবে গোটা পর্বে শান্ত ছিলেন নিরাপত্তারক্ষীরা। তরুণীর সেই সব কথা ঘিরে উত্তপ্ত নেটপাড়া। অনেকেই তরুণীর আচরণের নিন্দা করেছেন।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, নিরাপত্তারক্ষীদের উপর চিৎকার করছেন তরুণী। নিজেকে নব্য যুবা বলে দাবি করে তরুণী জানালেন যে তাঁদের সঙ্গে অবিচার করা যাবে না। ভিআইপির গাড়ি আসবে বলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাঁদের দাঁড় করিয়ে রাখা যাবে না বলে দাবি করলেন তরুণী। এই সব সহ্য করা হবে না বলেও জানালেন। এর পর তাঁর সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা অন্যদেরও জিজ্ঞাসা করলেন, তাঁরা আর দাঁড়িয়ে থাকতে চান কি না। অন্যান্যরা চিৎকার করে উঠলেন যে তাঁরাও আর দাঁড়িয়ে থাকতে চান না। এর পর তাঁদের গাড়ি নিয়ে এগিয়ে চলার নির্দেশ দিলেন তরুণী। যদিও রাস্তা তখনও বন্ধই ছিল। শেষে তরুণী জানালেন যে, পয়সা দিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার জন্য ঘুরতে আসেননি। সেই ভিডিয়োই ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমের পাতায়।
আরও পড়ুন:
‘আস্কইন্ডিয়ানস’ নামের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে। তরুণীর এই ভিডিয়ো প্রচুর নেটাগরিকের নজর কেড়েছে। সেনাবাহিনীর প্রাক্তন সদস্যদেরও নজর এড়ায়নি ভিডিয়োটি। সকলে তরুণীর আচরণের তীব্র নিন্দা করেছেন। প্রাক্তন সেনাকর্তা কেজেএস ধিলোঁ তরুণীর ব্যবহারের সমালোচনা করে এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেছেন। অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডিপি পাণ্ডেও ঘটনাটি নিয়ে এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেছেন। তাঁর মতে, নিজেকে নব্য যুবা পরিচয় দিয়ে নিরাপত্তারক্ষীদের উপর চিৎকার করা উচিত হয়নি তরুণীর। এর ফলে তরুণ প্রজন্মের নাম খারাপ হচ্ছে। নেটাগরিকেরাও তরুণীর আচরণের সমালোচনা করেছেন।
ভিডিয়োটি ভাইরাল হওয়ার পর এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে তরুণীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। সেই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তরুণী প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন। তরুণীর দাবি, ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োটি এক মাসের পুরনো। তরুণী তাঁর আচরণের সাফাই দিতে গিয়ে জানান, অনেক ক্ষণ অপেক্ষা করার জন্য তাঁর মাথা গরম হয়ে যায়। সেই কারণে তিনি তেমন আচরণ করে ফেলেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীকে অপমান করা তাঁর উদ্দেশ্যে ছিল না। পরে তরুণী করজোড়ে ভারতীয় সেনা তথা দেশের সকল নাগরিকের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। দাবি জানিয়েছেন, যে তরুণী অবসাদে ভুগছেন। ভাইরাল ভিডিয়ো ঘিরে তাঁর দিকে ধেয়ে আসা নিন্দার জেরে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ছেন তিনি। তরুণীর দাবি, স্থানীয়েরা তাঁকে প্ররোচনা দিয়েছিলেন সেনাদের সঙ্গে ঝামেলায় জড়াতে। তাঁরাই প্রথমে এগিয়ে গিয়ে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে ঝামেলা করছিলেন। পরে তিনিও সেই প্ররোচনায় পা দিয়ে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন বলে দাবি তরুণীর।