অরুণাচল প্রদেশের রোয়িং-আনিনি সড়কের কাছে ফের দেখা মিলল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের। তিওয়ারি গাঁওয়ের কাছে রাস্তার ধারে বাঘটির ঘোরাফেরা করার ভিডিয়ো স্থানীয় এক বাসিন্দা রেকর্ড করেন। পরে বন দফতরের কর্মীরাও বাঘটিকে দেখতে পান। বুধবার বিকেলে বাঘটিকে দেখতে পাওয়ার পর রাজ্যের লোয়ার দিবাং ভ্যালি জেলার কিছু অংশে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
এই অঞ্চলে বাঘের আনাগোনা নিয়ে যখন উদ্বেগ চরমে, ঠিক তখনই বাঘটিকে দেখা গেল। এর আগে একটি ঘটনায় মোটরবাইকে ভ্রমণরত এক পুলিশ কনস্টেবল বাঘের আক্রমণে নিহত হয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। বাঘের ভিডিয়োটি ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমে। তবে ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
মেহাও বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার মিতো রুমি বলেছেন, ‘‘বাঘটিকে চিহ্নিত করে ধরার জন্য বনকর্মীরা চেষ্টা চালাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট এলাকায় দু’চাকার যান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ওই এলাকায় গাড়িও থামানো যাবে না।’’
অন্য দিকে, ক্যামেরা ট্র্যাপেও ধরা পড়েছে বাঘের ছবি। খবর, প্রায় দু’দশক পরে অরুণাচলের ডি এরিং মেমোরিয়াল বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্যে ফিরল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, জঙ্গলে পেতে রাখা ক্যামেরা ট্র্যাপে বাঘের ছবি ওঠার পরে সেই খবর নিশ্চিত করেছে বন দফতর। বন দফতরের আধিকারিকরা জানান, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সংস্থা ‘অশোক ট্রাস্ট ফর রিসার্চ ইন ইকোলজি অ্যান্ড দ্য এনভায়রনমেন্ট’-এর প্রযুক্তিগত সহায়তায় পরিচালিত সাম্প্রতিক সমীক্ষার সময় বাঘের ওই ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালে নথিভুক্ত হওয়া ১৯০ বর্গ কিলোমিটারের এই অরণ্যে ২০০৫ সালে শেষ বার বাঘ থাকার নিশ্চিত প্রমাণ মিলেছিল। ২০০৭-০৮ পর্যন্ত পরোক্ষ প্রমাণ মিললেও ২০১৪ সালে ডব্লিউডব্লিউএফ যে বেসলাইন সার্ভে চালায়, সেখানে এই অরণ্যে ক্যামেরা ট্র্যাপে কোনও বাঘ দেখা যায়নি বা বাঘের পায়ের ছাপ থাকার কোনও প্রমাণ মেলেনি। কিন্তু, গত এক বছরে বনকর্মীর বাঘের চলাচলের একাধিক পরোক্ষ চিহ্ন লক্ষ্য করেছিলেন। সেই সূত্র ধরে একাধিক পর্যায়ে নজরদারি ও ক্যামেরা ট্র্যাপ বসিয়ে বৈজ্ঞানিক ভাবে বিষয়টি যাচাইয়ের চেষ্টা চলছিল। শেষ পর্যন্ত বাঘবন্দি হল ক্যামেরায়।
আরও পড়ুন:
বন দফতর জনসাধারণকে ট্রেকিংয়ের উদ্দেশ্যে বা বনজ ছোটোখাটো পণ্য সংগ্রহের জন্য সংলগ্ন বনাঞ্চলে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি, সতর্কতামূলক নির্দেশিকা মেনে চলার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বন দফতর জনসাধারণকে সতর্ক থাকতে এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়েছে। বাঘটিকে দেখতে পেলে রোইংয়ের মেহাও বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য বিভাগের রেঞ্জ ফরেস্ট অফিসার (আরএফও) মাগোন লিঙ্গির সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।