গাড়ি লক্ষ্য করে দুই যুবকের গুলি চালানোর ঘটনায় চালক আহত হওয়ার পর দ্রুত আসন বদল করেন অভিনেতা টাইগার শ্রফ। নায়কের মতো এক লাফে বসে পড়েন চালকের আসনে। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান তাঁকে। রবিবার সন্ধ্যার সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
রবিবার সন্ধ্যায় গুলি চলেছে বলিউড অভিনেতা টাইগারকে লক্ষ্য করে। পুলিশ সূত্রে খবর, পর পর পাঁচ রাউন্ড গুলি চলে। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান অভিনেতা। তবে আহত হয়েছেন তিনি। জখম অভিনেতার গাড়ির চালক এবং এক অটোচালকও। মুম্বইয়ের জুহু এলাকার একটি ফুটবল ক্লাব থেকে বিএমডব্লিউয়ে চড়ে বেরোচ্ছিলেন অভিনেতা। তখনই তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।
আরও পড়ুন:
জুহু এলাকার ফুটবল ক্লাব থেকে গাড়ি চেপে বেরোচ্ছিলেন অভিনেতা। তবে তিনি গাড়ি চালাচ্ছিলেন না। চালকের পাশের আসনে বসেছিলেন। অনুরাগীদের দিকে হাত নাড়াচ্ছিলেন। গাড়ি ক্লাবের গেট পেরোতেই হঠাৎ এক যুবক টাইগারের গাড়ির সামনে চলে আসেন। বন্দুক বার করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে থাকেন গাড়ির উইন্ডস্ক্রিনে। এর পর আরও এক যুবক বন্দুক নিয়ে এগিয়ে এসে টাইগার গাড়ির যে দিকে বসেছিলেন, সে দিকের জানলা লক্ষ্য করে গুলি চালাতে থাকেন। এর পর দু’জনেই তৃতীয় এক জনের বাইকে চড়ে চম্পট দেন। ঘটনার আকস্মিকতা কাটলে টাইগার দেখেন তাঁর চালকের গুলি লেগেছে। এর পর আর এক মুহূর্ত দেরি করেননি অভিনেতা। এক লাফে আসন বদল করেন তিনি। চালকের আসনে বসে গাড়ি চালাতে শুরু করেন। আহত চালককে নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে। ভিডিয়োয় এক মহিলাকে বলতে শোনা যায়, ‘‘জলদি নিয়ে যাও টাইগার।’’
আরও পড়ুন:
ভাইরাল ভিডিয়োটি ‘জিৎ’ নামের একটি এক্স হ্যান্ডল থেকে শেয়ার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকে যেমন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, তেমনই আবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। চালককে নিয়ে ওই ভাবে হাসপাতালে দৌড়োনোর জন্য টাইগারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছে নেটপাড়া। অন্য দিকে, অভিনেতা নিরাপদে থাকলেও এই ঘটনায় নতুন করে প্রশ্নের মুখে মুম্বইয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিশেষত, বলিউডের তারকাদের উপর একের পর এক হামলার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।
সূত্রের খবর, এই হামলার দায় স্বীকার করেছে বিশ্নোই গ্যাং। এই ঘটনার পরে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে অনিল পণ্ডিত ও অনিল হরমন সন্ধু হামলার নেপথ্যে থাকার কথা জানিয়েছেন। তাঁরা বিশ্নোই-ঘনিষ্ঠ বলেই খবর। হিন্দিতে লেখা সেই পোস্টের মূল বক্তব্য, “আমরা ওঁকে ফোন করেছিলাম, বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু উনি বোঝেননি। তাই আজ, আমরা সবটা ওঁকে ব্যাখ্যা করব বলে সিদ্ধান্ত নিই। মুম্বই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির যে বা যাঁরা আমাদের কথা শুনবেন না এবং সলমন খানের সঙ্গে কাজ করবেন, তাঁরাই আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য। দেখতে থাকুন।”
আরও পড়ুন:
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে নিন্দার ঝড় উঠেছে বলিপাড়ায়। মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে নেমে টাইগারকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাজস্থানের কোটা স্টেশনে ট্রেনে সফর করার সময়ে ধরা পড়েন তাঁরা। ধৃতদের মধ্যে দু’জন হরিয়ানার বাসিন্দা, অন্য জন মহারাষ্ট্রের। তিন জনেরই যোগ রয়েছে লরেন্স বিশ্নোই গ্যাংয়ের সঙ্গে, এমনটাই দাবি তদন্তকারীদের। অভিনেতার বাড়ির বাইরে কড়া নিরাপত্তা বসানো হয়েছে।