অ্যাপ বাইকে চড়ার পরে বকেয়া ১৮৬ টাকা ভাড়া না মিটিয়েই পালাচ্ছিলেন তরুণী। ঢুকে পড়েছিলেন মলে। তাড়া করলেন চালক। ঘটনাটি ঘটেছে গুরুগ্রামের একটি মলে। টাকা না মেটানো নিয়ে চালক এবং ওই তরুণীর মধ্যে উত্তপ্ত বিতর্কের একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। ভিডিয়োটি পরিষেবার পর মূল্য পরিশোধ নিয়ে বিরোধ, গিগ কর্মীদের আয় এবং যাত্রীদের দায়িত্ব, এ সব বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ৪ অক্টোবর দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলের অ্যাম্বিয়েন্স মলে ঘটেছিল। এক তরুণী অফিসে যাওয়ার জন্য অ্যাপ বাইক বুক করেছিলেন। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছোনোর পর ভাড়া চাওয়ার সময় তিনি নানা অজুহাত দেখান এবং টাকা না দিয়েই চলে যান মলের ভিতরে। তাঁর পিছনে ধাওয়া করেন বাইকচালকও।
আরও পড়ুন:
‘রমেশঅফিশিয়াল০’ নামে এক্স হ্যান্ডল থেকে করা পোস্ট অনুযায়ী, সার্ভারে সমস্যার কথা বলে ওই তরুণী যাত্রী ১৮৬ টাকা ভাড়া দিতে অস্বীকার করেন। ভাড়া নিয়ে চালক তাঁকে প্রশ্ন করলে বিষয়টি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তরুণী এবং বাইকচালক। ভিডিয়ো ফুটেজে চালককে বার বার ওই তরুণীকে টাকা মেটানোর জন্য বলতে শোনা যায়। তিনি বলেন, ‘‘আমার টাকা দিন।’’ অন্য দিকে, ওই তরুণী পাল্টা বলেন, ‘‘ভিডিয়ো বানান, ভিডিয়ো বানান।’’ মলের ভেতরে যখন তর্ক-বিতর্ক চলছিল, তখন চালক পুরো ঘটনাটি রেকর্ড করতে থাকেন এবং আশপাশের লোকজনকেও তাঁদের ঘিরে জড়ো হতে দেখা যায়। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল ভিডিয়োটি ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখে নেটাগরিকদের অনেকে যেমন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, তেমনই আবার মজার মজার মন্তব্য করেছেন অনেকে। এ ছাড়াও, গিগ কর্মীদের নিরাপত্তা এবং তাঁদের প্রতি ন্যায্য আচরণের বিষয়েও অনলাইনে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে ওই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পর। অনেকে যুক্তি দিয়েছেন, গিগ কর্মীদের অনেকেই দৈনিক আয়ের উপর নির্ভরশীল। তাই সামান্য ভাড়ার পরিমাণও তাঁদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এক জন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘‘কোনও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে যাত্রী ভাড়া পরিশোধের দায় থেকে মুক্তি পেতে পারেন না। যদি ব্যাঙ্কের সার্ভার বা পেমেন্ট অ্যাপ কাজ না করার কারণে তিনি টাকা না দিতে পারেন, তবুও নগদ অর্থ বা অন্য কোনও উপায়ে সেই ভাড়া পরিশোধ করা তাঁরই দায়িত্ব।’’ অন্য এক জন লিখেছেন, ‘‘আজকাল সমাজে এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে। চালক তো তাঁর ন্যায্য ভাড়াই চাইছেন। আর তরুণী কিনা তর্ক করছেন চালক কী ভাবে তাঁর সঙ্গে কথা বলছেন তা নিয়ে। কোনও গরিব মানুষের ন্যায্য পাওনা না দিলে তিনি তো আর আপনার সঙ্গে মিষ্টি সুরে বা আদুরে ভাষায় কথা বলবেন না।’’ তৃতীয় এক জন আবার ওই অ্যাপ বাইক সংস্থাকে ট্যাগ করে লিখেছেন, ‘‘বিষয়টি তদন্ত করুন। যদি ওই যাত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়, তবে অবশ্যই তাঁকে ব্ল্যাকলিস্ট করা উচিত। চালকেরা সব গরিব ঘরের ছেলে, যাঁরা টিকে থাকার জন্য কঠোর সংগ্রাম করছেন।’’