অফিসের সহকর্মীদের কখনওই বাড়িতে আমন্ত্রণ জানানো উচিত নয়! গৃহপ্রবেশের অনুষ্ঠানে সহকর্মীদের ডেকে পরে জামিনের জন্য সাহায্য চাইলেন এক যুবক। তেমনটাই দাবি করা হয়েছে সমাজমাধ্যমে ভাইরাল একটি পোস্টে। এক সহকর্মীর গৃহপ্রবেশের অনুষ্ঠান নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক ব্যক্তির সেই পোস্ট কর্মক্ষেত্রে বন্ধুত্ব এবং সহকর্মীদের সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনের কতটা বিষয় শেয়ার করা উচিত, তা নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সহকর্মীদের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে সতর্ক করে এক্স ব্যবহারকারী গৌরব তোমর ঘটনাটির কথা জানিয়েছেন। তবে ঘটনাটির কথা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। এটি কেবল গৌরবে পোস্টে বর্ণিত তথ্যের উপর ভিত্তি করেই করা। গৌরবের দাবি, তাঁর এক সহকর্মী সম্প্রতি একটি বাড়ি কিনেছিলেন। গৃহপ্রবেশ উপলক্ষে কয়েক জন সহকর্মীকে সেখানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তিনি। ওই অনুষ্ঠানে নারী এবং পুরুষ, উভয় সহকর্মীরাই উপস্থিত ছিলেন। তবে তিনি ওই অনুষ্ঠানে যাননি। কারণ তিনি সাধারণত সপ্তাহান্তের ছুটি নিজের গ্রামে কাটান।
আরও পড়ুন:
পোস্টে গৌরবের দাবি, গৃহপ্রবেশের অনুষ্ঠান চলাকালীন কয়েক জন মহিলা সহকর্মী ওই সহকর্মীর স্ত্রীর সঙ্গে আলাপ জমান। তাঁর রান্নার প্রশংসাও করেন এবং তাঁর স্বামীকে নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ মন্তব্য করেন, ‘‘আপনি খুব ভালো রান্না করেন’’ এবং ‘‘বেচারা অফিসে খুব অসুখী থাকে’’, যা নাকি বেশ হালকা মেজাজেই বলা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানের পর সপ্তাহের শুরুতে যখন সবাই অফিস যান, তখন গৌরব দেখেন, তাঁর ওই সহকর্মী অনুপস্থিত। কী হয়েছে তা জানার জন্য তিনি তাঁকে ফোন করেন।
আরও পড়ুন:
গৌরবের পোস্ট অনুযায়ী, ফোন করার পর ওই সহকর্মী তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন যে তিনি জামিনের জন্য ‘গ্যারেন্টার’ হতে পারবেন কি না। কারণ অন্যেরা সাহায্য করতে অস্বীকার করেছেন। তাঁর কথা শুনে অবাক হয়ে যান গৌরব। কী হয়েছে জানতে চাইলে ওই সহকর্মী তাঁকে জানান যে গৃহপ্রবেশের অনুষ্ঠানের পর তাঁর এবং তাঁর স্ত্রী মধ্যে পারিবারিক বিবাদ হয়েছিল। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে পড়েছিল যে স্ত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি এফআইআর দায়ের করা হয় তাঁর নামে।
গৌরব জানিয়েছেন, স্বামী-স্ত্রীর ঘরোয়া বিবাদ ওই সহকর্মীর জীবন বদলে দিয়েছিল। পোস্টে দাবি, বিবাদটি শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে রূপ নেয়, যা ওই সহকর্মীকে ব্যক্তিগত এবং আর্থিক দিক থেকে ক্ষতির মুখে ফেলে। তথ্য অনুযায়ী, ওই যুবক বহু বছর ধরে নিজের বাড়িটি গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু মামলার জেরে পড়ে সেটি ছেড়ে ভাড়াবাড়িতে উঠতে বাধ্য হন। বাড়ি ছেড়ে চলে আসার পরেও তিনি বাড়ির ঋণের কিস্তি পরিশোধ করে যাচ্ছেন এবং একই সঙ্গে আইনি লড়াইয়ের খরচও বহন করছেন। ওই যুবকের অবস্থা বর্ণনা করে গৌরব সমাজমাধ্যমে দাবি করেছেন, এই কারণেই শান্তিপূর্ণ পরিবারে সহকর্মীদের কাউকে ডাকা উচিত নয়। কর্মক্ষেত্রের সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত জীবনকে আলাদা রাখার বিষয়ে সতর্কবার্তা হিসেবে ঘটনাটি তুলে ধরেছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
গৌরবের সেই পোস্টটি সমাজমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, এই ঘটনাটিই প্রমাণ করে কেন সহকর্মীদের সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবন ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের সতর্ক হওয়া উচিত। আবার অনেকের মতে, কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার উপর ভিত্তি করে কর্মক্ষেত্রের সব বন্ধুত্বকে বিচার করা ঠিক নয়। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “ভাই, উৎসব-পার্বণ বা পার্টির সময় আমি বহু বার আমার সহকর্মীদের ফ্ল্যাটে ডেকেছি। তবে আমি সাধারণত পুরো দলকেই আমন্ত্রণ জানাই। কখনও খারাপ কিছু হয়নি।” অন্য এক জন মন্তব্য করেছেন, “একটি ছোট ঘটনা থেকেও জীবনের বড় শিক্ষা পাওয়া যায়। নিজের ঘর, শান্তি এবং ব্যক্তিগত জীবনের কথা একান্তই নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখুন।”