ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী। মোটামুটি ভাল আয়ও করতেন। কিন্তু সেই চাকরি ছেড়ে অ্যাপঅটো চালানোর সিদ্ধান্ত নিলেন বেঙ্গালুরুর এক তরুণী। কিন্তু কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি? ইনস্টাগ্রামে ভিডিয়ো পোস্ট করে সে কথা জানিয়েছেন তরুণী অটোচালকের অটোয় ভ্রমণ করা এক যাত্রী। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
বেঙ্গালুরুতে কোনও যাত্রী হয়তো এক জন মহিলাকে অ্যাপঅটো চালাতে দেখে ভাবতেই পারেন যে, সংসার চালানোর তাগিদেই ওই কাজ বেছে নিয়েছেন তিনি। কিন্তু বেঙ্গালুরুর বিষয়স্রষ্টা (কন্টেন্ট ক্রিয়েটর) তথা অটোচালক তনভির ইনস্টাগ্রামের পাতায় যে মহিলা অটোচালকের ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে, তাঁর গল্প তেমনটা নয়। প্রযুক্তিকর্মী ছিলেন ওই তরুণী। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর নিজের এবং মায়ের জন্য তিনি কেমন জীবন চান, তা নিয়ে নতুন করে ভাবার তাগিদ থেকেই অটো চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
আরও পড়ুন:
তনভি জানিয়েছেন, তিনি সম্প্রতি ওই মহিলার অটোয় উঠেছিলেন। আর তাঁর কাহিনি শুনে চমৎকৃত হন তিনি। এর পরেই মহিলা অটোচালকের অদম্য ইচ্ছাশক্তির গল্পটি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেন তনভি। ভিডিয়োয় স্পষ্ট বিস্ময় নিয়ে তরুণী অটোচালককে তনভি জিজ্ঞাসা করেন, ‘‘আপনি কি প্রযুক্তি সেক্টরে কাজ করতেন?’’ অটোচালক উত্তর দেন, ‘‘হ্যাঁ।’’ এর পর তিনি অনর্গল ইংরেজিতে কথা বলে ব্যাখ্যা করেন কেন তিনি সেই পেশা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। জানান, বাবার মৃত্যুর পর, রাতের শিফ্টে কাজ করা এবং মায়ের প্রতি দায়িত্ব পালন, এই দু’য়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা তাঁর জন্য ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছিল। বাড়ির বাইরে দীর্ঘ সময় কাটাতে হয় এমন চাকরি চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে, তিনি পেশা পুরোপুরি বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। কর্পোরেট সেক্টরে কাজ করার পর অটো চালানো খুব একটা পছন্দ হচ্ছিল না তরুণীর। শুরুতে তাঁর পরিবারের কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।
আরও পড়ুন:
তরুণী অটোচালক তনভিকে জানান, এখন আর অটো চালাতে মন্দ লাগে না তাঁর। প্রযুক্তিকর্মী হিসেবে যা আয় করতেন, এখন তার চেয়ে বেশি উপার্জন করছেন। সবচেয়ে বড় কথা হল, এই কাজের ফলে নিজের সময়ের উপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ বেড়েছে এবং তিনি মায়ের কাছাকাছি থাকতে পারছেন বলেও জানিয়েছেন ওই তরুণী। মহিলা অটোচালক এ-ও জানিয়েছেন, তাঁর পেশা প্রায়শই যাত্রীদের অবাক করত। পুরুষ-শাসিত এই পেশায় কেউ কেউ প্রশ্ন তুলতেন— এত ভাল ইংরেজি বলা সত্ত্বেও তিনি কেন অটো চালাচ্ছেন? তবে তোয়াক্কা করেননি তরুণী। তাঁর সেই কাহিনিই ইনস্টাগ্রামে তুলে ধরেছেন তনভি।
আরও পড়ুন:
তনভির পোস্ট করা ভিডিয়োটি ইতিমধ্যেই প্রচুর মানুষ দেখেছেন। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকে যেমন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, তেমনই আবার তরুণী অটোচালকের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে প্রশংসায় পঞ্চমুখও হয়েছেন অনেকে। ভিডিয়োটি দেখে এক নেটাগরিক লিখেছেন, “রাতে মাকে একা না রাখার বিষয়ে তিনি যে ভাবে কথা বললেন, তা অসাধারণ! তরুণীকে নিয়ে গর্ব হচ্ছে।” অন্য এক জন মন্তব্য করেছেন, “এক জন প্রকৃত রানি। জীবনযুদ্ধে তিনি জিতে গিয়েছেন।’’