আইআইটি বম্বের ছাত্র সাহিল ওয়াকোডের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঘনাচ্ছে রহস্য। উত্তাল ক্যাম্পাস। সাহিলের মৃত্যুতে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের হয়েছে। অন্য দিকে, কর্তৃপক্ষের দাবি, পরীক্ষার হলে মোবাইল নিয়ে ঢুকেছিলেন ওই ছাত্র। পরীক্ষার সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারও করেন তিনি। পুরো ঘটনাটি নিয়ে যখন বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়েছে, সেই আবহে প্রকাশ্যে এসেছে একটি সিসিটিভি ভিডিয়ো। দাবি, ভিডিয়োটি পরীক্ষাকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
প্রকাশ্যে আসা ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, কালো টি-শার্ট পরে সামনের সারির একটি আসনে বসেছিলেন সাহিল। তখন অধ্যাপক তথা হলের পরিদর্শক সূর্যনারায়ণ দুল্লা তাঁর কাছে এসে কথা বলেন। অল্প সময়ের জন্য বেঞ্চ থেকে উঠে আবার বসে পড়েন সাহিল। এর পর পরিদর্শকের হাতে নিজের মোবাইল ফোনটি তুলে দেন। এর পর সাহিল এবং অধ্যাপক সূর্যনারায়ণের মধ্যে কিছুক্ষণ কথাবার্তা চলে। তাঁকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কিছুক্ষণ পরেই নিজের জিনিসপত্র গুছিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যান সাহিল। তাঁর পিছন পিছন বেরিয়ে যান অধ্যাপক সূর্যনারায়ণও। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে। ঘটনাচক্রে এর কয়েক ঘণ্টা পরেই ২২ বছর বয়সি এই দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রকে তাঁর হস্টেলের ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ভাইরাল ভিডিয়োটি শেয়ার করা হয়েছে সাংবাদিক রাজেশ কুমারের এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
সাহিলের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে আইআইটি বম্বে জানিয়েছিল, ওই দিনই পরীক্ষার সময় সাহিলকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছিল। এক বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তর খোঁজার জন্য তিনি প্রশ্নপত্রটি চ্যাটজিপিটি-তে আপলোড করেছিলেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অন্য দিকে, কর্তৃপক্ষের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেই পাল্টা দাবি করেছেন সাহিলের অভিভাবকেরা। কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জাতিবৈষম্যের অভিযোগে সরব হয়েছেন সাহিলের বাবা-মা। থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই সাহিলের মৃত্যুর ঘটনায় পরীক্ষাকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পরীক্ষার শেষ ২০ মিনিটে ঠিক কী ঘটেছিল, তা ওই সব ফুটেজ দেখেই বোঝার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। সাহিলের বাবা রবীন্দ্র ওয়াকোডে সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘অধ্যাপক দুল্লা আমার ছেলের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করতেন। আমার ছেলে আমাকে এই বৈষম্যের কথা জানিয়েছিল। কিন্তু আমি তাকে বলেছিলাম যে আইআইটি-তে ভর্তি হওয়া কঠিন। আমি তাকে পরিস্থিতি মেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম।’’ তবে আইআইটি বম্বের অধ্যাপক-অধ্যাপিকারা সূর্যনারায়ণের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন। তাঁদের বক্তব্য, কেবল নিজের দায়িত্ব পালন করার জন্যই তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যেই অধ্যাপক দুল্লাকে ‘ডিন অফ স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার’ (ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক ডিন) পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে খবর, তাঁকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।