কাজ়াখস্তান বিশ্বের নবম বৃহত্তম দেশ। তেল, গ্যাস এবং খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও, দীর্ঘকাল ধরে এই দেশে বন্যপ্রাণীর অভাব ছিল। এই ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে ‘উমিত’ নামের একটি আমুর বাঘিনীকে নিয়ে যাওয়া হল সে দেশে। পরবর্তী কালে এখানে বাঘ ছাড়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এই প্রকল্প এমন এক আশার সঞ্চার করেছে, যা কেবল সেই দেশেই নয়, বরং সমগ্র মধ্য এশিয়াতেই বন্যপ্রাণীর ফিরে আসার পথ প্রশস্ত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
‘অ্যানিমেল প্ল্যানেট ইন্ডিয়া’র একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে। বাঘ পুনর্বাসন কর্মসূচির অংশ হিসাবে উমিত নামের বাঘিনীটিকে কাজ়াখস্তানের ইলে-বালখাশ ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্রে ছাড়া হয়েছে। গত ৭০ বছরের মধ্যে এই প্রথম বার সেখানে বাঘ ফিরিয়ে আনা হল। ফলে দেশটির জন্য এটি একটি বিশেষ ঘটনা। বাঘের সংখ্যা পুনরুদ্ধারের বিষয়টি পর্যবেক্ষণের জন্য আমুর বাঘিনী উমিতের গলায় একটি জিপিএস কলার পরিয়ে দেওয়া হয়েছে। উমিতকে বাঘ সংরক্ষণ কেন্দ্রে ছাড়ার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে সমাজমাধ্যমে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
১৯৪৮ সাল থেকে ইলে-বালখাশে বাঘের দেখা নেই। সেই সময়ে শিকারিরা প্রচুর বাঘ এবং তাদের খাদ্যের উৎস হিসাবে পরিচিত বন্য শূকরের মতো প্রাণী হত্যা করেছিল। ফলে ইলে-বালখাশে বাঘের খাদ্যের অভাব দেখা দেয় এবং তাদের সংখ্যা কমতে থাকে। পরবর্তী সময়ে কৃষিকাজের বিস্তারের কারণে বাঘের আবাসস্থল আরও সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে। ফলে তাদের সংখ্যা আরও হ্রাস পেতে থাকে। এক সময় ওই ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্র থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় বাঘ।
আরও পড়ুন:
রাশিয়ার প্রিমোরস্কি ও খাবারেভস্ক অঞ্চলের বনে আমুর বাঘেদের দেখা মেলে। লম্বায় ৮ ফুট পর্যন্ত হতে পারে সেই বাঘ। ওজন হতে পারে ৩০০ কিলোগ্রাম। শীতল জলবায়ুতে বসবাসের কারণে এদের লোম অন্যান্য বাঘের তুলনায় ঘন হলেও রঙের দিক থেকে কিছুটা হালকা হয়। খাবারের সন্ধানে এই বাঘগুলো ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে পারে।