সীমান্তে নতুন করে সঙ্কটের জের। সমুদ্রে সাঁতরে এসে বেড়া ডিঙিয়ে মরক্কো থেকে স্পেনে প্রবেশ করলেন হাজার হাজার মানুষ! ছড়াল বিশৃঙ্খলা। ঘটনায় অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। ঘটনা সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি ছবি এবং ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োগুলি। যদিও সেই ভিডিয়োগুলির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে মরক্কোর সীমান্তবর্তী স্পেনীয় শহর সেউতায়। ছোট্ট স্পেনীয় শহরে মূলত সাঁতরে পৌঁছোনোর চেষ্টা করা অভিবাসীদের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার পরই স্পেন এবং মরক্কো সীমান্তে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। খবর, বৃহস্পতিবার মরক্কো থেকে সমুদ্রে সাঁতরে এসে হাজার হাজার অভিবাসী এই ছোট্ট শহরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। সেই প্রচেষ্টা করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ন’জন। ওই ঘটনা সংক্রান্ত যে ভিডিয়োগুলি প্রকাশ্যে এসেছে তাতে দেখা গিয়েছে, মূলত মরক্কোর নাগরিকদের একটি বিশাল দল তারাজল সমুদ্রসৈকতের ব্রেকওয়াটার (ঢেউ-প্রতিরোধক বাঁধ) পেরিয়ে সেউতার রাস্তাগুলির দিকে এগিয়ে আসছেন। এঁদের মধ্যে বেশির ভাগই পুরুষ (মূলত তরুণ) হলেও, নারী এবং শিশুদের নিয়ে একাধিক পরিবারকেও সীমান্ত টপকাতে দেখা গিয়েছে। সীমান্ত পার করার সময় অনেক অভিবাসীকে ‘ভিভা এস্পানিয়া (স্পেন দীর্ঘজীবী হোক)’ বলে স্লোগানও দিতে শোনা যায়। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে। তবে ঠিক কী কারণে এত বিপুল সংখ্যক অভিবাসী সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করলেন, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি।
আরও পড়ুন:
সেউতায় স্পেন সরকারের প্রতিনিধিদল জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে অন্তত ন’জন মারা গিয়েছেন। মৃত্যুর কারণ বা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও, মৃতদেহগুলিকে সমুদ্রের জলে ভাসতে দেখা গিয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, সাঁতরে সেউতায় পৌঁছোনোর চেষ্টা করার সময়েই প্রাণ হারিয়েছেন তাঁরা।
বিপুল সংখ্যক মানুষের সীমান্ত বেড়া ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়ার ঘটনায় সৃষ্ট সঙ্কট সামাল দিতে সেউতার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মাদ্রিদের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অতিরিক্ত বাহিনী চেয়েছিলেন। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে মাদ্রিদ জানিয়েছে, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে। স্পেন সরকার জানিয়েছে, সেউতা শহরের নিরাপত্তা বজায় রাখার কাজে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করতে সশস্ত্র বাহিনী পাঠানো হবে। এ ছাড়াও শুক্রবার স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সাঞ্চেজ় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কার সঙ্গে সেউতা সফরে যাবেন বলেও জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
সেউতার সীমান্তে দায়িত্বরত নিরাপত্তাবাহিনী ‘স্প্যানিশ সিভিল গার্ড’-এর এক কর্তা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল এবং এই ক’দিনে হাজার হাজার অভিবাসী সীমান্ত পার হয়ে গিয়েছেন। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। উত্তর মরক্কোর ‘মরক্কান অ্যাসোসিয়েশন ফর হিউম্যান রাইটস’-এর সদস্য আশরাফ মাইমুনি এই পরিস্থিতিকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
মরক্কোর কর্তৃপক্ষ অবশ্য সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনা নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি। মরক্কোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। অন্য দিকে, স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে যে, পরিস্থিতি সামাল দিতে মরক্কো সরকার স্পেনের সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠ ভাবে সহযোগিতা’ করছে এবং সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টাকারী অসংখ্য মানুষকে ‘আটকে দিচ্ছে’ মরক্কোর পুলিশ। উভয় দেশই সেউতায় অবৈধ ভাবে প্রবেশ করা সকল মানুষকে ‘যত দ্রুত সম্ভব ফেরত পাঠানোর’ বিষয়ে যৌথ ভাবে কাজ করতে সম্মত হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
উন্নত অর্থনৈতিক সুযোগের সন্ধানে কিংবা নিজেদের দেশে ‘হিংসা’ থেকে বাঁচতে ইউরোপে প্রবেশ করতে চাওয়া অভিবাসন প্রত্যাশীদের জন্য স্পেন একটি প্রধান প্রবেশপথ। উত্তর আফ্রিকার উপকূলে অবস্থিত সেউতায় পৌঁছোনোর জন্য অভিবাসীরা প্রায়শই মরক্কোর ফনিদেক শহর থেকে সাঁতার কেটে স্পেনীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। এই পথের দূরত্ব প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। আবার অনেকে নিকটবর্তী বেলইউনেশ শহর থেকেও এই পথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে। সে ক্ষেত্রে দূরত্ব কিছুটা কম হয়। তবে সীমান্ত দিয়ে মানবস্রোতের সেউতায় প্রবেশের সাম্প্রতিক দৃশ্য ২০২১ সালের মে মাসের সীমান্ত সঙ্কটের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে অনেককে। সে সময় মাত্র দু’দিনের মধ্যে ৮,০০০-এরও বেশি অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করেছিলেন।