একটি ছোট সাদা গাড়ির মুখে একটি বড় ‘সাকশন পাইপ’। সেই অদ্ভুতদর্শন যন্ত্র ব্যবহার করে রাস্তা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্লাস্টিকের মোড়ক, কাগজ এবং অন্যান্য আবর্জনা তুলে নিচ্ছেন একজন কর্মী। খবর, সম্প্রতি গুরুগ্রাম পুরসভা (এমসিজি) তাদের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই নতুন যন্ত্রটি চালু করেছে শহর জুড়ে।
স্কুটারের মতো দেখতে এই যন্ত্রটি রাস্তা এবং অন্যান্য জনবহুল স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বর্জ্য তোলার জন্য তৈরি করা হয়েছে এবং সেটিকে ‘স্বয়ংক্রিয়’ বলেও দাবি করা হয়েছে। সমাজমাধ্যমে সেই যন্ত্রের ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। যদিও ভিডিয়োটিতে দেখা গিয়েছে, পুরকর্মী সেই যন্ত্র ব্যবহার করে ময়লা তুলে নিচ্ছেন ঠিকই, তবে তার পরেও রাস্তায় পড়ে রয়েছে অনেক কিছু। আর তার পরেই যন্ত্রটির ‘স্বয়ংক্রিয়তা’ এবং শহরের রাস্তার বিপুল পরিমাণ বর্জ্য সাফাই করতে সেটি সক্ষম কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীরা। তবে, ‘শর্মাটক্স’ নামের এক্স হ্যান্ডলে (সাবেক টুইটার) শেয়ার করা ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
সমাজমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োটি। কেউ কেউ সেটিকে কেবলই একটি বাণিজ্যিক ভ্যাকিউম ক্লিনার বলে উল্লেখ করেছেন। অনেকে আবার দাবি করেছেন, কেউ তাঁর পুরনো অকোজো ক্লিনার পুরসভাকে বেচে দিয়েছেন! যন্ত্র থেকে সরে গিয়ে নেটাগরিকদের সমালোচনা নগর পরিকাঠামোর বৃহত্তর বিষয়কেও তুলে ধরেছে। একজন যুক্তি দিয়েছেন, “শহর পরিষ্কার রাখতে শুধু নতুন সরঞ্জামই যথেষ্ট নয়। উন্নত দেশগুলিকে যন্ত্রই পরিষ্কার রাখছে না, বরং পরিকাঠামোর উন্নতি, পাকা রাস্তা, ফুটপাত পরিকল্পনা— এ সবই আসল। আর এখানে কর্তৃপক্ষ এই খেলনাগুলি কিনে টাকা কামাচ্ছে।” আরও একজন প্রশ্ন তুলেছেন, “যখন একজন কর্মীকে মেশিনটি চালাতে দেখা যাচ্ছে, তখন সেটিকে কী ভাবে স্বয়ংক্রিয় বলা যেতে পারে? কী ভাবে ওই বড় কার্ডবোর্ড আর কাগজগুলি ভ্যাকিউম ক্লিনারের ভিতরে ঢুকে যাচ্ছে? ঠিকাদার এবং সাফাইকর্মীদের টাকা কামানোর জন্য এটা একটা বড় প্রতারণা।”
আরও পড়ুন:
অনেকে আবার বিষয়টিকে পুরসভার ভাল উদ্যোগ বলেছেন। তবে ভিডিয়োটি অনলাইনে বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বেশ কয়েক জন বলেছেন, “ওই ছোট যন্ত্রটি দৈনন্দিন পরিচ্ছন্নতার কাজে একটি বাস্তবসম্মত সংযোজন, না কি এটি কেবলই একটি সরঞ্জাম যার কার্যকারিতা নির্ভর করবে এটিকে কতটা দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে তার উপর।”