ছাত্রবিক্ষোভে পুলিশের ‘দমনপীড়ন’ ঘিরে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছে ফ্রান্স সরকার। এরই মাঝে সেদেশের পড়ুয়া আন্দোলনের একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমে। সেখানে দেখা গিয়েছে, পুলিশ এবং প্রতিবাদীদের মাঝে এসে পড়েছেন সাঁ-দেনির মেয়র বালি বাগায়োকো। উত্তেজনা শুরু হয় যখন পুলিশকর্মীরা বিক্ষোভকারীদের দিকে এগিয়ে যান। হাত তুলে বার বার ‘থামুন, থামুন’ বলে চিৎকার করতে থাকেন।
আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, রবার বুলেট এবং গ্রেনেড ব্যবহার করে। সেই মিছিলে নেমে পড়ুয়াদের পাশে ‘মানবঢাল’ হতে দেখা যায় মেয়রকেও। বামপন্থী ‘লা ফ্রঁস আঁসোমিজ’ দলের সদস্য মেয়র বালি বাগায়োকো সংঘর্ষ চলাকালীন পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসের মাঝে পড়েন । পরবর্তী ফুটেজে দেখা যায়, তিনি চোখে জ্বালা নিয়ে বিক্ষোভস্থল ত্যাগ করছেন। স্যালাইন দিয়ে চিকিৎসাও শুরু হয় তাঁর। ‘প্রাউডসোসালিস্ট’ নামের এক্স হ্যান্ডলে (সাবেক টুইটার) শেয়ার করা হয়েছে ভিডিয়োটি। যার সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। ভিডিয়োটি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছেন ওই মেয়র।
প্যারিসের উপশহর সাঁ-দেনিতে মেয়র বালি বাগায়োকোকে দেখা যায়, পুলিশের কাছ থেকে বিক্ষোভকারীদের রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। তাঁকে লক্ষ্য করেও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। সাঁ-দেনিতে মূলত কৃষ্ণাঙ্গ ও মধ্যপ্রাচ্যের তরুণ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে পুলিশের। মেয়র সেখানে পৌঁছে বলতে থাকেন, ‘‘রাস্তায় থাকা স্কুলের পড়ুয়া আমার সন্তানসম। ওদের পাশে দাঁড়ানো আমার কর্তব্য।” বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ হওয়ার পরে দেখা যায় মেয়রের চোখ লাল।
সেপ্টেম্বরের শেষে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ৪০টি শহরে ছড়িয়েছে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভের জেরে কমপক্ষে দেশের ৯০০টি স্কুল বন্ধ করা হয়েছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ফ্রান্সে পড়ুয়াদের এই প্রতিবাদ শিক্ষার অধিকারের লড়াই নয়, বরং ‘অনিয়ন্ত্রিত গণ-অভিবাসন’ এবং ‘একটি ঐতিহ্যশালী দেশের নিয়ন্ত্রণ বা দখল নেওয়ার জন্য ইসলামের চেষ্টা!
মেয়র বালি বাগায়োকো বলেন, “আমি পড়ুয়াদের পাশে আছি। প্রতিবাদীরা পুলিশের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ করেনি। পুলিশের আক্রমণ নিন্দনীয়।” ছাত্রদের প্রতিবাদে সমর্থন করেই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। প্যারিসের উত্তরে অবস্থিত শ্রমিক-অধ্যুষিত উপশহর সাঁ-দেনিতে এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল।
ছাত্রদের এই বিক্ষোভ প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকারের উপর ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করেছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকোর্নু বলেছেন, “সরকার দাবিগুলি পর্যালোচনা করবে। অক্টোবরের শেষে প্রস্তাব পেশ করবে।” যদিও এর বিস্তারিত এখনও ঘোষণা করা হয়নি।