ভিড়ে ঠাসা লোকাল ট্রেনের কামরা! দেখে মনে হচ্ছে, কামরাটি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। আর তারই দরজা থেকে বিপজ্জনক ভাবে ঝুলছেন এক তরুণী। তাঁর মাথার কয়েক ইঞ্চি দূর থেকে একের পর এক পেরিয়ে যাচ্ছে লোহার থাম। তেমনই একটি ঘটনার ভিডিয়ো সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে হইচই ফেলেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। দাবি, ঘটনাটি মুম্বইয়ের। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, একটি অত্যন্ত ভিড়ভাট্টাপূর্ণ লোকাল ট্রেনের বাইরের অংশে কয়েক জন নারী ঝুলে রয়েছেন। বিপজ্জনক ভাবে ঝুলে ঝুলেই যাত্রা করছেন তাঁরা। এক তরুণী একে বারে বাইরে। পা দুটো কোনওমতে ট্রেনের দরজার কাছে ঠেকিয়ে সফর করছেন তিনি। একের পর এক লোহার সেতু পেরিয়ে যাচ্ছে তাঁর মাথার কয়েক চুল দূর দিয়ে। এক বার ধাক্কা লাগলেই সব শেষ। তবুও কোনও হেলদোল নেই ওই তরুণী যাত্রীর। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে ‘পল্লবিকা’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকে যেমন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, তেমনই আবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। যাত্রীসুরক্ষা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নেটাগরিকদের একাংশ। নেটাগরিকদের কেউ কেউ ওই মহিলাদের সাহসের প্রশংসাও করেছেন। আবার অনেকে মনে করছেন, এমন দৃশ্যকে কোনও ভাবেই সহনশীলতা বা অদম্য মানসিকতার উদাহরণ হিসেবে উদ্যাপন করা উচিত নয়। বরং ওই নেটাগরিকদের মতে, গণপরিবহণ ব্যবস্থার পরিকাঠামোয় উন্নয়ন এবং যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি না নিয়ে যাতায়াত নিশ্চিত করার বিষয়টিতেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এক নেটাগরিক ভিডিয়োটি দেখার পর লিখেছেন, ‘‘আমি এই মহিলা যাত্রীদের, বিশেষ করে ওই তরুণী যাত্রীর মানসিক শক্তিকে কুর্নিশ জানাই। কঠোর পরিশ্রমের ক্ষেত্রে তাঁরা পুরুষদের জন্যও অনুপ্রেরণা হতে পারেন।’’ অন্য এক জন আবার লিখেছেন, ‘‘এটা সাহসিকতা না বোকামি, তা বলা কঠিন। কারণ এমন ক্ষেত্রে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে জীবনসংশয় হতে বাধ্য। যদি ঘটনাটি মুম্বইয়ের হয়, তা হলে মুম্বইবাসীদের প্রয়োজন মেটাতে সেখানকার রেলব্যবস্থায় অনেক উন্নতির প্রয়োজন।’’ উল্লেখ্য, সব মিলিয়ে ঘটনাটি অফিস সময়ে শহরতলির রেলযাত্রীদের চরম ভোগান্তির বিষয়টি আবারও প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।