অ্যামাজ়ন থেকে ছাঁটাই। চাকরি যাওয়ার পর অন্য চাকরি না খুঁজে মুরগির ফার্ম চালু করে ডিম-মাংস বিক্রি করছেন হায়দরাবাদের এক তরুণী। পাশাপাশি তিনি প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট বা পণ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নিজের আগ্রহও বজায় রেখেছেন।
লিঙ্কডইনে দেওয়া এক পোস্টে মারিয়া হর্ষিতা তাঁর এই যাত্রার কথা বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, চাকরি হারানোর পর শুরুতে তাঁর ধারণা ছিল যে তিনি শীঘ্রই অন্য একটি চাকরি পেয়ে যাবেন। তিনি বিভিন্ন কোম্পানিতে আবেদন করতে শুরু করেন এবং সুপারিশের জন্য পরিচিত সহকর্মী এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু বার বার প্রত্যাখ্যাত হন। মারিয়ার কর্মজীবন মূলত একটি নির্দিষ্ট পণ্যকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছিল, যা তাঁর মধ্যে প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্টের প্রতি আগ্রহ জাগিয়ে তুলেছিল। ওই ক্ষেত্রেই নিজের দক্ষতা বাড়াতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু চাকরি খোঁজার প্রচেষ্টা সফল না হওয়ায় তাঁর স্বামী তাঁকে নিজের ব্যবসার কথা বিবেচনা করার পরামর্শ দেন।
আরও পড়ুন:
এর পরই দম্পতি পোল্ট্রি বা মুরগি পালন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। মারিয়া বলেন, ‘‘হঠাৎ একদিন আমরা মুরগির জন্য একটি ঘর বা খাঁচা তৈরি করে ফেললাম।’’ ছ’টি মুরগির বাচ্চা কিনে সেগুলির যত্ন নিতে শুরু করেন তাঁরা। পাশাপাশি মারিয়া চাকরির জন্যও আবেদন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পরে দেখা যায় যে ওই ছ’টি বাচ্চাই ছিল মোরগ। এর পর মারিয়া তাঁর স্বামীকে মুরগি কিনে আনার জন্য তাগিদ দেন। কারণ তিনি চেয়েছিলেন তাঁর সন্তানেরা দোকান থেকে কেনা ডিমের পরিবর্তে বাড়িতে উৎপাদিত স্বাস্থ্যকর ডিম খাক। পরিবারটি মুরগির ঘরটি বড় করে আরও মুরগি নিয়ে আসেন ওই দম্পতি এবং একসময় ডিম সংগ্রহ শুরু করে।
আরও পড়ুন:
সন্তানদের ডিম খাওয়ানোর উদ্দেশ্যে শুরু হওয়া উদ্যোগটি ধীরে ধীরে একটি ব্যবসার রূপ নেয়। মারিয়া উদ্বৃত্ত ডিম বিক্রি করতে শুরু করেন এবং শেষ পর্যন্ত নিজের একটি মুরগির খামার বা ফার্ম গড়ে তোলেন। নতুন উদ্যোগ এবং পণ্য ব্যবস্থাপনার প্রতি তাঁর আগ্রহের মধ্যে একটি মিলও খুঁজে পেয়েছেন তিনি। মারিয়া জানিয়েছেন, ডিমগুলিই এখন তাঁর পণ্য এবং পর্যাপ্ত সরবরাহের মাধ্যমে চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি তিনি সেগুলি বিক্রি করছেন।
সেই অভিজ্ঞতার কথাই পেশাদারদের সমাজমাধ্যম লিঙ্কডইনে শেয়ার করেছেন মারিয়া। তাঁর পোস্ট ইতিমধ্যেই অন্য অনেক পেশাদারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে চাকরি খোঁজার প্রক্রিয়া মানুষকে কী ভাবে তাদের প্রচলিত পেশাগত গণ্ডির বাইরে নতুন কোনও পথের সন্ধান করতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে, মারিয়ার এই যাত্রাপথ তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তেমনটাই মনে করছেন নেটাগরিকদের একাংশ।