রাজ্যে ফের পুলিশি ‘এনকাউন্টারে’ মৃত্যু হল ধর্ষণ-খুনে অভিযুক্তের। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের পর এ বারের ঘটনাস্থল উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা। এ ক্ষেত্রেও রাতে অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে গিয়েছিল পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, সে সময়ে অভিযুক্ত যুবক পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে গুলি চালান। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশও। তাতে গুলিবিদ্ধ হন অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাস। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
গত রবিবার গাইঘাটায় প্রতিবেশীর
বাড়ির পিছন দিক থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এক কিশোরীর ক্ষতবিক্ষত দেহ।
পরিবারের দাবি, তাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। ঘটনায় রবিবারই ওই পরিবারের আত্মীয়
প্রহ্লাদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ‘এনকাউন্টারে’ অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের
তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে সূত্রের খবর, সোমবার বেশি রাতের দিকে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় অভিযুক্তকে। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশ সীমান্ত। ওই
সূত্রের দাবি, পুনর্নির্মাণ শেষে পুলিশের রিভলভার ছিনিয়ে তিন রাউন্ড গুলি চালান
প্রহ্লাদ। ঘটনায় এক পুলিশকর্মী জখম হন। সে সময়ে আত্মরক্ষায় তারা পাল্টা চার রাউন্ড গুলি চালায় বলে পুলিশের দাবি। গুলিতে জখম
হন অভিযুক্তও। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া
হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
অভিযুক্তের মৃত্যুর খবর পেয়ে ইতিমধ্যে হাসপাতালে পৌঁছেছে নিহতের পরিবার। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বেশ উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাসপাতাল চত্বরে মোতায়েন করা হয়েছে প্রচুর পুলিশকর্মী।
সোমবার রাতে ‘এনকাউন্টারের’ সময়ে আহত পুলিশকর্মী। — নিজস্ব চিত্র।
আরও পড়ুন:
এর আগে গত জুলাইয়ে বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলেরও মৃত্যু হয়েছিল পুলিশের গুলিতে। সে সময়েও গভীর রাতে অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য গিয়েছিল পুলিশ। সেখানেও পুলিশের তরফে দাবি করা হয়, অভিযুক্ত পুলিশের হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল অভিযুক্তের।
বারুইপুরের সেই ‘এনকাউন্টার’ নিয়ে বিস্তর প্রশ্নও ওঠে। কেন গভীর রাতে অভিযুক্তকে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল? সেখানে ঠিক কী কী ঘটেছিল? তা নিয়ে পুলিশের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেছিল কলকাতা হাই কোর্ট। ঘটনায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই মামলা এখনও বিচারাধীন হাই কোর্টে। এরই মধ্যে বারুইপুরে এনকাউন্টার-কাণ্ডের সাড়ে তিন মাস পরে রাজ্যে ফের পুলিশি ‘এনকাউন্টারে’ মৃত্যু হল ধর্ষণ-খুনের মামলার অভিযুক্তের।
গত শনিবার গাইঘাটা থানা এলাকার বাসিন্দা ১৭ বছর বয়সি এক কিশোরী বাড়ির কাছেই আয়োজিত একটি জলসা অনুষ্ঠান দেখতে গিয়েছিল। তার বন্ধুবান্ধব, পরিবারের সদস্যেরাও ছিলেন সেখানে। জলসা অনেক রাত পর্যন্ত চলে। তার পরিবারের দাবি, রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ কিশোরীর কাছে একটি ফোন এসেছিল। ফোন পেয়ে সে অনুষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে যায়। তার পর আর ফেরেনি। রাতে তাকে খুঁজে না পেয়ে চিন্তায় ছিল পরিবার। প্রায় সারা রাত খোঁজাখুঁজি চলে। শেষে রবিবার সকালে উদ্ধার হয়েছিল কিশোরীর বিবস্ত্র ক্ষতবিক্ষত দেহ।