Advertisement
E-Paper

সিসি ক্যামেরায় নাবালিকার সঙ্গে ছবি ধরা পড়ে! যে পুকুরে ফেলা হয়েছিল, তা দেখিয়ে দিয়েছিলেন এনকাউন্টারে নিহত এই প্রভাসই

মঙ্গলবার রাতে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় প্রভাসের। ঘটনার পুনর্নির্মাণে তাঁকে মঙ্গলবার রাতে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। সূত্রের খবর, সেই সময় পুলিশের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬ ১১:৩৩
বারুইপুর কাণ্ডে পুলিশের গুলিতে হত প্রভাস মণ্ডল। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বারুইপুর কাণ্ডে পুলিশের গুলিতে হত প্রভাস মণ্ডল। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বারুইপুর ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছিল। সেখানে দেখা গিয়েছে, এক ব্যক্তি একটি পুকুরে নেমে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছেন মৃতদেহটি কোথায় রয়েছে। তাঁর দেখানো জায়গা থেকে বস্তাবন্দি নাবালিকার দেহ উদ্ধার হতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এলাকাবাসী। মারধর শুরু হয় ওই ব্যক্তিকে। ঘটনাচক্রে দেখা গিয়েছে, ওই ব্যক্তিই এই ধর্ষণ এবং খুন কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত। নাম প্রভাস মণ্ডল।

মঙ্গলবার রাতেই পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় প্রভাসের। ঘটনার পুনর্নির্মাণে তাঁকে মঙ্গলবার রাতে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। সূত্রের খবর, সেই সময় পুলিশের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। পুলিশের পাল্টা গুলিতে গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বারুইপুর কাণ্ডে প্রথম গ্রেফতার হয়েছিলেন প্রভাসই।

গত শনিবার বন্ধুর জন্মদিনে যাবে বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল নাবালিকা। তার পর থেকে তার আর খোঁজ মেলেনি। তার খোঁজ করার সময় এলাকার কয়েকটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ। সেই সময় ওই নাবালিকাকে এক যুবকের সঙ্গে দেখতে পাওয়া যায়। নীল টি-শার্ট এবং লাল টুপি পরা ওই যুবকের খোঁজ শুরু হয়। সেই সূত্র ধরে পুলিশ ওই যুবককে শনাক্ত করে। তার পরই গ্রেফতার হন প্রভাস। তাঁকে জেরা করে আরও তিন অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার, দিবাকর সর্দারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মঙ্গলবার গ্রেফতার করা হয় কবীর মোল্লা নামে আরও এক যুবককে।

প্রভাসের বাড়ি সূর্যপুর এলাকাতেই। স্থানীয় সূত্রে খবর, পরিবারে মা, বাবা, স্ত্রী এবং এক পুত্রসন্তান রয়েছে। প্রভাসের বাবা অসুস্থ। মা গৃহবধূ। স্ত্রী পরিচারিকার কাজ করেন। তবে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় প্রভাসের নাম জড়ানোর পর শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে ছেলেকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যান প্রভাসের স্ত্রী। বাড়িতে প্রভাসের মা এবং বাবা রয়েছেন। সূত্রের খবর, কোনও স্থায়ী কাজ করতেন না প্রভাস। যখন যা পেতেন তা-ই করতেন। কখনও ভ্যান চালাতেন। তবে নেশাও করতেন তিনি। প্রভাসের মা সন্ধ্যা মণ্ডল বলেন, ‘‘আমাদের কথা শুনত না। নেশা করত।’’ জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় বাকি অভিযুক্তেরাও প্রভাসের নেশার সঙ্গী ছিলেন। সূত্রের খবর, গ্রেফতার হওয়ার পর প্রাথমিক ভাবে পুলিশকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে তাঁর সূত্র ধরে বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারের পর প্রত্যেককে আলাদা আলাদা ভাবে জেরা করে পুলিশ। তখনই ঘটনার পুরো ছবি স্পষ্ট হয়।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবার রাজভবনে যান। বারুইপুরের সামগ্রিক ঘটনার রিপোর্ট পেশ করেন। সূত্রের খবর, রাজ্যপালের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে তাঁর।

সংক্ষেপে
  • প্রাথমিক ভাবে এই ঘটনায় তিনটি মামলা রুজু করেছিল পুলিশ। খুনের পাশাপাশি গণপিটুনিতে সন্দেহভাজনের মৃত্যু এবং পুলিশকে মারধরের পৃথক মামলা হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোমবার জানিয়েছেন, মামলার সংখ্যা আরও বেড়েছে। রেললাইন অবরোধের ঘটনাতেও পৃথক মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
  • গত শনিবার, ৪ জুলাই থেকে নিখোঁজ ছিল বারুইপুরের ১২ বছরের কিশোরী। রবিবার পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ, তাকে খুন করা হয়েছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক সন্দেহভাজনকে গণধোলাই দেয় উত্তেজিত জনতা। তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
  • এর পরও নাবালিকার দেহ ঘিরে রাস্তা আটকে দিনভর বিক্ষোভ চলেছে। ট্রেন পরিষেবাও থমকে গিয়েছিল তার জেরে। পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সর্বশেষ
Crime

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy