ফুটবল ম্যাচে একা পাঁচটি গোল করেছিলেন। আয়োজকদের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫০০ টাকা পুরস্কার পেতেন। কিন্তু সেই পুরস্কার নিতে গিয়ে জুটল তিরস্কার। শুধু তা-ই নয়, বেধড়ক মারধরও খেলেন ফুটবলার। প্রহৃত খেলোয়াড় কলকাতার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, পূর্ব বর্ধমানের গৈতানপুর পশ্চিমপাড়ার অগ্রগামী ক্লাবের উদ্যোগে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছিল। শিবসায়র মাঠে খেলা হয়েছিল। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিল ১৬টি দল। বিভিন্ন পুরস্কারের ঘোষণা করেছিলেন আয়োজকেরা। তার মধ্যে ছিল একটি গোল প্রতি ১০০ টাকা করে পুরস্কারও।
স্থানীয় সূত্রে খবর, একটি ম্যাচে পাঁচটি গোল করেছিলেন কৌশিক মুখোপাধ্যায় নামে এক ফুটবলার। গত শনিবার তিনি পুরস্কার বাবদ ৫০০ টাকা নিতে যান। কিন্তু আয়োজকেরা তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ। প্রতিবাদ করায় বাঁশ ও লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয় কৌশিককে। গুরুতর জখম হন তিনি।
আরও পড়ুন:
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা কৌশিককে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করিয়েছিলেন। ফুটবলারের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে তাঁকে পরে কলকাতার এনআরএস মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। প্রহৃত ফুটবলারের মা চৈতালি মুখোপাধ্যায় খণ্ডঘোষ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার ভিত্তিতে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম সুমন দাস এবং মধুসূদন রায় ওরফে সুশান্ত। দু’জনেরই বাড়ি খণ্ডঘোষ থানার গৈতানপুরে।
সোমবার ধৃতদের বর্ধমানের সিজেএম আদালতে হাজির করানো হয়েছিল। বিচারক তাঁদের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিচার বিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। পুরস্কারের সামান্য অর্থ চাওয়াকে কেন্দ্র করে ফুটবলারের উপর হামলার অভিযোগে বিস্মিত এলাকাবাসী। নেপথ্যে আর কোনও কারণ ছিল কি না, খতিয়ে দেখছে পুলিশ।