নভেম্বর মাসে ভোট হবে ধরে নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। এখন কমিশন সূত্রে খবর, ভোট নিয়ে রাজ্যের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। কিন্তু তারা কোনও দিনক্ষণ জানায়নি। নভেম্বর মাসে ভোট হলে এত দিনে সেই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে যেত। তাই এখন ডিসেম্বর ধরে নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
কমিশন সূত্রে আগে জানা গিয়েছিল, কলকাতা এবং হাও়ড়া পুরসভার ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে পারে অক্টোবরের শেষে। নভেম্বরে ভোট এবং ডিসেম্বর মাসের শুরুতেই গণনা হবে। এই হিসেবেই প্রস্তুতি নিচ্ছিল তারা। পরে রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও পুলিশের ডিজির সঙ্গে বৈঠক করে কমিশন। কিন্তু অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে এসেও দিনক্ষণ স্থির করা যায়নি। বুধবার কমিশনের এক আধিকারিক জানান, আইন অনুযায়ী ওই সব ভোটের ক্ষেত্রে নির্ঘণ্ট সংক্রান্ত প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকারই। এখানে কমিশনের করণীয় কিছু নেই। তবে দিনক্ষণ স্থির করার আগে কমিশনের সম্মতি নিতে হয়। ওই আধিকারিকের কথায়, ‘‘আমাদের কাছে ভোট নিয়ে এমন কোনও প্রস্তাব এলে সম্মতি জানাব। প্রস্তুতি সেরে রাখা হয়েছে।’’ কিন্তু কী কারণে ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করা যাচ্ছে না বা রাজ্যের কী বক্তব্য সেই বিষয়ে নিরুত্তর কমিশন। তাদের যুক্তি, এ নিয়ে তাদের পক্ষে কিছু বলা সম্ভব নয়।
অন্য দিকে, ওই দুই পুরসভার ভোট পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে বুধবার কমিশনে স্মারকলিপি দিয়েছেন বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা। তাঁদের সঙ্গে নাগরিক সমাজের কয়েক জন ছিলেন। কংগ্রেস নেতা প্রসেনজিৎ বসু বলেন, ‘‘এসআইআরে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। বাদ পড়া ভোটারদের নাম ‘স্পেশ্যাল ড্রাইভ’ চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। আমাদের হিসেবে কলকাতা এবং হাওড়ায় ৬০-৭০ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তাঁদের নাম তালিকায় ঢোকানোর ব্যবস্থা হোক। জানুয়ারি মাসের আগে নির্বাচন করাবেন না আমরা এটা জানিয়েছি।’’
আরও পড়ুন:
একই সুর বামেদের গলাতেও। সিপিএমের কল্লোল মজুমদারের কথায়, ‘‘আমরা কোনও নির্দিষ্ট দলের সুবিধার জন্য আসিনি। ট্রাইবুনালের ১২ বছরে বাদ পড়াদের নিয়ে ফয়সালা করতে পারবেন না। বছরের পর বছর তাঁরা কি ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকবেন? যদি ফয়সালা করতে না পারেন, তবে বাদ পড়া সবাইকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক।’’
এর আগে ১ জুলাই ভোটার তালিকা বার করেছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। ওই তালিকা ধরেই দুই পুরসভার ভোট হওয়ার কথা ছিল। পরে আরও একটি তালিকা বার হয়েছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশন জানায়, আগামী ১২ নভেম্বর নতুন তালিকা আমাদের হাতে পৌঁছোবে। ডিসেম্বর মাসে ভোট হলে সেই তালিকা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।