কলকাতায় উচ্ছেদ, সিল করা বা কোনও নির্মাণ ভাঙার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা জনিত অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে তৎপর লালবাজার। এমন সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ এবং পুরসভার সঙ্গে পারস্পরিক সমন্বয়ের জন্য কী করতে হবে, তা জানিয়ে নির্দেশিকা দিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ।
বুধবার জারি করা ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনও এলাকায় উচ্ছেদ, সিল বা অবৈধ নির্মাণ ভাঙার ক্ষেত্রে আগাম পরিকল্পনা করে, পুরসভার সঙ্গে সমন্বয় রেখে পুলিশকর্মী মোতায়েন করলে মসৃণ ভাবে কাজ হবে। পাশাপাশি, কর্মীদের সুরক্ষাও নিশ্চিত করা যাবে। এর জন্য প্রাথমিক ভাবে ছ’টি বিষয় নির্দিষ্ট করে দেওয়ার পাশিপাশি এই সংক্রান্ত একটি পৃথক তালিকায় (চেকলিস্ট) ‘করণীয়’ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ছ’দফার সেই তালিকায় কী রয়েছে?
১.আগাম খবর: কত পুলিশকর্মী প্রয়োজন তা নিশ্চিত করা এবং কখন, কী ধরনের কাজ হবে তা আগে থেকেই থানায় জানানো।
২. দ্রুত কাজ শেষ করা: স্থানীয় বাসিন্দাদের জমায়েত এবং অপ্রতিকর অবস্থা এড়াতে দ্রত কাজ শেষ করার নিদান। পুলিশ এবং পুরসভার আধিকারিকেরা নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছোনোর পর দেরি না করে কাজ শুরু করে দেওয়া।
৩. পুরসভার সঙ্গে সমন্বয়: জবরদখল উচ্ছেদ, সিল করা বা বেআইনি নির্মাণ ভাঙার ক্ষেত্রে যুক্ত আধিকারিকেরা নিজের নিজের দায়িত্ব এবং কী ভাবে এই কাজ সম্পন্ন হবে, সেই বিষয়ে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় রেখে এগোবেন।
৪. জনবল: আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের। তাই পর্যাপ্ত পুলিশকর্মী মোতায়েনের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি প্রয়োজন। পুলিশের কাছে আগাম খবর না-থাকলে প্রয়োজনীয় বাহিনী মোতায়েনে অসুবিধা হতে পারে।
৫. অভিযানের আগে সমন্বয়: স্পর্শকাতর বিষয় বা বিতর্ক তৈরি হতে পারে এমন ক্ষেত্রে পুলিশ এবং পুরসভার মধ্যে আগে থেকে বৈঠক করা। যাতে পরিস্থিতি সম্পর্কে আগে থেকে মূল্যায়ন করা যায় এবং পরিস্থিতি মোকাবিলার সঠিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়।
৬. সিল করার পদ্ধতি: প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত এবং সংশ্লিষ্ট আনুষ্ঠানিক কাজকর্ম আগে থেকেই শেষ করে রাখা। বিশেষত দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক সিল করার যাবতীয় পদ্ধতি আগে থেকেই নির্ধারণ করে রাখলে, পুলিশকর্মীদের সময়োচিত পদক্ষেপ করতে সুবিধা হবে।
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, আইনগত বিষয় ছাড়াও উচ্ছেদের সময় এবং উচ্ছেদের আগে ও পরে কী কী বিষয় মাথায় রাখতে হবে তা চেকলিস্টে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। তাতে কোনও উচ্ছেদ বা নির্মাণ ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট বাসিন্দা বা দখলদারদের আইন মেনে নির্দিষ্ট সময়ের অগ্রিম নোটিস দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা উল্লিখিত হয়েছে। সেই সঙ্গে বলা হয়েছে, উচ্ছেদ বা ভাঙার জায়গাটি সঠিক ভাবে চিহ্নিত করতে অভিযানের আগে পুরসভা ও স্থানীয় থানার পুলিশ যৌথ ভাবে এলাকা পরিদর্শন করবে এবং সম্ভাব্য উত্তেজনার জায়গাগুলি আগেভাগেই চিহ্নিত করবে। উচ্ছেদের দিন আইনশৃঙ্খলা জনিত অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কলকাতা পুলিশের ডিসি পদমর্যাদার এক আধিকারিক এবং সংশ্লিষ্ট থানার ওসিদের নেতৃত্বে পর্যাপ্ত পুলিশকর্মী এবং প্রয়োজনে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ মোতায়েন রাখতে বলেছেন পুলিশ কমিশনার। প্রয়োজনীয় মহিলা পুলিশকর্মী মোতায়েনেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।