সরকারের প্রধান (গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীপদে) হিসেবে একটানা ২৫ বছর। নরেন্দ্র মোদীর এই প্রশাসনিক যাত্রাপথের দেশব্যাপী উদ্যাপন অনুষ্ঠান (বিজেপি যার নাম দিয়েছে, ‘সেবা সংকল্প অভিযান’) শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার থেকে। সেই উপলক্ষে বুধবার কলকাতায় এসে সাংবাদিক বৈঠক করে মোদী এবং তাঁর সরকারের নানা সাফল্যের কথা তুলে ধরলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। সেই সঙ্গে দরাজ প্রশংসা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের চার মাসের কার্যকলাপেরও।
প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদে মোদীর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর দেশ জুড়ে বিজেপির উদ্যোগে পালিত হবে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’। পশ্চিমবঙ্গেও বুথ থেকে জেলা স্তর পর্যন্ত পালন করা হবে মাসব্যাপী এই কর্মসূচি। তারই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করতে গিয়ে রাজনাথ বলেন, ‘‘এটি কোনও ব্যক্তিবিশেষের (মোদী) কাহিনি নয়। নতুন ভারতের কাহিনি। মোদীর আমলে ভারতের রূপান্তরের কাহিনি।’’ রাজনাথের দাবি, গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীপদে টানা আড়াই দশক ধরে কাজ করার পরেও মোদীর প্রতি এখনও মানুষের আস্থা অটুট। ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এমন ঘটনা নজিরবিহীন। তাঁর মতে, ১৩ বছর গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী এবং ১২ বছর প্রধানমন্ত্রী পদে মোদীর যাত্রাপথকে যদি একটি মাত্র শব্দে সংক্ষেপ করা হয়, সেই শব্দটি হবে ‘সেবা’।
মোদীকে নতুন ভারতের রূপকার হিসেবে তুলে ধরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, বড় পরিবর্তনের জন্য বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গি, সঠিক নীতি, শক্তিশালী বাস্তবায়ন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং নিজের সিদ্ধান্তে অটুট থাকার সাহস প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী মোদী ধারাবাহিক ভাবে এই গুণগুলির পরিচয় দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। রাজনাথ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদী সেই একই দৃঢ়তা, নির্ভীকতা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিয়েছেন, যা তিনি গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীনও দিয়েছিলেন।” এর পরেই প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের জমানাকে নিশানা করে তাঁর মন্তব্য, ‘‘২০১৪ সালের আগে ভারতকে প্রায়শই এমন একটি অর্থনীতি হিসেবে বর্ণনা করা হত, যা ছিল অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রিত এবং অদক্ষ ভাবে পরিচালিত। বর্তমানে ভারত সুশৃঙ্খল ভাবে নিয়ন্ত্রিত এবং সঠিক ভাবে পরিচালিত।’’ ভারতীয় অর্থনীতি বর্তমানে ৭.৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘‘এই সাফল্যের ভিত্তি হল মোদীনমিক্স।’’ রাজনাথের মতে, মোদীনমিক্স অনুযায়ী ‘ইন্ডিয়া’ হল— ‘ইনক্লুসিভ’ (অন্তর্ভুক্তিমূলক), ‘নিউ এজ’ (নতুন যুগের), ডিজিটাল, ‘ইনোভেটিভ’ (উদ্ভাবনী) এবং আত্মনির্ভর।
মোদীর ১২ বছরের প্রধানমন্ত্রিত্বে ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্রসীমার উপরে উঠেছেন এবং ৯৪ কোটিরও বেশি মানুষ সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের আওতায় এসেছেন বলেও দাবি রাজনাথের। তাঁর কথায়, ‘‘২০১৪ সালের আগে ভারতের জনশক্তি এবং মেধাশক্তি—দু’টিই ছিল, কিন্তু সঠিক নেতৃত্বের অভাবে সেই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছিল না। ২০১৪ সালের পর প্রধানমন্ত্রী মোদী এই দুই শক্তিকে তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা অনুযায়ী কাজ করার জন্য একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করেছেন।’’ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ক্ষমতাদখলও মোদীর সুযোগ্য নেতৃত্বের কারণেই সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‘আগে বলা হত, পশ্চিমবঙ্গে কোনওদিন বিজেপি ক্ষমতায় আসবে না। কিন্তু মোদীজির নেতৃত্বের কারণেই তা সম্ভব হয়েছে।’’ ক্ষমতায় আসার পর মাত্র চার মাসে শুভেন্দুর সরকার যে সব কাজ করেছেন, তার প্রশংসা করে তিনি জানান, দেশের অন্যান্য রাজ্যেও শুভেন্দুর কাজ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।